১৬/১০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮১২ - কুরবানির গোশত খাওয়া ও জমা
কুরবানীর গোশত সংরক্ষণ করে রাখা
কুরবানির গোশত খাওয়া, সদকা ও জমা রাখা
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮১২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮১২
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ، تَقُولُ دَفَّ نَاسٌ مِنْ أَهْلِ الْبَادِيَةِ حَضْرَةَ الأَضْحَى فِي زَمَانِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " ادَّخِرُوا الثُّلُثَ وَتَصَدَّقُوا بِمَا بَقِيَ». قَالَتْ فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ قِيلَ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ يَا رَسُولَ اللَّهِ لَقَدْ كَانَ النَّاسُ يَنْتَفِعُونَ مِنْ ضَحَايَاهُمْ وَيَجْمُلُونَ مِنْهَا الْوَدْكَ وَيَتَّخِذُونَ مِنْهَا الأَسْقِيَةَ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «وَمَا ذَاكَ». أَوْ كَمَا قَالَ قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ نَهَيْتَ عَنْ إِمْسَاكِ لُحُومِ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلاَثٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّمَا نَهَيْتُكُمْ مِنْ أَجْلِ الدَّافَّةِ الَّتِي دَفَّتْ عَلَيْكُمْ فَكُلُوا وَتَصَدَّقُوا وَادَّخِرُوا " .
আমরাহ্ বিন্ত আবদুর রহমান (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি : রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সময়ে জঙ্গলে বসবাসকারী কিছু লোক এসে ঈদুল আযহার জামা’আতে উপস্থিত হয়। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমরা তিন দিনের খাওয়ার পরিমাণ গোশ্ত রেখে বাকী গোশ্ত সদাক্বাহ করে দাও। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বলেন, কিছুদিন পর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! ইতিপূর্বে লোকেরা তো তাদের কুরবানী (গোশ্ত) দ্বারা (অনেকদিন) সুবিধা ভোগ করতো। তারা চর্বি জমা করে রাখতো এবং চামড়া দিয়ে পানির মশক বানাতো।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ এরূপ বলার অর্থ কি? তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কুরবানীর গোশ্ত তিন দিনের অধিক জমা রাখতে নিষেধ করেছেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে সময় তোমাদের নিকট কিছু গরীব লোক এসেছিল বিধায় আমি তোমাদেরকে এরূপ নিষেধ করেছিলাম। কাজেই এখন তোমরা তা খাও, সদাক্বাহ করো এবং জমা করে রাখো।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮১২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুরবানির গোশত জমা রাখার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা এসেছে। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সময়ে জঙ্গলে থাকা কিছু দরিদ্র লোক ঈদুল আজহার জামা’আতে আসে। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) তিন দিনের খাওয়ার পরিমাণ রেখে বাকিটা সদকা করতে বলেন। পরে যখন মানুষ জানায় যে তারা আগে কুরবানির গোশত, চর্বি ও চামড়া থেকে উপকার নিত, তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সেই নিষেধ ছিল ওই দরিদ্র লোকদের কারণে। এরপর তিনি বলেন, এখন তোমরা খাও, সদকা করো এবং জমা করে রাখো। এই হাদিসে কুরবানির গোশত বণ্টন, দরিদ্রদের কথা ভাবা এবং পরে জমা রাখার অনুমতি—সবকিছু ভারসাম্যের সঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন থাকলে কুরবানির গোশত সদকা করার গুরুত্ব বাড়ে।
- প্রথমে তিন দিনের বেশি জমা রাখতে নিষেধ করা হয়েছিল বিশেষ কারণে।
- পরে খাওয়া, সদকা করা ও জমা রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- কুরবানির গোশত ব্যবহারে নিজের পরিবার ও দরিদ্র—উভয়ের কথা ভাবা উচিত।
