৪১/৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৯ - কিসাসে ক্ষমার আহ্বান
শাসক বা বিচারক যদি খুনিকে ক্ষমা করার আদেশ দেন
কিসাসে ক্ষমা, দিয়াত ও হত্যার মাঝে সিদ্ধান্ত
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৪৯৯
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৪৯৯
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ الْجُشَمِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَوْفٍ، حَدَّثَنَا حَمْزَةُ أَبُو عُمَرَ الْعَائِذِيُّ، حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ وَائِلٍ، حَدَّثَنِي وَائِلُ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ كُنْتُ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ إِذْ جِيءَ بِرَجُلٍ قَاتِلٍ فِي عُنُقِهِ النِّسْعَةُ قَالَ فَدَعَا وَلِيَّ الْمَقْتُولِ فَقَالَ " أَتَعْفُو " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَأْخُذُ الدِّيَةَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَقْتُلُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " اذْهَبْ بِهِ " . فَلَمَّا وَلَّى قَالَ " أَتَعْفُو " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَأْخُذُ الدِّيَةَ " . قَالَ لاَ . قَالَ " أَفَتَقْتُلُ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " اذْهَبْ بِهِ " . فَلَمَّا كَانَ فِي الرَّابِعَةِ قَالَ " أَمَا إِنَّكَ إِنْ عَفَوْتَ عَنْهُ يَبُوءُ بِإِثْمِهِ وَإِثْمِ صَاحِبِهِ " . قَالَ فَعَفَا عَنْهُ . قَالَ فَأَنَا رَأَيْتُهُ يَجُرُّ النِّسْعَةَ .
ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম এমতাবস্থায় গলায় চামড়ার রশি বাঁধানো এক হত্যাকারীকে আনা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিহত ব্যক্তির অভিভাবককে ডেকে বললেন, তুমি কি ক্ষমা করে দিবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি কি দিয়াত নিবে? সে বললো, না। তিনি পুনরায় বললেন, তুমি কি হত্যা করবে? সে বললো, হাঁ। তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নির্দেশ দিলেন, একে নিয়ে যাও।সে যখন যেতে উদ্যত হলো, তখন তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পুনরায় বললেন, তুমি কি ক্ষমা করে দিবে? সে বললো, না। তিনি বললেন, তুমি কি রক্তপণ গ্রহণ করবে? সে বললো, না। তিনি প্রশ্ন করলেন, তাহলে তুমি কি হত্যা করবে? সে বললো, হাঁ। তিনি বললেন, একে নিয়ে যাও। এভাবে চতুর্থবারে তিনি বললেন, জেনে রাখো, তুমি তাকে ক্ষমা করে দিলে সে নিজের ও তার সাথীর গুনাহ নিয়ে ফিরতো। বর্ণনাকারী বলেন, অতএব সে তাকে ক্ষমা করে দিলো। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাকে (হত্যাকারীকে) চামড়ার রশি টেনে টেনে চলে যেতে দেখেছি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৪৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ওয়াইল ইবনু হুজর (রাঃ) এমন একটি ঘটনা বর্ণনা করেন যেখানে গলায় চামড়ার রশি বাঁধা এক হত্যাকারীকে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে আনা হয়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) নিহত ব্যক্তির অভিভাবককে ডেকে বারবার প্রশ্ন করেন—তুমি কি ক্ষমা করবে, দিয়াত নেবে, নাকি হত্যা করবে? অভিভাবক প্রথমে ক্ষমা ও দিয়াত নিতে অস্বীকার করে কিসাস নিতে চায়। নবী (صلى الله عليه وسلم) কয়েকবার একই প্রশ্ন করেন। চতুর্থবারে তিনি বলেন, যদি তুমি তাকে ক্ষমা করো, তবে সে নিজের ও তার সাথীর গুনাহ নিয়ে ফিরবে। এরপর অভিভাবক তাকে ক্ষমা করে দেয়। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি হত্যাকারীকে চামড়ার রশি টেনে টেনে চলে যেতে দেখেছেন। এই হাদিসে কিসাসের অধিকার, দিয়াতের পথ এবং ক্ষমার আহ্বান একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিসাসের ঘটনায় ক্ষমা, দিয়াত ও কিসাস—তিনটি পথ সামনে রাখা হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) বারবার ক্ষমার সুযোগ খুলে দিয়েছেন।
- ক্ষমা প্রতিশোধের আগুন কমাতে সাহায্য করতে পারে।
- গুরুতর সিদ্ধান্তে তাড়াহুড়া না করে ভাবার শিক্ষা আছে।
