১৫/১২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮১ - বদরের ঘটনা ও সত্য যাচাই
বন্দীকে মারধর ও হুমকি দিয়ে তথ্য উদ্ধার করা
বদরের ঘটনা: সত্য কথা বুঝে নেওয়ার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬৮১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৮১
حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَدَبَ أَصْحَابَهُ فَانْطَلَقُوا إِلَى بَدْرٍ فَإِذَا هُمْ بِرَوَايَا قُرَيْشٍ فِيهَا عَبْدٌ أَسْوَدُ لِبَنِي الْحَجَّاجِ فَأَخَذَهُ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَجَعَلُوا يَسْأَلُونَهُ أَيْنَ أَبُو سُفْيَانَ فَيَقُولُ وَاللَّهِ مَا لِي بِشَىْءٍ مِنْ أَمْرِهِ عِلْمٌ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ جَاءَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ.فَإِذَا قَالَ لَهُمْ ذَلِكَ ضَرَبُوهُ فَيَقُولُ دَعُونِي دَعُونِي أُخْبِرْكُمْ. فَإِذَا تَرَكُوهُ قَالَ وَاللَّهِ مَا لِي بِأَبِي سُفْيَانَ مِنْ عِلْمٍ وَلَكِنْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ فِيهِمْ أَبُو جَهْلٍ وَعُتْبَةُ وَشَيْبَةُ ابْنَا رَبِيعَةَ وَأُمَيَّةُ بْنُ خَلَفٍ قَدْ أَقْبَلُوا. وَالنَّبِيُّ ﷺ يُصَلِّي وَهُوَ يَسْمَعُ ذَلِكَ فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ " وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّكُمْ لَتَضْرِبُونَهُ إِذَا صَدَقَكُمْ وَتَدَعُونَهُ إِذَا كَذَبَكُمْ هَذِهِ قُرَيْشٌ قَدْ أَقْبَلَتْ لِتَمْنَعَ أَبَا سُفْيَانَ " .قَالَ أَنَسٌ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " هَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ " وَهَذَا مَصْرَعُ فُلاَنٍ غَدًا " . وَوَضَعَ يَدَهُ عَلَى الأَرْضِ فَقَالَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ مَا جَاوَزَ أَحَدٌ مِنْهُمْ عَنْ مَوْضِعِ يَدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَمَرَ بِهِمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأُخِذَ بِأَرْجُلِهِمْ فَسُحِبُوا فَأُلْقُوا فِي قَلِيبِ بَدْرٍ.
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সাহাবীদের যুদ্ধে অংশ গ্রহণের আহ্বান জানালেন। তারা বদর অভিমুখে রওয়ানা হলেন। তার হাজ্জাজ গোত্রের এক কালো ক্রীতদাস কে কুরাইশদের পানি বহনকারী উটের সঙ্গে পেয়ে গেলেন। সাহাবায়ে কিরাম তাকে ধরে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে লাগলেন। আবূ সুফিআন কোথায় বলো? সে বললো, আল্লাহর শপথ! তার সম্পর্কে আমি কিছুই জানিনা। তবে কুরাইশ বাহিনী আসছে, সঙ্গে আবূ জাহল, ’উতবাহ ও শাইবাহ ইবনু রবী’আ্হ এবং উমাইয়াহ ইবনু খালাফ রয়েছে। সে একথা জানালে সাহাবীগণ তাকে মারধর করতে লাগলেন।সে চিৎকার করে বললো, ছাড়ো ছাড়ো! আমি বলছি। তারা তাকে ছেড়ে দিলে সে বললো, আল্লাহর শপথ! আবূ সুফিয়ান সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তবে এই কোরাইশ বাহিনী আসছে। তখন নবী (ﷺ) সালাতরত ছিলেন। তিনি কথাগুলা শুনলেন। সালাত শেষ করে তিনি বলেন: ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ। সে যখন তোমাদের সত্য কথা বলেছে, তোমরা তাকে প্রহার করেছো, আর যখন মিথ্যা বলেছে তখন ছেড়ে দিয়েছো। কোরাইশ বাহিনী আবূ সুফিয়ানের (কাফেলা) রক্ষা করতে এসেছে।আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা আগামীকাল অমুকের নিহত হওয়ার স্থান, এই বলে তিনি যমিনের উপর হাত রাখলেন। এটা আগামীকাল অমুকের নিহত হওয়ার স্থান, এই বলে তিনি নির্দিষ্ট স্থান এর উপর হাত রাখলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, সে সত্তার শপথ যার হাতে প্রাণ, কাফিরদের কেউই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাত রাখার নির্দিষ্ট স্থান অতিক্রম করেনি (তারা ওই নির্দিষ্ট স্থানে নিহত হয়) অতঃপর রাসূলুল্লাহর (ﷺ) নির্দেশ মোতাবেক ওদের লাশের পা ধরে টেনে –হেঁচড়ে নিয়ে গিয়ে বদরের একটি অন্ধকার কূপে নিক্ষেপ করা হয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বদরের যুদ্ধের আগে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। সাহাবীরা কুরাইশের পানি বহনকারী উটের সঙ্গে থাকা এক কৃতদাসকে ধরে আবু সুফিয়ান সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেন। সে বারবার বলে যে আবু সুফিয়ান সম্পর্কে সে জানে না, তবে কুরাইশ বাহিনী আসছে। সাহাবীরা তার সত্য কথাকে তখন ঠিকভাবে ধরতে পারেননি। নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাত শেষ করে বিষয়টি পরিষ্কার করেন যে, সে সত্য বললে তাকে মারা হচ্ছিল, আর মিথ্যা বললে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। এই বদরের ঘটনা আমাদের শেখায়, যুদ্ধের মতো কঠিন সময়েও তথ্য যাচাই, শান্ত বিচার এবং সত্য কথা বোঝা খুব জরুরি। এরপর নবী (صلى الله عليه وسلم) কুরাইশের কয়েকজনের নিহত হওয়ার স্থান দেখিয়ে দেন, আর আনাস (রাঃ) বলেন, তারা সেই স্থান অতিক্রম করেনি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কঠিন সময়েও সত্য-মিথ্যা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) সাহাবীদের ভুল ধরিয়ে দিয়ে সঠিক তথ্য বুঝিয়ে দিয়েছেন।
- বদরের ঘটনায় আল্লাহর সাহায্য ও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কথার সত্যতা প্রকাশ পেয়েছে।
- শত্রুর খবর জানার সময় আবেগের বদলে বিবেচনা জরুরি।
