১৫/১২৭. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮৩ - চোখের খেয়ানত নয়
ইসলামের দাওয়াত না দিয়ে যুদ্ধবন্দীকে হত্যা করা
চোখের খেয়ানত নয়: নবীর প্রকাশ্য নীতির শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৬৮৩
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৬৮৩
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ زَعَمَ السُّدِّيُّ عَنْ مُصْعَبِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، قَالَ لَمَّا كَانَ يَوْمُ فَتْحِ مَكَّةَ أَمَّنَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّاسَ إِلاَّ أَرْبَعَةَ نَفَرٍ وَامْرَأَتَيْنِ وَسَمَّاهُمْ وَابْنُ أَبِي سَرْحٍ.فَذَكَرَ الْحَدِيثَ قَالَ وَأَمَّا ابْنُ أَبِي سَرْحٍ فَإِنَّهُ اخْتَبَأَ عِنْدَ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ فَلَمَّا دَعَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ النَّاسَ إِلَى الْبَيْعَةِ جَاءَ بِهِ حَتَّى أَوْقَفَهُ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا نَبِيَّ اللَّهِ بَايِعْ عَبْدَ اللَّهِ فَرَفَعَ رَأْسَهُ فَنَظَرَ إِلَيْهِ ثَلاَثًا كُلُّ ذَلِكَ يَأْبَى فَبَايَعَهُ بَعْدَ ثَلاَثٍ ثُمَّ أَقْبَلَ عَلَى أَصْحَابِهِ فَقَالَ " أَمَا كَانَ فِيكُمْ رَجُلٌ رَشِيدٌ يَقُومُ إِلَى هَذَا حَيْثُ رَآنِي كَفَفْتُ يَدِي عَنْ بَيْعَتِهِ فَيَقْتُلُهُ " .فَقَالُوا مَا نَدْرِي يَا رَسُولَ اللَّهِ مَا فِي نَفْسِكَ أَلاَ أَوْمَأْتَ إِلَيْنَا بِعَيْنِكَ قَالَ " إِنَّهُ لاَ يَنْبَغِي لِنَبِيٍّ أَنْ تَكُونَ لَهُ خَائِنَةُ الأَعْيُنِ " . قَالَ أَبُو دَاوُدَ كَانَ عَبْدُ اللَّهِ أَخَا عُثْمَانَ مِنَ الرَّضَاعَةِ وَكَانَ الْوَلِيدُ بْنُ عُقْبَةَ أَخَا عُثْمَانَ لأُمِّهِ وَضَرَبَهُ عُثْمَانُ الْحَدَّ إِذْ شَرِبَ الْخَمْرَ.
সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কাহ বিজয়ের দিন চারজন পুরুষ ও দুজন মহিলা ছাড়া অন্য সবাইকে নিরাপত্তার (ক্ষমার) ঘোষণা দিলেন। তিনি তাদের নামও উল্লেখ করলেন। তন্মধ্যে ইবনু আবূ সারহও ছিল। অতঃপর বর্ণনাকারী হাদীসের বাকি অংশ বর্ণনা করেন। সা’দ (রাঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ ‘উসমান ইবনু আ’ফফানের (রাঃ) নিকট আত্মগোপন করে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন জনসাধারণকে বায়’আত গ্রহণের জন্য আহ্বান জানালে ‘উসমান (রাঃ) তাকে নিয়ে এসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে দাঁড় করিয়ে বললেন, হে আল্লাহর নবী! ’আবদুল্লাহর বায়’আত নিন। তিনি মাথা তুলে তার দিকে পর পর তিনবার তাকালেন, এবং প্রতিবারই অসন্তোষ প্রকাশ করলেন।তিনবারের পর তিনি ‘আবদুল্লাহর বায়’আত গ্রহণ করলেন, অতঃপর সাহাবীদের লক্ষ্য করে বলেন: তোমাদের মধ্যে কি কোনো বুদ্ধিমান লোক ছিল না, যখন সে আমাকে দেখলো যে আমি বায়’আত নিচ্ছি না, তখন সে তাকে কেন হত্যা করলো না? সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনার মনের ইচ্ছা আমরা উপলব্ধি করতে পারেনি। আপনি আমাদেরকে চোখ দিয়ে ইশারা করলেন না কেন! তিনি বলেন: কোনো নবীর জন্য চোখের খেয়ানাতকারী হওয়া শোভা পায় না।
ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ সারহ হলো ‘উসমানের (রাঃ) দুধভাই এবং ওয়ালীদ ইবনু ‘উক্ববাহ তার বৈপিত্রেয় ভাই। ’উসমানের (রাঃ) খেলাফতের সময় ওয়ালীদ মদ পান করলে তিনি তাকে শাস্তি দেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়ের দিনের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেন, তবে কয়েকজন পুরুষ ও নারীর বিষয় আলাদা করেন। ইবনু আবু সারহ উসমান (রাঃ)-এর কাছে আশ্রয় নেয়। পরে উসমান (রাঃ) তাকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে নিয়ে এসে বায়আত নেওয়ার অনুরোধ করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তিনবার তার দিকে তাকান এবং প্রথমে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে তিনি তার বায়আত গ্রহণ করেন। সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলে কেন চোখে ইশারা করেননি, তিনি বলেন, কোনো নবীর জন্য চোখের খেয়ানতকারী হওয়া শোভন নয়। এখানে বায়আত, প্রকাশ্য আচরণ এবং আমানতদারির শিক্ষা খুব স্পষ্ট। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আদর্শ ছিল পরিষ্কার কথা, গোপন ইশারায় প্রতারণা নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আচরণে গোপন খেয়ানতের স্থান নেই।
- গুরুতর অবস্থাতেও সিদ্ধান্ত প্রকাশ্য নীতির উপর হয়।
- বায়আতের বিষয়টি নবী (صلى الله عليه وسلم) সরাসরি ও স্পষ্টভাবে সম্পন্ন করেছেন।
- চোখের ইশারা দিয়ে প্রতারণামূলক কাজ করা নিন্দনীয়।
