১৮/২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৬৪ - এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়তের বিধান
ওসিয়াতকারীর নিজ সম্পদের কতটুকু ওসিয়াত করা বৈধ নয়
এক-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত ও ওয়ারিসের হক
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৬৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৬৪
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَابْنُ أَبِي خَلَفٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَامِرِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَرِضَ مَرَضًا - قَالَ ابْنُ أَبِي خَلَفٍ - بِمَكَّةَ - ثُمَّ اتَّفَقَا - أَشْفَى فِيهِ فَعَادَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ لِي مَالاً كَثِيرًا وَلَيْسَ يَرِثُنِي إِلاَّ ابْنَتِي أَفَأَتَصَدَّقُ بِالثُّلُثَيْنِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَبِالشَّطْرِ قَالَ " لاَ " . قَالَ فَبِالثُّلُثِ قَالَ " الثُّلُثُ وَالثُّلُثُ كَثِيرٌ إِنَّكَ أَنْ تَتْرُكَ وَرَثَتَكَ أَغْنِيَاءَ خَيْرٌ مِنْ أَنْ تَدَعَهُمْ عَالَةً يَتَكَفَّفُونَ النَّاسَ وَإِنَّكَ لَنْ تُنْفِقَ نَفَقَةً إِلاَّ أُجِرْتَ بِهَا حَتَّى اللُّقْمَةَ تَرْفَعُهَا إِلَى فِي امْرَأَتِكَ " . قُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَخَلَّفُ عَنْ هِجْرَتِي قَالَ " إِنَّكَ إِنْ تُخَلَّفْ بَعْدِي فَتَعْمَلْ عَمَلاً صَالِحًا تُرِيدُ بِهِ وَجْهَ اللَّهِ لاَ تَزْدَادُ بِهِ إِلاَّ رِفْعَةً وَدَرَجَةً لَعَلَّكَ أَنْ تُخَلَّفَ حَتَّى يَنْتَفِعَ بِكَ أَقْوَامٌ وَيُضَرَّ بِكَ آخَرُونَ " . ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ أَمْضِ لأَصْحَابِي هِجْرَتَهُمْ وَلاَ تَرُدَّهُمْ عَلَى أَعْقَابِهِمْ لَكِنِ الْبَائِسُ سَعْدُ ابْنُ خَوْلَةَ يَرْثِي لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ مَاتَ بِمَكَّةَ " .
আমির ইবনু সা‘দ (রহঃ) হতে তার পিতার হতে বর্ণিতঃ
আমার পিতা (সা‘দ) একবার কঠিন রোগে আক্রান্ত হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার প্রচুর সম্পদ আছে। একটি কন্যা সন্তান ছাড়া আমার কোন ওয়ারিস নাই। কাজেই দুই-তৃতীয়াংশ সম্পদ সদাক্বাহ করবো কি? তিনি বললেনঃ না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, অর্ধেক সম্পদ? তিনি বললেনঃ না। তিনি আবার জিজ্ঞেস করেন, এক-তৃতীয়াংশ? তিনি বললেন, হাঁ, তিন ভাগের এক ভাগ ওসিয়াত করতে পারো। তবে এটাও বেশি হয়ে যাচ্ছে। তোমার ওয়ারিসরা অন্যের নিকট ভিক্ষা চাইবে-তাদেরকে এমন দুঃস্থ অবস্থায় রেখে যাওয়ার চাইতে সচ্ছল অবস্থায় রেখে যাওয়া অনেক উত্তম। তুমি তাদের জন্য যা খরচ করবে, তোমাকে তার প্রতিদান দেয়া হবে। এমনকি তুমি তোমার স্ত্রীর মুখে যে খাবারের লোকমা তুলে দাও তারও প্রতিদান পাবে।আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি আমার হিজরাতের নেকী থেকে পরিত্যক্ত হবো? তিনি বললেনঃ আমার হিজরাতের পর তুমি যদি (মাক্কাহ্তে) থেকে যাও এবং আমার অনুপস্থিতিতেও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নেক আমল অব্যাহত রাখো তাহলে তোমার মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে। আশা করি তুমি বেঁচে থাকবে এবং একদল তোমার দ্বারা উপকৃত হবে, আর অন্যদল তোমার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।অতঃপর তিনি এ দোয়া করলেনঃ ‘ হে আল্লাহ! আমার সাহাবীদের হিজরাত পরিপূর্ণ করুন; তাদেরকে হিজরাতের পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে দিবেন না।” কিন্তু নিঃস্ব সা‘দ ইবনু খাওলাহ (রাঃ) মাক্কাহ্য় মারা যান। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে স্মরণ করে অনুশোচনা করতেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৬৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওসিয়তের সীমা খুব সুন্দরভাবে বোঝানো হয়েছে। সা’দ (রাঃ) অসুস্থ অবস্থায় নিজের সম্পদ সদকা করতে চাইলেন। তিনি দুই-তৃতীয়াংশ দিতে চাইলে নবী (صلى الله عليه وسلم) না বললেন, অর্ধেকের কথাতেও না বললেন। এক-তৃতীয়াংশের অনুমতি দিলেন, আবার বললেন এটাও বেশি। এর মাধ্যমে বোঝা যায়, ওসিয়ত ও সদকা করতে গিয়ে ওয়ারিসদের কষ্টে ফেলে দেওয়া ঠিক নয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, ওয়ারিসদের সচ্ছল রেখে যাওয়া তাদের মানুষের কাছে হাত পাতার অবস্থায় রেখে যাওয়ার চেয়ে ভালো। একই হাদিসে পরিবারে খরচের সওয়াবও এসেছে, এমনকি স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। তাই ওসিয়তের বিধান, পরিবারের অধিকার এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নেক আমলের গুরুত্ব—সবই এখানে একসঙ্গে পাওয়া যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওসিয়ত সাধারণভাবে এক-তৃতীয়াংশের বেশি করা উচিত নয়।
- সদকা করতে গিয়ে ওয়ারিসদের দুঃস্থ অবস্থায় ফেলা ঠিক নয়।
- পরিবারের জন্য খরচ করাও সওয়াবের কাজ হতে পারে।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা নেক আমল মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ।
