৪১/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৮ - ইচ্ছা ছাড়া হত্যার দাবি
শাসক বা বিচারক যদি খুনিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন
কিসাসে সতর্কতা: ইচ্ছা না থাকার দাবি
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৯৮
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৯৮
حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قُتِلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ فَرُفِعَ ذَلِكَ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَدَفَعَهُ إِلَى وَلِيِّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ . قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لِلْوَلِيِّ " أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا ثُمَّ قَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ " . قَالَ فَخَلَّى سَبِيلَهُ . قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ فَسُمِّيَ ذَا النِّسْعَةِ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর যুগে এক ব্যক্তি নিহত হলে ঘটনাটি নবী (ﷺ)-এর নিকট পেশ করা হয়। তখন তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের নিকট সোপর্দ করলেন। হত্যাকারী বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর কসম! তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিলো না। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) অভিভাবককে বললেন, ‘সাবধান! যদি তার কথায় সে সত্যবাদী হয় আর এরপরও তুমি তাকে হত্যা করো তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। তিনি বলেন, অতঃপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হলো। বর্ণনাকারী বলেন, হত্যাকারীর দু’হাত পিছনের দিক হতে চামড়ার লম্বা রশি বাঁধা ছিল এবং সে চামড়ার রশিটি টানতে টানতে চলে গেলো। এজন্য তা নাম দেওয়া হয় যুন-নিস’আহ্ (চামড়ার রশিধারী)।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিসাসের ঘটনায় সতর্ক বিচারবোধের শিক্ষা আছে। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর যুগে এক ব্যক্তি নিহত হলে ঘটনাটি তাঁর কাছে পেশ করা হয়। তিনি হত্যাকারীকে নিহত ব্যক্তির অভিভাবকের হাতে সোপর্দ করেন। তখন হত্যাকারী বলে, আল্লাহর কসম, তাকে হত্যা করার ইচ্ছা আমার ছিল না। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অভিভাবককে সতর্ক করে বলেন, যদি সে সত্যবাদী হয় আর এরপরও তুমি তাকে হত্যা করো, তাহলে তুমি জাহান্নামে যাবে। এরপর অভিভাবক তাকে ছেড়ে দেন। বর্ণনায় আরও আছে, তার দুই হাত চামড়ার রশি দিয়ে বাঁধা ছিল এবং সে রশি টানতে টানতে চলে যায়। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, কিসাসের মতো গুরুতর বিষয়ে তাড়াহুড়া নয়; উদ্দেশ্য, সত্যতা ও সতর্কতা বিবেচনা করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিসাসের ঘটনায় সত্যতা যাচাই ও সতর্কতা জরুরি।
- হত্যার ইচ্ছা ছিল কি না—এটি গুরুতর বিবেচনার বিষয়।
- অন্যায়ভাবে হত্যা করলে কঠোর আখিরাতের সতর্কতা আছে।
- ক্ষমা বা ছেড়ে দেওয়ার পথও বর্ণনায় দেখা যায়।
