১৪/৩৭. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩৯২ - রোজা ভঙ্গের কাফফারার ধাপ

কেউ রমজানের সওম পালন অবস্থায় স্ত্রীসহবাস করলে তার কাফফারা

রোজা ভঙ্গের কাফফারার তিন ধাপ

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৩৯২

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَجُلاً، أَفْطَرَ فِي رَمَضَانَ فَأَمَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُعْتِقَ رَقَبَةً أَوْ يَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ أَوْ يُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا . قَالَ لاَ أَجِدُ . فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «اجْلِسْ» . فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِعَرَقٍ فِيهِ تَمْرٌ فَقَالَ " خُذْ هَذَا فَتَصَدَّقْ بِهِ " . فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا أَحَدٌ أَحْوَجَ مِنِّي . فَضَحِكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ وَقَالَ لَهُ «كُلْهُ» .قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنِ الزُّهْرِيِّ عَلَى لَفْظِ مَالِكٍ أَنَّ رَجُلاً أَفْطَرَ وَقَالَ فِيهِ " أَوْ تُعْتِقَ رَقَبَةً أَوْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ أَوْ تُطْعِمَ سِتِّينَ مِسْكِينًا " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি রমজানের সাওম ভঙ্গ করলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে একটি গোলাম আযাদ করার অথবা একটানা দুই মাস সাওম পালন অথবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করানোর নির্দেশ দেন। ফলে লোকটি বলে, আমি এর কোনটিই করতে সক্ষম নই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাকে বললেনঃ তুমি বসো। এমন সময় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট একটি ঝুড়িভর্তি খেজুর এলে তিনি তাকে বলেনঃ এগুলো নিয়ে গিয়ে সদাক্বাহ করে দাও। লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার চেয়ে অধিক গরীব লোক নেই। একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এমনভাবে হাসলেন যে, তাঁর মাড়ির দাঁত প্রকাশ হয়ে পড়ে। তিনি লোকটিকে বললেনঃ তাহলে এগুলো তুমি খাও।

ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইবনু জুরাইজ হতে আয-যুহরীর মাধ্যমে মালিকের শব্দে বর্ণনা করেন যে, এক ব্যক্তি সাওম ভঙ্গ করে। তিনি তাতে বলেছেনঃ ‘অথবা একটি গোলাম আযাদ করো অথবা দুই মাস সাওম রাখো কিংবা ষাটজন মিসকীনকে আহার করাও’।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৩৯২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক ব্যক্তি রমজানের সাওম ভঙ্গ করলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে কাফফারার নির্দেশ দেন। বর্ণনায় তিনটি বিষয় এসেছে—একটি দাস মুক্ত করা, অথবা একটানা দুই মাস সাওম পালন করা, অথবা ষাটজন মিসকিনকে আহার করানো। লোকটি জানায়, সে এগুলোর কোনোটিই করতে সক্ষম নয়। তখন তাকে বসতে বলা হয়। পরে খেজুরভর্তি একটি ঝুড়ি এলে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তাকে তা সদকা করতে বলেন। লোকটি জানায়, তার চেয়ে বেশি গরিব কেউ নেই। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) হাসলেন এবং তাকে বললেন, তুমি এগুলো খাও। ইমাম আবু দাউদ (রহঃ) শেষে বর্ণনার শব্দের পার্থক্যও উল্লেখ করেছেন। “রোজা ভঙ্গের কাফফারা”, “ষাট মিসকিন”, “দুই মাস সাওম”—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রমজানের সাওম ভঙ্গের কাফফারায় তিনটি বিষয় বর্ণিত হয়েছে।
  • দরিদ্র ও অক্ষম ব্যক্তির অবস্থা নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বিবেচনা করেছেন।
  • সদকার নির্দেশ দেওয়ার পর লোকটির বাস্তব অভাব প্রকাশ পায়।
  • হাদিসের শব্দভেদও মুহাদ্দিসরা সংরক্ষণ করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন