২৫/৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৮২ - বিচারকের নিরপেক্ষতার শিক্ষা
কিভাবে বিচার করবে
বিচারে দুই পক্ষের কথা শোনার গুরুত্ব
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৫৮২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৫৮২
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا شَرِيكٌ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ حَنَشٍ، عَنْ عَلِيٍّ، عَلَيْهِ السَّلاَمُ قَالَ بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِلَى الْيَمَنِ قَاضِيًا فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ تُرْسِلُنِي وَأَنَا حَدِيثُ السِّنِّ وَلاَ عِلْمَ لِي بِالْقَضَاءِ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ سَيَهْدِي قَلْبَكَ وَيُثَبِّتُ لِسَانَكَ فَإِذَا جَلَسَ بَيْنَ يَدَيْكَ الْخَصْمَانِ فَلاَ تَقْضِيَنَّ حَتَّى تَسْمَعَ مِنَ الآخَرِ كَمَا سَمِعْتَ مِنَ الأَوَّلِ فَإِنَّهُ أَحْرَى أَنْ يَتَبَيَّنَ لَكَ الْقَضَاءُ» . قَالَ فَمَا زِلْتُ قَاضِيًا أَوْ مَا شَكَكْتُ فِي قَضَاءٍ بَعْدُ .
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে ইয়ামানে বিচারক হিসাবে প্রেরণ করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি আমাকে বিচারক করে ইয়ামানে পাঠাচ্ছেন, অথচ আমি একজন নব যুবক, বিচার ব্যবস্থা সম্পর্কে আমার অভিজ্ঞতা নেই। তিনি বলেনঃ আল্লাহ্ নিশ্চয়ই তোমার অন্তরকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পথ দেখাবেন এবং তোমার কথাকে প্রতিষ্ঠিত রাখবেন। যখন তোমার সামনে বাদী-বিবাদী বসবে তখন তুমি যেভাবে এক পক্ষের বক্তব্য শুনবে অনুরূপভাবে অপর পক্ষের বক্তব্য না শোনা পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত নিবে না। এতে তোমার সামনে মোকদ্দমার আসল সত্য প্রকাশিত হবে। ‘আলী (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি সিদ্ধান্ত গ্রহণে সন্দেহে পতিত হইনি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের নিরপেক্ষতা ও সাবধানতার বড় শিক্ষা আছে। আলী (আঃ)-কে ইয়ামানে বিচারক হিসেবে পাঠানো হলে তিনি নিজের কম বয়স ও বিচার-অভিজ্ঞতার অভাবের কথা বলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে আশ্বস্ত করেন যে আল্লাহ তাঁর অন্তরকে সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পথ দেখাবেন এবং তাঁর কথাকে দৃঢ় রাখবেন। এরপর তিনি বিচার পদ্ধতির একটি মূলনীতি শেখান: এক পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না; যেমনভাবে এক পক্ষের বক্তব্য শোনা হয়েছে, তেমনি অন্য পক্ষের বক্তব্যও শুনতে হবে। এতে মোকদ্দমার আসল সত্য পরিষ্কার হতে পারে। বিচারকের ন্যায়বিচার, বাদী-বিবাদীর বক্তব্য, এবং সিদ্ধান্তের আগে যাচাই—এসব বিষয় এই হাদিসে সরাসরি উঠে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারের আগে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনা জরুরি।
- শুধু এক পক্ষের কথা শুনে সিদ্ধান্ত দিলে ভুলের আশঙ্কা থাকে।
- দায়িত্ব কঠিন হলেও আল্লাহর সাহায্য কামনা করে ন্যায়ের পথে থাকা উচিত।
- সত্য পরিষ্কার হওয়ার জন্য বিচারককে ধৈর্য ও সতর্কতা রাখতে হয়।
