৪৩/১৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫১৬৭ - চড়ের বদলে মুক্তির শিক্ষা
দাস-দাসীর হক
দাসকে চড় মারলে ন্যায় ও মুক্তির পথ
সুনানে আবূ দাউদ : ৫১৬৭
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫১৬৭
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا يَحْيَى، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ كُهَيْلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ سُوَيْدِ بْنِ مُقَرِّنٍ، قَالَ لَطَمْتُ مَوْلًى لَنَا فَدَعَاهُ أَبِي وَدَعَانِي فَقَالَ اقْتَصَّ مِنْهُ فَإِنَّا مَعْشَرَ بَنِي مُقَرِّنٍ كُنَّا سَبْعَةً عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ ﷺ وَلَيْسَ لَنَا إِلاَّ خَادِمٌ . فَلَطَمَهَا رَجُلٌ مِنَّا فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَعْتِقُوهَا». قَالُوا إِنَّهُ لَيْسَ لَنَا خَادِمٌ غَيْرَهَا . قَالَ " فَلْتَخْدُمْهُمْ حَتَّى يَسْتَغْنُوا فَإِذَا اسْتَغْنَوْا فَلْيُعْتِقُوهَا " .
মু’আবিয়াহ ইবনু সুয়াইদ ইবনু মুক্বাররিন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আমাদের এক দাসকে চড় মারলাম। আমার পিতা তাকে ও আমাকে ডেকে বললেন, তুমি তার থেকে প্রতিশোধ নাও। আমার নবী (ﷺ)-এর যুগে মুক্বাররিন গোত্রের সাত ভাই ছিলাম। আমাদের মাত্র একটি খাদেম ছিল। আমাদের মধ্যকার একজন তাকে চড় মারলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ একে মুক্ত করে দাও। তারা বললো, এছাড়া আমাদের কোন খাদেম নেই। তিনি বললেনঃ এরা স্বাবলম্বী না হওয়া পর্যন্ত সে তাদের সেবা করবে। তারা স্বাবলম্বী হলে তাকে যেন মুক্ত করে দেয়া হয়।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫১৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বর্ণনাকারী বলেন, তিনি এক দাসকে চড় মারেন। তার পিতা তাকে ও দাসকে ডেকে বলেন, তুমি তার থেকে প্রতিশোধ নাও। এরপর তিনি বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর যুগে বনী মুকাররিনের সাত ভাই ছিল এবং তাদের মাত্র একটি খাদেম ছিল। তাদের একজন সেই খাদেমকে চড় মারলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেন, তাকে মুক্ত করে দাও। তারা জানায়, তাদের আর কোনো খাদেম নেই। তখন নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তারা স্বাবলম্বী হওয়া পর্যন্ত সে তাদের সেবা করবে; স্বাবলম্বী হলে তাকে মুক্ত করে দেবে। এখানে অধীনদের প্রতি ন্যায়, ক্ষতিপূরণ ও মুক্তির শিক্ষা একসঙ্গে এসেছে। হাদিসটি দেখায়, দাস বা কর্মীর সঙ্গে অন্যায় আচরণ করলে বিষয়টি হালকা করে চাপা দেওয়া যায় না। ভুলের পর দায়িত্ব নিতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অধীন ব্যক্তিকে চড় মারা অন্যায়, এর জবাবদিহি আছে।
- ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির প্রতিশোধের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।
- অবস্থা বিবেচনায় রেখেও মুক্তির নির্দেশ বজায় রাখা হয়েছে।
