২/২৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০ - কবরস্থান ও বাবিলে সালাত নিষেধ
যেসব জায়গায় সালাত আদায় করা জায়েয নয়
কোথায় সালাত পড়া যাবে না: কবরস্থান ও বাবিলের বর্ণনা
সুনানে আবূ দাউদ : ৪৯০
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯০
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ دَاوُدَ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ لَهِيعَةَ، وَيَحْيَى بْنُ أَزْهَرَ، عَنْ عَمَّارِ بْنِ سَعْدٍ الْمُرَادِيِّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ الْغِفَارِيِّ، أَنَّ عَلِيًّا، - رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ - مَرَّ بِبَابِلَ وَهُوَ يَسِيرُ فَجَاءَهُ الْمُؤَذِّنُ يُؤَذِّنُ بِصَلاَةِ الْعَصْرِ فَلَمَّا بَرَزَ مِنْهَا أَمَرَ الْمُؤَذِّنَ فَأَقَامَ الصَّلاَةَ فَلَمَّا فَرَغَ قَالَ إِنَّ حَبِيبِي ﷺ نَهَانِي أَنْ أُصَلِّيَ فِي الْمَقْبُرَةِ وَنَهَانِي أَنْ أُصَلِّيَ فِي أَرْضِ بَابِلَ فَإِنَّهَا مَلْعُونَةٌ.
আবূ সালিহ আল-গিফারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক সফরে ‘আলী (রাঃ) বাবিল নামক শহর অতিক্রমকালে তাঁর কাছে মুয়াজ্জিন এসে ‘আসরের সালাতের আযান দেয়ার অনুমতি চাইল। কিন্তু তিনি বাবিল শহর থেকে বেরিয়ে এসে মুয়াজ্জিনকে ইক্বামাত বলার নির্দেশ দিলেন। মুয়াজ্জিন ইক্বামত দিলে তিনি সালাত আদায় করলেন এবং সালাত শেষে বললেন, আমার প্রিয় বন্ধু [নবী (ﷺ) ] আমাকে ক্ববরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অনুরূপভাবে আমাকে বাবিলের জমিনে সালাত আদায় করতেও নিষেধ করেছেন। কারণ তা অভিশপ্ত জমিন।
[১] বায়হাক্বী (২/৪৫১), ইবনু ‘আবদুল বার ‘তামহীদ’ (৫/২১২, ২২০), ইবনু হাজার ‘ফাতহুল বারী’ (১/৬৩) গ্রন্থে এটি বর্ণনা করে বলেন, এর সানাদে দুর্বলতা আছে। ইবনু ‘আবদুল বার বলেন, এর সানাদ দুর্বল হওয়ার ব্যাপারে সকলে একমত। পাশাপাশি সানাদটি মুনকাতি, মুত্তাসিল নয়। সানাদে ‘আলী, ‘আম্মার হাজ্জাহ এবং ইয়াহইয়া এর সকলেই অজ্ঞাত। এদেরকে চেনা যায়নি। সানাদে ইবনু লাহী‘আহ ও ইয়াহইয়া ইবনু আযহার দু’জনেই দুর্বল। তাদের দ্বারা দলীল দেয়া যাবে না। সানাদে আবূ সালিহ হচ্ছে সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান আল-গিফারী মিসরী, তিনিও প্রসিদ্ধ নন, তাছাড়া ‘আলী সূত্রে তার শ্রবণের কথাটি সহীহ নয়। ‘আওনুল মা’বুদে রয়েছেঃ সানাদে ইবনু লাহী‘আহ দুর্বল। আল্লামা খাত্তাবী বলেন, এ হাদীসের সানাদ সমালোচিত। আল্লামা মুনযিরী বলেন, সানাদে আবূ সালিহ হচ্ছে সাঈদ ইবনু ‘আবদুর রহমান, যিনি গিফারী গোত্রের আযাদকৃত গোলাম। ইবনু ইউনূস বলেন, তিনি ‘আলী ইবনু আবূ ত্বালিব সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেন, আমি মনে করি না যে, তিনি ‘আলী থেকে শুনেছেন। আল্লামা আইনী বলেন, ইবনু কাত্তান বলেছেন, এ হাদীসের সানাদে এমন কিছু লোক রয়েছে যাদেরকে চেনা যায় না। ‘আবদুল হাক্ব বলেন, হাদীসটি নিকৃষ্ট। ইমাম বায়হাক্বী ‘মা’রিফাহ’ গ্রন্থে বলেন, এর সানাদ মজবুত নয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী (রাঃ)-এর একটি সফরের ঘটনা এসেছে। তিনি বাবিল শহর অতিক্রম করছিলেন। তখন আসরের সালাতের জন্য মুয়াজ্জিন আজানের অনুমতি চাইলে তিনি বাবিল শহর থেকে বেরিয়ে আসেন। তারপর ইকামত দিতে বলেন এবং সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি বলেন, তাঁর প্রিয় বন্ধু নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে কবরস্থানে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। একইভাবে বাবিলের জমিনেও সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন, কারণ তা অভিশপ্ত জমিন। এই বর্ণনা থেকে বোঝা যায়, সালাতের স্থান নির্বাচনে সতর্কতা আছে। যদিও অন্য বর্ণনায় সমগ্র জমিনকে মসজিদ বলা হয়েছে, এখানে নির্দিষ্ট নিষেধের কথা এসেছে। তাই সালাতের জায়গা, কবরস্থানে নামাজ এবং বাবিলের জমিন—এই বিষয়গুলো আলাদা করে বুঝতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আলী (রাঃ) বাবিল থেকে বেরিয়ে সালাত আদায় করেন।
- কবরস্থানে সালাত নিষেধের কথা এই বর্ণনায় এসেছে।
- বাবিলের জমিনে সালাত আদায় থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে।
- সালাতের জায়গা নির্বাচনে শুধু সুবিধা নয়, নির্দেশও দেখা দরকার।
