২৫/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৯২ - বিচার ফয়সালার মূলনীতি
বিচারকার্য পরিচালনায় ইজতিহাদ করা
কিতাব, সুন্নাত ও ইজতিহাদে বিচার করার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৩৫৯২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৫৯২
حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ أَبِي عَوْنٍ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَمْرِو بْنِ أَخِي الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ، عَنْ أُنَاسٍ، مِنْ أَهْلِ حِمْصَ مِنْ أَصْحَابِ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمَّا أَرَادَ أَنْ يَبْعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ قَالَ «كَيْفَ تَقْضِي إِذَا عَرَضَ لَكَ قَضَاءٌ» . قَالَ أَقْضِي بِكِتَابِ اللَّهِ . قَالَ «فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي كِتَابِ اللَّهِ " . قَالَ فَبِسُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ . قَالَ " فَإِنْ لَمْ تَجِدْ فِي سُنَّةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَلاَ فِي كِتَابِ اللَّهِ " . قَالَ أَجْتَهِدُ رَأْيِي وَلاَ آلُو . فَضَرَبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ صَدْرَهُ وَقَالَ «الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي وَفَّقَ رَسُولَ رَسُولِ اللَّهِ لِمَا يُرْضِي رَسُولَ اللَّهِ " .
মু’আয ইবনু জাবাল (রাঃ) কতিপয় সঙ্গীর সূত্র হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাঁকে ইয়ামানে পাঠানোর ইচ্ছা করলেন তখন বললেনঃ তোমার নিকট যখন কোন মোকদ্দমা আনা হবে, তখন তুমি কিসের ভিত্তিতে এর ফায়সালা করবে? তিনি বললেন, আল্লাহ্র কিতাব মোতাবেক। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যদি আল্লাহ্র কিতাবে এর কোন ফায়সালা না পাও? মু’আয (রাঃ) বললেন, তাহলে রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সুন্নাত অনুযায়ী। নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি যদি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সুন্নাত এবং আল্লাহ্র কিতাবে এর ফায়সালা না পাও? মু’আয (রাঃ) বললেন, তাহলে আমি ইজতিহাদ করবো এবং অলসতা করবো না। তখন নবী (ﷺ) মু’আযের বুকে হাত মেরে বললেনঃ সকল প্রশংসা সেই আল্লাহ্র জন্য, যিনি তাঁর রাসূলুল্লাহর (ﷺ) প্রতিনিধিকে আল্লাহ্র রাসূলের মনঃপুত কাজ করার তৌফিক দিয়েছেন।
[৩৫৯২] তিরমিযী, আহমাদ। ইমাম বুখারী ‘আত-তারীকুল কাবীর’ গ্রন্থে হারিস ইবনু ‘আমরের জীবনীতে বলেন : হাদীসটি সহীহ নয় এবং তাকে এই মুরসাল বর্ণনা ছাড়া চেনা যায় না। ইমাম তিরমিযী বলেন : আমাদের নিকট এই সানাদটি মুত্তাসিল নয়। হাফিয ‘আত-তাক্বরীব’ গ্রন্থে বলেন : হারিস ইবনু ‘আমর অজ্ঞাত (মাজহুল)। শায়খ আলবানী এর উপর আলোচনা করেছেন যঈফাহ হা/৮৮১।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৫৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচার-ফয়সালার ধাপ খুব সুন্দরভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) মুআয (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠানোর আগে জিজ্ঞেস করলেন, কোনো মামলা এলে তিনি কিসের ভিত্তিতে ফয়সালা করবেন। মুআয (রাঃ) বললেন, আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী। যদি সেখানে না পান, তাহলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সুন্নাত অনুযায়ী। আর যদি কিতাব ও সুন্নাতে নির্দিষ্ট ফয়সালা না পান, তাহলে তিনি নিজের রায়ে ইজতিহাদ করবেন এবং অলসতা করবেন না। নবী (صلى الله عليه وسلم) এতে সন্তুষ্ট হয়ে আল্লাহর প্রশংসা করেন। এই হাদিসে বিচার পদ্ধতি, কুরআন-সুন্নাহর অগ্রাধিকার, এবং দায়িত্বশীল ইজতিহাদের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিচারের প্রথম ভিত্তি আল্লাহর কিতাব।
- কিতাবে নির্দিষ্ট ফয়সালা না পেলে সুন্নাতের দিকে ফিরতে হয়।
- কিতাব ও সুন্নাতে সরাসরি না পেলে দায়িত্বশীল ইজতিহাদের কথা এসেছে।
- বিচারকের অলসতা নয়, সত্য খোঁজার চেষ্টা থাকা দরকার।
