৪০/২৮. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৬০ - দাসীর অধিকার ও ক্ষতিপূরণ
যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করে
জোরপূর্বক সম্পর্ক ও ক্ষতিপূরণের ফয়সালা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৬০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৬০
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ قَبِيصَةَ بْنِ حُرَيْثٍ، عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْمُحَبَّقِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَضَى فِي رَجُلٍ وَقَعَ عَلَى جَارِيَةِ امْرَأَتِهِ إِنْ كَانَ اسْتَكْرَهَهَا فَهِيَ حُرَّةٌ وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا فَإِنْ كَانَتْ طَاوَعَتْهُ فَهِيَ لَهُ وَعَلَيْهِ لِسَيِّدَتِهَا مِثْلُهَا.قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ يُونُسُ بْنُ عُبَيْدٍ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَمَنْصُورُ بْنُ زَاذَانَ وَسَلاَّمٌ عَنِ الْحَسَنِ هَذَا الْحَدِيثَ بِمَعْنَاهُ لَمْ يَذْكُرْ يُونُسُ وَمَنْصُورٌ قَبِيصَةَ.
সালামাহ ইবনুল মুহাব্বিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
জনৈক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তার ব্যাপারে ফয়সালা দিলেন, সে যদি তার সঙ্গে জোরপূর্বক একাজ করে থাকে, তাহলে দাসী আজাদ এবং তার কর্তব্য হলো, তার মতো একটি দাসী তার মনিবকে (স্ত্রীকে) দেয়া। আর যদি আপসে তা হয়ে থাকে, তাহলে সে তার মালিকানায় চলে যাবে এবং দাসীর মনিবকে তার মত একটি দাসী প্রদান করা স্বামীর কর্তব্য হবে। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ইউনুস ইবনু ‘উবাইদ, ‘আমর ইবনু দীনার, মানসূর ইবনু যাযান ও সাল্লাম (রহঃ) আল-হাসান সূত্রে এ হাদীস পূর্বোক্ত হাদীসের অর্থানুরূপ বর্ণনা করেন। ইউনূস ও মানসূর (রহঃ) কাবীসাহ্র (রাঃ) উল্লেখ করেননি।
[৪৪৫৯] নাসায়ী, ইবনু মাজাহ, আহমাদ। এর সানাদে কাবীসাহ বিন হুরাইস রয়েছে। ইমাম বুখারী (রহঃ) বলেনঃ তার হাদীসে আপত্তি আছে। ইবনু কাত্তান (রহঃ) বলেনঃ সে মাজহুল। ইমাম নাসায়ী (রহঃ) বলেনঃ তার হাদীস সহীহ নয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৬০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ব্যক্তি তার স্ত্রীর দাসীর সঙ্গে সঙ্গম করার ঘটনায় নবী صلى الله عليه وسلم-এর ফয়সালা এসেছে। বর্ণনায় দুই অবস্থার পার্থক্য করা হয়েছে। যদি সে দাসীর সঙ্গে জোরপূর্বক এ কাজ করে থাকে, তবে দাসী আজাদ হবে এবং স্বামীর কর্তব্য হবে স্ত্রীর জন্য তার মতো আরেকটি দাসী দেওয়া। আর যদি আপসে তা হয়ে থাকে, তবে সে তার মালিকানায় যাবে এবং স্ত্রীর জন্য তার মতো আরেকটি দাসী দেওয়া তার দায়িত্ব হবে। হাদিসের শেষে ইমাম আবু দাউদ রহ. কয়েকজন রাবির কাছ থেকে একই অর্থের বর্ণনার কথা বলেন এবং কিছু সূত্রে কাবিসা রা.-এর নাম উল্লেখ না থাকার কথা জানান। এই হাদিসে মূল কীওয়ার্ড হলো জোরপূর্বক সম্পর্ক, দাসীর অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও বিচারিক ফয়সালা। ব্যাখ্যায় এটুকুই বলা উচিত যে, বর্ণনায় জোর ও আপস—দুই অবস্থার আলাদা ফল এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জোরপূর্বক কাজ ও আপসের মধ্যে ফয়সালা আলাদা করা হয়েছে।
- দাসীর মুক্তি ও ক্ষতিপূরণের কথা বর্ণনায় এসেছে।
- রাবি-ভেদে সনদের কিছু পার্থক্য ইমাম আবু দাউদ উল্লেখ করেছেন।
- বিচারিক ঘটনায় ভুক্তভোগীর অবস্থাও বিবেচনায় এসেছে।
