১/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮ - সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর
যে ব্যক্তি অপবিত্র অবস্থায় আল্লাহর জিকির করে
সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর: নবীজির নিয়মিত স্মরণ
সুনানে আবূ দাউদ : ১৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي زَائِدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ خَالِدِ بْنِ سَلَمَةَ، - يَعْنِي الْفَأْفَاءَ - عَنِ الْبَهِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ عَلَى كُلِّ أَحْيَانِهِ .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন।
হাদীস থেকে শিক্ষাঃ হাদীসটি প্রমাণ করে নবী (ﷺ) পবিত্র, উযুবিহীন, জুনুবী, বসে দাড়িয়ে, হেলান দিয়ে, হাটা ও আরোহী সকল অবস্থায়ই আল্লাহর যিকর করতেন। এখানে যিকর কথাটি ব্যাপক অর্থবোধক (‘আম-, যা তাসবীহ, তাহলীল, তাকবির, তাহমীদ, ইস্তিগফার, দরূদ সকল প্রকার যিকর শামিল করে। মুসলিমগণের ঐক্যমতে এরূপ করা শারী‘আত সম্মত। তবে পেশাব-পায়খানায় এবং সহবাসের অবস্থায় বাদে। কেননা এ দু‘অবস্থায় যিকর করা অপছন্দনীয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন। এটি খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু গভীর অর্থবহ বর্ণনা। এখানে মূল শিক্ষা হলো আল্লাহর স্মরণ জীবনের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমিত নয়। মানুষ বসা, চলা, কাজ করা—বিভিন্ন অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করতে পারে। তবে আগের কিছু হাদিসে পেশাবরত অবস্থায় সালামের জবাব বিলম্বিত করার কথা এসেছে, তাই সব বর্ণনা মিলিয়ে বুঝতে হয় যে যিকর ব্যাপক হলেও সম্মান ও পবিত্রতার আদবও আছে। এই হাদিস “সর্বাবস্থায় যিকর”, “নবীজির যিকর” এবং “আল্লাহকে স্মরণ” বিষয়ে খুব বেশি প্রাসঙ্গিক। ব্যাখ্যায় এটুকুই বলা নিরাপদ—নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জীবনে আল্লাহর স্মরণ নিয়মিত ও ব্যাপক ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জীবনের নানা অবস্থায় আল্লাহর যিকর করতেন।
- আল্লাহর স্মরণ শুধু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
- যিকরের সঙ্গে আদব ও সম্মানের বিষয়ও বুঝতে হয়।
- মুমিনের জীবনে আল্লাহস্মরণ নিয়মিত অভ্যাস হওয়া উচিত।
