৪৩/৭০. অধ্যায়ঃ

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৫৫ - আবুল হাকাম থেকে আবু শুরাইহ

মন্দ নাম পরিবর্তন করা

আবুল হাকাম নয়, আবু শুরাইহ: উপনামের আদব

সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৪৯৫৫

حَدَّثَنَا الرَّبِيعُ بْنُ نَافِعٍ، عَنْ يَزِيدَ، - يَعْنِي ابْنَ الْمِقْدَامِ بْنِ شُرَيْحٍ - عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، شُرَيْحٍ عَنْ أَبِيهِ، هَانِئٍ أَنَّهُ لَمَّا وَفَدَ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ مَعَ قَوْمِهِ سَمِعَهُمْ يَكْنُونَهُ بِأَبِي الْحَكَمِ فَدَعَاهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ " إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَكَمُ وَإِلَيْهِ الْحُكْمُ فَلِمَ تُكْنَى أَبَا الْحَكَمِ " . فَقَالَ إِنَّ قَوْمِي إِذَا اخْتَلَفُوا فِي شَىْءٍ أَتَوْنِي فَحَكَمْتُ بَيْنَهُمْ فَرَضِيَ كِلاَ الْفَرِيقَيْنِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا أَحْسَنَ هَذَا فَمَا لَكَ مِنَ الْوَلَدِ " . قَالَ لِي شُرَيْحٌ وَمُسْلِمٌ وَعَبْدُ اللَّهِ . قَالَ " فَمَنْ أَكْبَرُهُمْ " . قُلْتُ شُرَيْحٌ قَالَ " فَأَنْتَ أَبُو شُرَيْحٍ " .قَالَ أَبُو دَاوُدَ شُرَيْحٌ هَذَا هُوَ الَّذِي كَسَرَ السِّلْسِلَةَ وَهُوَ مِمَّنْ دَخَلَ تُسْتَرَ. قَالَ أَبُو دَاوُدَ وَبَلَغَنِي أَنَّ شُرَيْحًا كَسَرَ بَابَ تُسْتَرَ وَذَلِكَ أَنَّهُ دَخَلَ مِنْ سِرْبٍ.

হানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি যখন তাঁর গোত্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসলেন, তখন তিনি (ﷺ) তাঁর গোত্রের লোকদেরকে তাঁকে আবুল হাকাম উপনামে ডাকতে শুনে তাঁকে ডেকে বললেন, আল্লাহই হলেন হাকাম এবং তাঁর নিকটই ন্যায়বিচার ও নির্দেশ। তোমার উপনাম কি করে আবুল হাকাম হলো? তিনি বললেন, আমার গোত্রের লোকজনের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে তাঁরা মীমাংসার জন্য আমার নিকট আসে। আমি যে সিদ্ধান্ত দেই তাতে তাঁরা উভয় পক্ষই সন্তুষ্ট হয়ে যায়।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এটাতো খুবই উত্তম কাজ! তোমার কি কোন সন্তান আছে? হানী (রাঃ) বললেন, শুরাইহ, মুসলিম ও আবদুল্লাহ নামে আমার তিনটি ছেলে আছে। তিনি বললেন, এদের মধ্যে বড় কে? আমি বললাম, শুরাইহ। তিনি বললেন, তাহলে তুমি আবূ শুরাইহ।

ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, ইনি হলেন সেই শুরাইহ (রাঃ) যিনি শিকল ভেঙ্গেছিলেন এবং তুসতার (দুর্গে) প্রবেশ করেছিলেন। ইমাম আবূ দাউদ (রহঃ) বলেন, আমি জানতে পেরেছি যে, শু্রাইহ (রাঃ) তুসতার দুর্গের প্রবেশ পথ ভেঙ্গে ফেলেন এবং একটি সুড়ঙ্গ পথে তাতে প্রবেশ করেন।

সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৪৯৫৫-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হানী (রাঃ)-এর ঘটনা এসেছে। তাঁর গোত্র তাঁকে আবুল হাকাম বলে ডাকত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) শুনে বললেন, আল্লাহই হাকাম এবং তাঁর কাছেই বিচার ও নির্দেশ। এরপর জিজ্ঞেস করলেন, তোমার উপনাম আবু হাকাম হলো কীভাবে? তিনি বললেন, গোত্রের লোকদের মধ্যে বিবাদ হলে তারা তাঁর কাছে আসে, তিনি মীমাংসা করেন এবং উভয় পক্ষ সন্তুষ্ট হয়। নবী (صلى الله عليه وسلم) এই কাজকে ভালো বললেন, তবে উপনাম বদলে দিলেন। তাঁর সন্তানদের নাম জিজ্ঞেস করে বড় ছেলের নাম শুরাইহ জানতে পেরে বললেন, তুমি আবু শুরাইহ। এই হাদিসে বোঝা যায়, ভালো কাজ প্রশংসিত হতে পারে, কিন্তু এমন উপনাম এড়ানো উচিত যা আল্লাহর বিশেষ নাম বা মর্যাদার সঙ্গে অসতর্কভাবে যুক্ত হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • বিচার ও নির্দেশের চূড়ান্ত মালিক আল্লাহ।
  • মানুষের মাঝে মীমাংসা করা ভালো কাজ হতে পারে।
  • উপনামেও শালীনতা ও সঠিক অর্থের প্রতি খেয়াল রাখা দরকার।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) ভালো কাজ স্বীকার করেছেন, তবে নাম সংশোধন করেছেন।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন