১৯/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৮৭ - বোনদের মীরাস ও কালালাহ
যার সন্তান নেই কিন্তু বোন আছে
কালালাহ অবস্থায় বোনদের মীরাস
সুনানে আবূ দাউদ : ২৮৮৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২৮৮৭
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنَا هِشَامٌ، - يَعْنِي الدَّسْتَوَائِيَّ - عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ اشْتَكَيْتُ وَعِنْدِي سَبْعُ أَخَوَاتٍ فَدَخَلَ عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَنَفَخَ فِي وَجْهِي فَأَفَقْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَلاَ أُوصِي لأَخَوَاتِي بِالثُّلُثِ قَالَ " أَحْسِنْ " . قُلْتُ الشَّطْرَ قَالَ " أَحْسِنْ " . ثُمَّ خَرَجَ وَتَرَكَنِي فَقَالَ «يَا جَابِرُ لاَ أُرَاكَ مَيِّتًا مِنْ وَجَعِكَ هَذَا وَإِنَّ اللَّهَ قَدْ أَنْزَلَ فَبَيَّنَ الَّذِي لأَخَوَاتِكَ فَجَعَلَ لَهُنَّ الثُّلُثَيْنِ " . قَالَ فَكَانَ جَابِرٌ يَقُولُ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ فِيَّ { يَسْتَفْتُونَكَ قُلِ اللَّهُ يُفْتِيكُمْ فِي الْكَلاَلَةِ ﴿ .
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। তখন আমার অধীনে আমার সাতটি বোন ছিল। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে দেখতে আসলেন। তিনি আমার মুখমন্ডলে ফুঁ দিলেন। আমি জ্ঞান ফিরে পেয়ে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার বোনদের জন্য আমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়াত করবো কি? তিনি বললেনঃ তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। আমি বললাম, তাহলে অর্ধেক? তিনি বললেনঃ তাদেরকে অনুগ্রহ করো। আমাকে ছেড়ে চলে যাবার সময় নবী (ﷺ) বললেনঃ হে জাবির! এ রোগে তুমি মারা যাবে বলে মনে হচ্ছে না। মহান আল্লাহ আয়াত অবতীর্ণ করেছেন এবং তোমার বোনদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিয়েছেন। তিনি তাদের জন্য তোমার সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করেছেন।অধস্তন বর্ণনাকারী বলেন, জাবির (রাঃ) বলতেন, আমার ব্যাপারে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ “লোকেরা তোমার কাছে ফাতাওয়াহ্ জিজ্ঞেস করে। বলো, আল্লাহ তোমাদের কালালাহ সম্পর্কের ফাতাওয়াহ্ দিচ্ছেন…” (সূরা আন-নিসাঃ ১৭৬)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২৮৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর অসুস্থতা এবং তার সাত বোনের মীরাসের বিষয় এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে দেখতে আসেন। জাবির (রাঃ) জ্ঞান ফিরে পেয়ে জানতে চান, তিনি কি বোনদের জন্য সম্পত্তির দুই-তৃতীয়াংশ ওসিয়ত করবেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করো। তিনি অর্ধেকের কথাও বলেন, তখনও নবী (صلى الله عليه وسلم) একইভাবে অনুগ্রহের কথা বলেন। পরে নবী (صلى الله عليه وسلم) জানিয়ে দেন, এই রোগে জাবির (রাঃ)-এর মৃত্যু হবে বলে মনে হচ্ছে না এবং আল্লাহ তার বোনদের বিষয় স্পষ্ট করেছেন। তাদের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই হাদিস কালালাহ, বোনদের মীরাস এবং আল্লাহর নির্ধারিত অংশের প্রতি আনুগত্য শেখায়। এখানে ওসিয়তের বদলে নির্ধারিত উত্তরাধিকারই মূল বিষয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বোনদের মীরাসের বিষয় আল্লাহর নির্দেশে নির্ধারিত।
- সম্পত্তি বণ্টনে নিজের ধারণার চেয়ে শরিয়তের বিধান অনুসরণ করতে হয়।
- অসুস্থ ব্যক্তির সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন করা বাস্তব প্রয়োজন হতে পারে।
- পরিবারের নারীদের অধিকার রক্ষার শিক্ষা এই হাদিসে আছে।
