২৬/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৪১ - ইলম অর্জনের ফজিলত ও আলেমের মর্যাদা

জ্ঞানার্জনের ফজিলত

ইলম অর্জনের ফজিলত ও আলেমের মর্যাদা

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৩৬৪১

حَدَّثَنَا مُسَدَّدُ بْنُ مُسَرْهَدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، سَمِعْتُ عَاصِمَ بْنَ رَجَاءِ بْنِ حَيْوَةَ، يُحَدِّثُ عَنْ دَاوُدَ بْنِ جَمِيلٍ، عَنْ كَثِيرِ بْنِ قَيْسٍ، قَالَ كُنْتُ جَالِسًا مَعَ أَبِي الدَّرْدَاءِ فِي مَسْجِدِ دِمَشْقَ فَجَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا أَبَا الدَّرْدَاءِ إِنِّي جِئْتُكَ مِنْ مَدِينَةِ الرَّسُولِ ﷺ لِحَدِيثٍ بَلَغَنِي أَنَّكَ تُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَا جِئْتُ لِحَاجَةٍ . قَالَ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «مَنْ سَلَكَ طَرِيقًا يَطْلُبُ فِيهِ عِلْمًا سَلَكَ اللَّهُ بِهِ طَرِيقًا مِنْ طُرُقِ الْجَنَّةِ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ لَتَضَعُ أَجْنِحَتَهَا رِضًا لِطَالِبِ الْعِلْمِ وَإِنَّ الْعَالِمَ لَيَسْتَغْفِرُ لَهُ مَنْ فِي السَّمَوَاتِ وَمَنْ فِي الأَرْضِ وَالْحِيتَانُ فِي جَوْفِ الْمَاءِ وَإِنَّ فَضْلَ الْعَالِمِ عَلَى الْعَابِدِ كَفَضْلِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ عَلَى سَائِرِ الْكَوَاكِبِ وَإِنَّ الْعُلَمَاءَ وَرَثَةُ الأَنْبِيَاءِ وَإِنَّ الأَنْبِيَاءَ لَمْ يُوَرِّثُوا دِينَارًا وَلاَ دِرْهَمًا وَرَّثُوا الْعِلْمَ فَمَنْ أَخَذَهُ أَخَذَ بِحَظٍّ وَافِرٍ» .

কাসীর ইবনু কায়েস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি আবূ দারদার (রাঃ) সঙ্গে দামেশকের মসজিদে বসা ছিলাম। তখন তার নিকট এক ব্যক্তি এসে বললো, হে আবূ দারদা! আমি একটি হাদীসের জন্য সুদূর মাদীনাতুর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে এসেছি। জানতে পারলাম, আপনি রাসূলুল্লাহর (ﷺ) সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন। এ ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে আমি আসিনি।আবূ দারদা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোন পথ অবলম্বন করে, আল্লাহ্‌ তার পরিবর্তে তাকে জান্নাতের পথসমূহের মধ্যে কোন একটি পথে পৌঁছে দেন। ফেরেশতারা জ্ঞান অন্বেষণকারীর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ডানা বিছিয়ে দেন। জ্ঞানীর জন্য আসমান ও যমীনের যারা আছে তারা আল্লাহর নিকট ক্ষমা ও দোয়া প্রার্থনা করে, এমনকি পানির গভীরে বসবাসকারী মাছও।আবেদ (সাধারণ ইবাদাতগুজারী) ব্যক্তির উপর ‘আলিমের ফাযীলাত হলো যেমন সমস্ত তারকার উপর পূর্ণিমার চাঁদের মর্যাদা। জ্ঞানীরা হলেন নাবীদের উত্তরসূরি। নাবীগণ কোন দীনার বা দিরহাম মীরাসরূপে রেখে যান না; তারা উত্তরাধিকার সূত্রে রেখে যান শুধু ইলম। সুতরাং যে ইলম অর্জন করেছে সে পূর্ণ অংশ গ্রহণ করেছে।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৩৬৪১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইলম অর্জনের ফজিলত খুব সুন্দরভাবে এসেছে। একজন ব্যক্তি শুধু একটি হাদিস জানার জন্য মদিনা থেকে দামেশকে আসেন। এতে বোঝা যায়, দ্বীনি জ্ঞান শেখার আগ্রহ সাহাবীদের কাছে কত বড় বিষয় ছিল। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি জ্ঞানার্জনের জন্য কোনো পথ ধরে, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পথসমূহের একটি পথে পৌঁছে দেন। ফেরেশতারা তালিবুল ইলমের সন্তুষ্টির জন্য ডানা বিছিয়ে দেন। আসমান-জমিনের সৃষ্টিজীব, এমনকি পানির মাছও আলেমের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে। এখানে আলেমের মর্যাদা সাধারণ ইবাদতকারীর চেয়ে পূর্ণিমার চাঁদের মতো বলা হয়েছে। মূল শিক্ষা হলো, ইলম নবীদের রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার; তাই ইলম অর্জন বড় নেয়ামত।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ইলম শেখার জন্য কষ্ট করে পথ চলা বড় ফজিলতের কাজ।
  • আলেমদের মর্যাদা শুধু ইবাদতের কারণে নয়, মানুষকে সঠিক জ্ঞান দেওয়ার কারণেও উঁচু।
  • নবীদের প্রকৃত উত্তরাধিকার দিনার-দিরহাম নয়, বরং ইলম।
  • দ্বীনি জ্ঞান অর্জনকারী আল্লাহর কাছে সম্মানিত পথের যাত্রী।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন