১৫/১০৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৪৪ - শত্রুর কালেমা গ্রহণের বিধান
মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ চলবে
শত্রুর কালেমা গ্রহণের বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬৪৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৪৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ اللَّيْثِ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَزِيدَ اللَّيْثِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ، عَنِ الْمِقْدَادِ بْنِ الأَسْوَدِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلاً مِنَ الْكُفَّارِ فَقَاتَلَنِي فَضَرَبَ إِحْدَى يَدَىَّ بِالسَّيْفِ ثُمَّ لاَذَ مِنِّي بِشَجَرَةٍ فَقَالَ أَسْلَمْتُ لِلَّهِ . أَفَأَقْتُلُهُ يَا رَسُولَ اللَّهِ بَعْدَ أَنْ قَالَهَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ تَقْتُلْهُ " .فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّهُ قَطَعَ يَدِي. قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " لاَ تَقْتُلْهُ فَإِنْ قَتَلْتَهُ فَإِنَّهُ بِمَنْزِلَتِكَ قَبْلَ أَنْ تَقْتُلَهُ وَأَنْتَ بِمَنْزِلَتِهِ قَبْلَ أَنْ يَقُولَ كَلِمَتَهُ الَّتِي قَالَ " .
মিকদাদ ইবনুল আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি কোন কাফিরের মোকাবিলায় লড়তে গিয়ে তার তরবারির আঘাতে আমার একটি হাত কেটে যায়। তারপর সে আমার পাল্টা আক্রমণ থেকে আত্মরক্ষার জন্য কোন গাছে আড়ালে আশ্রয় নিয়ে বলে, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মুসলিম হয়েছি’- একথা বলার পর হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাকে হত্যা করবো? তিনি বললেনঃ না, তাকে হত্যা করো না। আমি আবার বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে তো আমার হাত কেটে ফেলেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তাকে হত্যা করো না। কেননা তুমি তাকে হত্যা করলে এ হত্যার পূর্বে তুমি (ঈমান আনার কারণে) যে মর্যাদায় ছিলে, সে ঐ মর্যাদায় পৌছে যাবে। আর এ কালেমা পাঠের পূর্বে সে যে অবস্থায় ছিল, তুমি তার অবস্থায় চলে যাবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৪৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খুব কঠিন একটি পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে। একজন শত্রু যুদ্ধের সময় মুসলিম যোদ্ধার হাত কেটে দিয়েছে। এরপর আত্মরক্ষার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলেছে, আমি আল্লাহর জন্য মুসলিম হয়েছি। প্রশ্ন ছিল, এমন অবস্থায় তাকে হত্যা করা যাবে কি না। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم পরিষ্কারভাবে বলেন, তাকে হত্যা করো না। প্রশ্নকারী আবার নিজের কাটা হাতের কথা বললেও নবী صلى الله عليه وسلم একই নির্দেশ দেন। হাদিসের শিক্ষা হলো, কালেমা বা ইসলাম গ্রহণের প্রকাশ্য ঘোষণা যুদ্ধের অবস্থাতেও গুরুত্ব পায়। ব্যক্তিগত ক্ষতি, রাগ বা প্রতিশোধের অনুভূতি শরীয়তের সীমা ভাঙার কারণ হতে পারে না। এখানে নবী صلى الله عليه وسلم এমন কাজের গুরুতর পরিণতির দিকেও সতর্ক করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলাম গ্রহণের প্রকাশ্য ঘোষণা গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হয়।
- ব্যক্তিগত ক্ষতি প্রতিশোধের নামে সীমা ভাঙার অনুমতি দেয় না।
- যুদ্ধের অবস্থাতেও শরীয়তের নিয়ম মানতে হয়।
- কারো কালেমা বলার পর তাকে হত্যা করা গুরুতর বিষয়।
