৪৩/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮১ - গীবতের ভয়াবহ পরিণাম
গীবত সম্পর্কে
গীবত ও কুৎসার ভয়াবহ পরিণাম
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮৮১
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৮১
حَدَّثَنَا حَيْوَةُ بْنُ شُرَيْحٍ الْمِصْرِيُّ، حَدَّثَنَا بَقِيَّةُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ وَقَّاصِ بْنِ رَبِيعَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ، أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ «مَنْ أَكَلَ بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ أَكْلَةً فَإِنَّ اللَّهَ يُطْعِمُهُ مِثْلَهَا مِنْ جَهَنَّمَ وَمَنْ كُسِيَ ثَوْبًا بِرَجُلٍ مُسْلِمٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَكْسُوهُ مِثْلَهُ مِنْ جَهَنَّمَ وَمَنْ قَامَ بِرَجُلٍ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ فَإِنَّ اللَّهَ يَقُومُ بِهِ مَقَامَ سُمْعَةٍ وَرِيَاءٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .
আল-মুসতাওরিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের গীবত করে এক লোকমা ভক্ষণ করবে আল্লাহ তাকে এজন্য জাহান্নাম হতে সমপরিমাণ ভক্ষণ করাবেন। আর যে ব্যক্তি অপর মুসলিমের দোষত্রুটি বর্ণনার পোশাক পরবে আল্লাহ তাকে অনুরূপ জাহান্নামের পোশাক পরাবেন। আর যে ব্যক্তি অপর ব্যক্তির (কুৎসা) রটিয়ে খ্যাতি ও প্রদর্শনীর স্তরে পৌছবে, মহান আল্লাহ কিয়ামতের দিন তাকে ঐ খ্যাতি ও প্রদর্শনীর জায়গাতেই (জাহান্নামে) স্থান দিবেন।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে গীবত, কুৎসা রটানো এবং মানুষের মান-ইজ্জত নষ্ট করে নিজের লাভ বা খ্যাতি পাওয়ার ভয়ংকর পরিণাম বলা হয়েছে। কেউ যদি অন্য মুসলিমের বদনাম করে এক লোকমা খাবারের মতো লাভ নেয়, হাদিসে বলা হয়েছে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে তার মতোই ভক্ষণ করাবেন। আবার কারো দোষ তুলে ধরে পোশাক বা সম্মানের মতো কোনো সুবিধা পেলে তার জন্যও অনুরূপ কঠিন শাস্তির কথা এসেছে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মুসলিমের সম্মান নিয়ে খেলা করা ছোট বিষয় নয়। গীবত শুধু কথার ভুল নয়; এটি অন্যের মর্যাদা নষ্ট করে এবং নিজের আমলকেও বিপদে ফেলে। সুমআ ও রিয়া, অর্থাৎ কুৎসা রটিয়ে লোকের চোখে বড় হতে চাওয়া, কেয়ামতের দিন অপমানের কারণ হতে পারে। তাই জিহ্বা, পোস্ট, মন্তব্য ও গল্প—সব জায়গায় সতর্ক থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গীবত করে সামান্য দুনিয়াবি লাভ নেওয়া আখিরাতের কঠিন জবাবদিহির কারণ হতে পারে।
- অন্য মুসলিমের সম্মান নষ্ট করে নিজের খ্যাতি বাড়ানো নিন্দনীয় কাজ।
- লোক দেখানো ও কুৎসা রটানোর মাধ্যমে পাওয়া মর্যাদা নিরাপদ মর্যাদা নয়।
- কথা বলার আগে ভাবা উচিত, এতে কারো মান-ইজ্জত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না।
