১৫/১২৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮২ - দ্বীনে জবরদস্তি নেই
বন্দীকে ইসলাম গ্রহণে বাধ্য করা উচিত নয়
দ্বীনে জবরদস্তি নেই: হিদায়েতের পথ স্পষ্ট
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬৮২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৮২
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَشْعَثُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، - يَعْنِي السِّجِسْتَانِيَّ ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَهَذَا، لَفْظُهُ ح وَحَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَلِيٍّ، قَالَ حَدَّثَنَا وَهْبُ بْنُ جَرِيرٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ،قَالَ كَانَتِ الْمَرْأَةُ تَكُونُ مِقْلاَتًا فَتَجْعَلُ عَلَى نَفْسِهَا إِنْ عَاشَ لَهَا وَلَدٌ أَنْ تُهَوِّدَهُ فَلَمَّا أُجْلِيَتْ بَنُو النَّضِيرِ كَانَ فِيهِمْ مِنْ أَبْنَاءِ الأَنْصَارِ فَقَالُوا لاَ نَدَعُ أَبْنَاءَنَا فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ { لاَ إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ قَدْ تَبَيَّنَ الرُّشْدُ مِنَ الْغَىِّ } قَالَ أَبُو دَاوُدَ الْمِقْلاَتُ الَّتِي لاَ يَعِيشُ لَهَا وَلَدٌ.
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জাহিলী যুগে যদি কোনো মহিলার সন্তান বেঁচে না থাকতো তাহলে সে এ মর্মে মানত করতো যে, তার সন্তান বাঁচলে তাকে ইয়াহুদী ধর্মে দীক্ষিত করাবে। অতঃপর যখন ইয়াহুদী গোত্র বনী নাযীরকে উচ্ছেদ করা হয়, তখন তাদের মধ্যে আনসারদের কতিপয় ঐরূপ সন্তান ছিলো। আনসারগণ বললেন, আমরা আমাদের সন্তানদের (ইয়াহুদীদের সাথে) ছেড়ে দিতে পারবো না।তখন মহান আল্লাহর আয়াত অবতীর্ণ করলেন, ”দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই। হিদায়াতের নির্ভুল পথকে ভ্রান্ত পথ হতে সুস্পষ্টভাবে পৃথক করা হয়েছে।” (সূরা আল-বাক্বারা্হ, আয়াত ২৫৬)
আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, যেসব মহিলাদের সন্তান বেঁচে থাকে না তাদেরকে ‘মিক্বলাত’ বলা হয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ধর্মস্বাধীনতা বিষয়ে সূরা আল-বাকারার আয়াত নাজিলের একটি কারণ এসেছে। জাহিলী যুগে কোনো মহিলার সন্তান বেঁচে না থাকলে সে মানত করত, সন্তান বাঁচলে তাকে ইহুদি বানাবে। পরে বনী নযীরকে উচ্ছেদ করা হলে তাদের মধ্যে আনসারদের এমন কিছু সন্তান ছিল। আনসাররা বললেন, তারা সন্তানদের ছেড়ে দিতে পারবেন না। তখন আল্লাহ আয়াত নাজিল করেন, দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি নেই; হিদায়েতের সঠিক পথ ভ্রান্ত পথ থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ঈমান জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। সত্য পথ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, কিন্তু কারও উপর দ্বীন চাপিয়ে দেওয়া হয় না। হাদিসে ‘মিকলাত’ শব্দের অর্থও ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের ব্যাপারে জবরদস্তি ইসলামের শিক্ষা নয়।
- সত্য পথ ও ভুল পথ আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
- পুরনো মানত বা সামাজিক রীতি দ্বীনের মূল নীতির উপর প্রভাব ফেলতে পারে না।
- সন্তানের বিষয়ে আবেগ থাকলেও আল্লাহর নির্দেশকে মানতে হয়।
