১/৭৫. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯৩ - রান্না গোশত খেয়ে সালাত

আগুনে পাকানো জিনিস খেলে ওজু না করা

রান্না গোশত খেয়ে সালাতে প্রবেশের হাদিস

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ১৯৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عَمْرِو بْنِ السَّرْحِ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي كَرِيمَةَ، - قَالَ ابْنُ السَّرْحِ ابْنُ أَبِي كَرِيمَةَ مِنْ خِيَارِ الْمُسْلِمِينَ - قَالَ حَدَّثَنِي عُبَيْدُ بْنُ ثُمَامَةَ الْمُرَادِيُّ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مِصْرَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْحَارِثِ بْنِ جَزْءٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ فَسَمِعْتُهُ يُحَدِّثُ فِي مَسْجِدِ مِصْرَ قَالَلَقَدْ رَأَيْتُنِي سَابِعَ سَبْعَةٍ أَوْ سَادِسَ سِتَّةٍ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فِي دَارِ رَجُلٍ فَمَرَّ بِلاَلٌ فَنَادَاهُ بِالصَّلاَةِ فَخَرَجْنَا فَمَرَرْنَا بِرَجُلٍ وَبُرْمَتُهُ عَلَى النَّارِ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَطَابَتْ بُرْمَتُكَ» . قَالَ نَعَمْ بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي . فَتَنَاوَلَ مِنْهَا بَضْعَةً فَلَمْ يَزَلْ يَعْلِكُهَا حَتَّى أَحْرَمَ بِالصَّلاَةِ وَأَنَا أَنْظُرُ إِلَيْهِ .

আবদুল্লাহ ইবনে হারিস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

‘আবদুল্লাহ ইবনু হারিস ইবনু জাযই (রাঃ) নামক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর জনৈক সাহাবী মিসরে আমাদের কাছে আগমন করলেন। আমি তাকে মিসরের একটি মসজিদে হাদীস বর্ণনা করতে শুনলাম। তিনি বলেন, এক ব্যক্তির ঘরে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাথে আমি সহ সাতজন অথবা ছয়জন উপস্থিত ছিলাম। এমন সময় বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সালাতের জন্য ডাকলেন। তখন আমরা সবাই বেরিয়ে গেলাম।পথিমধ্যে আমরা এমন এক ব্যক্তির পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম যার পাতিল ছিল আগুনের উপর। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেন, তোমার পাতিলের (গোশত) রান্না হয়েছে কি? সে বললঃ হ্যাঁ, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক। এরপর তিনি সেখান থেকে এক টুকরা (গোশত) তুলে নিয়ে চিবাতে লাগলেন। এমনকি সালাতের তাকবিরে তাহরীমা বাঁধা পর্যন্ত তিনি তা চিবাচ্ছিলেন। আর আমি তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম।

[১] যুবাইদী ‘আল ইত্তিহাফ’ (২/৩০৮)। এর সানাদে উবাইদ ইবনু সুমামাহ রয়েছে। হাফিয বলেন, মাকবূল। আর ইমাম যাহাবী বলেন, তাকে চেনা যায়নি। কিন্তু হাদীসটির শাহিদ বর্ণনা আছে ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ খাওয়া-দাওয়া, অনুঃ মসজিদে খাওয়া, হাঃ ৩৩০০), ইবনু হিব্বান (১/৩৫৮, হাঃ ২২৩)। যাওয়ায়িদ গ্রন্থে রয়েছে এর সানাদ, রিজাল নির্ভরযোগ্য, আর ইয়াকূব সমালোচিত। ইবনু ওহাব সূত্রে ‘আবদুল্লাহ ইবনুল হারিস ইবনু জাওয়িয যুবাইদী বলেন, “রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যুগে আমরা মসজিদে রুটি ও গোশত খেয়েছি”। আলবানী একে সহীহ বলেছেন। এ অনুচ্ছেদের হাদীস থেকে শিক্ষাঃ১। গোশত খেলে ওজু ভঙ্গ হয় না। কেননা তিনি গোশত খেয়ে ওজু না করেই সালাতে দাঁড়িয়েছেন।২। ইমামকে সালাতের সময় উপস্থিত হওয়ার সংবাদ জানানো শরীয়ত সম্মত।৩। খাওয়ার পর কুলি না করে সালাত আদায় জায়িয। খাওয়ার পর হাত ধোয়া ওয়াজিব নয়।৪। এক ব্যক্তির জন্য অপর ব্যক্তির খাদ্য হতে খাওয়া জায়িয আছে, যখন তিনি জানবেন যে, তাঁর সেই ভাই সন্তুষ্ট, নারাজ নন।৫। গোঁফ বড় করা অপছন্দনীয়। কিছুটা বড় হলেই তা ছেঁটে ফেলা উচিত।৬। একজন আরেকজনের গোফ, চুল ছেঁটে দেয়া জায়িয।৭। খাবার উপস্থিত হলে তা না খেয়ে সালাত আদায় করা পছন্দীয়। অন্য হাদীসে এর প্রমাণ রয়েছে। [১৯২]

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ১৯৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে একজন সাহাবি মিসরের মসজিদে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে একটি ঘরে ছিলেন। তাঁদের সংখ্যা ছয় বা সাতজন ছিল। বিলাল (রাঃ) এসে সালাতের ডাক দিলে সবাই বেরিয়ে যান। পথে তাঁরা এমন একজন ব্যক্তির পাশ দিয়ে যান যার পাতিল আগুনের উপর ছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে জিজ্ঞেস করেন, পাতিলের রান্না হয়েছে কি না। সে হ্যাঁ বললে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সেখান থেকে এক টুকরা গোশত নেন এবং চিবাতে থাকেন। বর্ণনাকারী বলেন, সালাতের তাকবীরে তাহরিমা পর্যন্ত তিনি তা চিবাচ্ছিলেন এবং তিনি তা দেখছিলেন। এই হাদিসে রান্না করা গোশত, সালাতের ডাক এবং সালাতে প্রবেশের দৃশ্য স্পষ্টভাবে এসেছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতের ডাক পেলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সাহাবিদের নিয়ে বেরিয়ে যান।
  • আগুনে থাকা পাতিল থেকে রান্না গোশত নেওয়ার ঘটনা বর্ণিত হয়েছে।
  • বর্ণনাকারী নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাজ মনোযোগ দিয়ে দেখেছেন।
  • খাবার ও সালাতের সম্পর্ক নিয়ে এই হাদিস সরাসরি একটি ঘটনা তুলে ধরে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন