১৬/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০০ - ঈদের সালাতের পর কোরবানি
কুরবানীর পশুর বয়স কত হওয়া চাই
ঈদের সালাতের পর কোরবানি করার বিধান
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮০০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮০০
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الأَحْوَصِ، حَدَّثَنَا مَنْصُورٌ، عَنِ الشَّعْبِيِّ، عَنِ الْبَرَاءِ، قَالَ خَطَبَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ النَّحْرِ بَعْدَ الصَّلاَةِ فَقَالَ «مَنْ صَلَّى صَلاَتَنَا وَنَسَكَ نُسُكَنَا فَقَدْ أَصَابَ النُّسُكَ وَمَنْ نَسَكَ قَبْلَ الصَّلاَةِ فَتِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ» .فَقَامَ أَبُو بُرْدَةَ بْنُ نِيَارٍ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ لَقَدْ نَسَكْتُ قَبْلَ أَنْ أَخْرُجَ إِلَى الصَّلاَةِ وَعَرَفْتُ أَنَّ الْيَوْمَ يَوْمُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ فَتَعَجَّلْتُ فَأَكَلْتُ وَأَطْعَمْتُ أَهْلِي وَجِيرَانِي . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «تِلْكَ شَاةُ لَحْمٍ» . فَقَالَ إِنَّ عِنْدِي عَنَاقًا جَذَعَةً وَهِيَ خَيْرٌ مِنْ شَاتَىْ لَحْمٍ فَهَلْ تُجْزِئُ عَنِّي قَالَ «نَعَمْ وَلَنْ تُجْزِئَ عَنْ أَحَدٍ بَعْدَكَ».
বারা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কুরবানীর দিন ঈদের সালাতের পর আমাদের সম্মুখে ভাষণ দিলেন এবং বললেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের মত সালাত আদায় করলো, আমাদের মত কুরবানী করলো, তার কুরবানী সঠিক হলো। আর যে ঈদের সালাতের পূর্বে কুরবানী করলো, তা (কুরবানী না হয়ে) গোশত খাওয়ার বকরী হলো।আবু বুরদাহ ইবনু নিয়ার (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! আমি তো সালাতের জন্য বের হওয়ার আগেই কুরবানী করে ফেলেছি। আমি ভেবেছিলাম, আজ পানাহারের দিন। তাই তাড়াহুড়া করে কুরবানীর গোশত নিজে খেয়েছি, পরিবার-পরিজন এবং প্রতিবেশীদেরও খেতে দিয়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটা গোশত খাওয়ার বকরী হলো। আবু বুরদাহ (রাঃ) বলেন, আমার কাছে ছয়মাস পূর্ণ বয়সের একটি ছাগল আছে যা আমার গোশত খাওয়ার দুটি বকরীর চেয়েও উত্তম। এটা কি আমার কুরবানীর স্থান পূর্ণ করবে? তিনি বললেনঃ হাঁ, কিন্তু তোমার পরে আর কারো জন্য এরূপ করা জায়েজ হবে না।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোরবানির দিন ঈদের সালাতের পর ভাষণ দেন। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি আমাদের মতো সালাত আদায় করে এবং আমাদের মতো কোরবানি করে, তার কোরবানি সঠিক। আর যে ঈদের সালাতের আগে কোরবানি করে, তা কোরবানি নয়; সেটি শুধু গোশত খাওয়ার বকরী। আবু বুরদা (রাঃ) জানালেন, তিনি সালাতের আগে কোরবানি করেছেন এবং পরিবার ও প্রতিবেশীদের খাইয়েছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, সেটি গোশতের বকরী হয়েছে। পরে তাঁর কাছে থাকা ছয় মাস বয়সী ছাগল সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য অনুমতি দেন, তবে বলেন, তাঁর পরে আর কারো জন্য এরূপ যথেষ্ট হবে না। এখানে “কোরবানির সময়”, “ঈদের সালাতের পর কোরবানি” এবং “সালাতের আগে কোরবানি” বিষয়গুলো সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোরবানির সঠিক সময় ঈদের সালাতের পর শুরু হয়।
- সালাতের আগে যবেহ করলে তা কোরবানি হিসেবে গণ্য হয়নি।
- আবু বুরদা (রাঃ)-এর জন্য বিশেষ অনুমতির কথা এসেছে।
- ইবাদতের সময় ও নিয়ম মানা গুরুত্বপূর্ণ।
