৪৩/৪০. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮২ - মুসলিমের জীবন-সম্পদ-সম্মান
গীবত সম্পর্কে
মুসলিমের সম্মান, সম্পদ ও জীবন রক্ষার শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৮৮২
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৮৮২
حَدَّثَنَا وَاصِلُ بْنُ عَبْدِ الأَعْلَى، حَدَّثَنَا أَسْبَاطُ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ هِشَامِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " كُلُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ حَرَامٌ مَالُهُ وَعِرْضُهُ وَدَمُهُ حَسْبُ امْرِئٍ مِنَ الشَّرِّ أَنْ يَحْقِرَ أَخَاهُ الْمُسْلِمَ» .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ একজন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ, সম্মান ও জীবনের হস্তক্ষেপ করা হারাম। কোন ব্যক্তির নিকৃষ্ট প্রমাণিত হওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করবে।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৮৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস মুসলিম সমাজের নিরাপত্তা ও ভ্রাতৃত্বের একটি বড় ভিত্তি শেখায়। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, একজন মুসলিমের জন্য অন্য মুসলিমের সম্পদ, সম্মান ও জীবন অবৈধ হস্তক্ষেপ থেকে নিরাপদ। অর্থাৎ কারো টাকা-পয়সা, শরীর, জীবন, নাম-সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা নিয়ে অন্যায় করা ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। হাদিসের শেষ অংশটি খুব গভীর: একজন মানুষের নিকৃষ্ট হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে সে তার মুসলিম ভাইকে তুচ্ছ মনে করে। এখানে অহংকার, অবজ্ঞা ও হেয় করা—সবই সতর্কতার বিষয়। অনেক সময় মানুষ সরাসরি ক্ষতি না করলেও কথা, ভঙ্গি বা আচরণে অন্যকে ছোট করে। এই হাদিস বলে, মুসলিমের সম্মান রক্ষা করা ঈমানি আচরণের অংশ। তাই কারো সম্পদে অন্যায় হস্তক্ষেপ, কারো জীবন নিয়ে জুলুম, কিংবা কারো মানহানি—সবকিছু থেকে দূরে থাকা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিমের সম্পদ, জীবন ও সম্মান অন্য মুসলিমের কাছে নিরাপদ থাকা উচিত।
- কাউকে তুচ্ছ মনে করা হৃদয়ের অহংকার ও খারাপ আচরণের লক্ষণ।
- সম্মানহানি শুধু সামাজিক অপরাধ নয়; এটি দ্বীনি জবাবদিহির বিষয়।
- ভাইয়ের মর্যাদা রক্ষা করা মুসলিম ভ্রাতৃত্বের অংশ।
