১৫/১০৪. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৪৩ - কালেমা পাঠকারীর রক্তের সম্মান

মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ চলবে

কালেমা পাঠকারীর রক্তের সম্মান

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৪৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، وَعُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ الْمَعْنَى، قَالاَ حَدَّثَنَا يَعْلَى بْنُ عُبَيْدٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي ظَبْيَانَ، حَدَّثَنَا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، قَالَ بَعَثَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ سَرِيَّةً إِلَى الْحُرَقَاتِ فَنَذِرُوا بِنَا فَهَرَبُوا فَأَدْرَكْنَا رَجُلاً فَلَمَّا غَشَيْنَاهُ قَالَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ فَضَرَبْنَاهُ حَتَّى قَتَلْنَاهُ فَذَكَرْتُهُ لِلنَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ " مَنْ لَكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " .فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّمَا قَالَهَا مَخَافَةَ السِّلاَحِ . قَالَ " أَفَلاَ شَقَقْتَ عَنْ قَلْبِهِ حَتَّى تَعْلَمَ مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ قَالَهَا أَمْ لاَ مَنْ لَكَ بِلاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ " . فَمَا زَالَ يَقُولُهَا حَتَّى وَدِدْتُ أَنِّي لَمْ أُسْلِمْ إِلاَّ يَوْمَئِذٍ .

উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে আল-হুরূকাত (নামক স্থানে) অভিযানে প্রেরণ করলেন। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে শত্রুরা পালিয়ে গেলো। আমরা তাদের এক ব্যক্তিকে ধরে ফেলতে যখন ঘেরাও করলাম, তখন সে “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” পাঠ করলো। এ সত্ত্বেও আমরা তাকে আঘাত করে হত্যা করলাম। পরে ঘটনাটি নবী (ﷺ) -কে জানালাম।তিনি বললেনঃ কেয়ামতের দিন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ তোমার বিরুদ্ধে বাদী হলে কে তোমার জন্য সুপারিশ করবে? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো তরবারির ভয়ে কালেমা পাঠ করেছে। তিনি বললেনঃ সে তরবারির ভয়েই কালেমা পাঠ করেছে, তা কি তুমি তার অন্তর ফেড়ে দেখেছো? কেয়ামতের দিন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’-র সামনে কে তোমাকে নাজাত দিবে (বর্ণনাকারী বলেন,) তিনি বারবার একথা বলতে থাকলেন। এমনকি আমার মনে হচ্ছিল, আমি যদি এ দিনটির পূর্বে মুসলিম না হতাম!

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৪৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তেও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার গুরুত্ব দেখা যায়। সাহাবীরা একজন ব্যক্তিকে ঘেরাও করলে সে কালেমা পড়ে। তবুও তাকে হত্যা করা হয়। পরে নবী صلى الله عليه وسلم বিষয়টি শুনে বারবার বলেন, কিয়ামতের দিন ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ তোমার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে কে তোমাকে রক্ষা করবে? সাহাবীর যুক্তি ছিল, লোকটি অস্ত্রের ভয়েই কালেমা পড়েছে। কিন্তু নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তুমি কি তার অন্তর চিরে দেখেছ? এই হাদিসের বড় শিক্ষা হলো, মানুষের অন্তরের গোপন অবস্থা বিচার করার দায়িত্ব মানুষের নয়। প্রকাশ্য কালেমাকে অবহেলা করা ভয়ংকর বিষয়। যুদ্ধ, ভয় বা চাপের অবস্থাতেও কারো ঈমানের দাবি হালকাভাবে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কালেমা পাঠকারীকে অবহেলা করা গুরুতর বিষয়।
  • কারো অন্তরের নিয়ত মানুষ নিশ্চিতভাবে জানে না।
  • রাগ, ভয় বা যুদ্ধের চাপে তাড়াহুড়া করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।
  • কিয়ামতের জবাবদিহির কথা মনে রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন