৪৩/১৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫১৮৫ - সালাম, মেহমানদারি ও দোয়া
অনুমতি নিতে কতবার সালাম দিবে?
সালাম ও মেহমানদারির নববী আদব
সুনানে আবূ দাউদ : ৫১৮৫
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৫১৮৫
حَدَّثَنَا هِشَامٌ أَبُو مَرْوَانَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، - الْمَعْنَى - قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ يَحْيَى بْنَ أَبِي كَثِيرٍ، يَقُولُ حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ زَارَنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي مَنْزِلِنَا فَقَالَ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . فَرَدَّ سَعْدٌ رَدًّا خَفِيًّا .قَالَ قَيْسٌ فَقُلْتُ أَلاَ تَأْذَنُ لِرَسُولِ اللَّهِ ﷺ . فَقَالَ ذَرْهُ يُكْثِرْ عَلَيْنَا مِنَ السَّلاَمِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . فَرَدَّ سَعْدٌ رَدًّا خَفِيًّا ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ اللَّهِ " . ثُمَّ رَجَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَاتَّبَعَهُ سَعْدٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي كُنْتُ أَسْمَعُ تَسْلِيمَكَ وَأَرُدُّ عَلَيْكَ رَدًّا خَفِيًّا لِتُكْثِرَ عَلَيْنَا مِنَ السَّلاَمِ .قَالَ فَانْصَرَفَ مَعَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَأَمَرَ لَهُ سَعْدٌ بِغِسْلٍ فَاغْتَسَلَ ثُمَّ نَاوَلَهُ مِلْحَفَةً مَصْبُوغَةً بِزَعْفَرَانٍ أَوْ وَرْسٍ فَاشْتَمَلَ بِهَا ثُمَّ رَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ وَهُوَ يَقُولُ " اللَّهُمَّ اجْعَلْ صَلَوَاتِكَ وَرَحْمَتَكَ عَلَى آلِ سَعْدِ بْنِ عُبَادَةَ " . قَالَ ثُمَّ أَصَابَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مِنَ الطَّعَامِ فَلَمَّا أَرَادَ الاِنْصِرَافَ قَرَّبَ لَهُ سَعْدٌ حِمَارًا قَدْ وَطَّأَ عَلَيْهِ بِقَطِيفَةٍ فَرَكِبَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ سَعْدٌ يَا قَيْسُ اصْحَبْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ . قَالَ قَيْسٌ فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «ارْكَبْ». فَأَبَيْتُ ثُمَّ قَالَ " إِمَّا أَنْ تَرْكَبَ وَإِمَّا أَنْ تَنْصَرِفَ " . قَالَ فَانْصَرَفْتُ .قَالَ هِشَامٌ أَبُو مَرْوَانَ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَسْعَدَ بْنِ زُرَارَةَ . قَالَ أَبُو دَاوُدَ رَوَاهُ عُمَرُ بْنُ عَبْدِ الْوَاحِدِ وَابْنُ سَمَاعَةَ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ مُرْسَلاً وَلَمْ يَذْكُرَا قَيْسَ بْنَ سَعْدٍ .
ক্বাইস ইবনু সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সঙ্গে দেখা করতে আমাদের বাড়িতে আসলেন। তিনি বললেন, আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহ্মাতুল্লাহ। বর্ণনাকারী বলেন, সা’দ (রাঃ) আস্তে সালামের উত্তর দিলেন। ক্বাইস (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে প্রবেশের অনুমতি দিবেন না? তিনি বললেন, থামো, তাঁকে বেশী বেশী আমাদেরকে সালাম দিতে দাও। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। সা’দ (রাঃ) এবারেও আস্তে সালামের জবাব দিলেন। পুনরায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আস্সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। অতঃপর তিনি ফিরে যেতে থাকলেন।সা’দ (রাঃ) তাঁর পিছনে পিছনে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাত করে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! নিশ্চয়ই আমি আপনার সালাম শুনতে পারছিলাম এবং চুপে চুপে সালামের জবাব দিচ্ছিলাম, যাতে আপনি বেশী বেশী সালাম দেন। বর্ণনাকারী বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সঙ্গে ফিরে আসলেন এবং সা’দ (রাঃ) তাঁর গোসলের জন্য পানি এনে দিতে নির্দেশ দিলেন, অতঃপর তিনি গোসল করলেন। এরপর তাঁকে জাফরান বা ওয়ার্স দ্বারা রঞ্জিত একটি চাদর দিলেন। তিনি তা পরিধান করলেন। অতঃপর দু’হাত তুলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ হে আল্লাহ! তুমি সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ্র পরিবার-পরিজনের উপর শান্তি ও রহমত বর্ষণ করো।বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে খাবার দেয়া হলো। তিনি (ﷺ) যখন রওয়ানা করার জন্য প্রস্তুত হলেন, তখন সা’দ (রাঃ) পিঠে মখমলের চাদর বা গদি বিছানো একটি সুসজ্জিত গাধা এনে তাঁর নিকটবর্তী করলেন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাতে আরোহণ করলেন। সা’দ (রাঃ) বললেন, হে ক্বাইস! রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে যাও। ক্বাইস (রাঃ) বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে বললেনঃ আরোহণ করো। কিন্তু আমি সম্মত হলাম না। অতঃপর তিনি (ﷺ) বললেনঃ আরোহণ করো নতুবা ফিরে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ফিরে এলাম।
[৫১৮৩] আহমাদ। সানাদের মুহাম্মাদ ইবনু ‘আবদুর রহমান হাদীসটি ক্বাইস হতে শুনেন নি। সুতরাং এটা মুনতাকি। হাফিয বলেনঃ সঠিক কথা হলো উভয়ের মাঝে আরেকজন ব্যক্তি রয়েছেন। ইমাম আবূ দাঊদ (রহঃ) বলেন, ‘উমর ইবনু ‘আবদুল ওয়াহিদ ও ইবনু সাম’আহ (রহঃ) আল-আওয়াঈর (রহঃ) হাদীসটি মুরসালরূপে বর্ণনা করেছেন এবং তাঁরা উভয়ে ক্বাইস ইবনু সা’দ (রাঃ)-এর উল্লেখ করেননি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৫১৮৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি সুন্দর সফরের ঘটনা এসেছে। তিনি সা’দ (রাঃ)-এর বাড়িতে এসে সালাম দেন। সা’দ (রাঃ) আস্তে জবাব দেন, যেন নবী (صلى الله عليه وسلم) বারবার সালাম দেন। পরে তিনি ব্যাখ্যা করেন, তিনি সালাম শুনছিলেন এবং চুপে জবাব দিচ্ছিলেন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফিরে এসে গোসল করেন, চাদর পরেন, খাবার গ্রহণ করেন এবং দুই হাত তুলে সা’দ ইবনু উবাদার পরিবার-পরিজনের জন্য শান্তি ও রহমতের দোয়া করেন। এই হাদিসে সালামের বরকত, মেহমানদারির সৌন্দর্য এবং দোয়ার গুরুত্ব স্পষ্ট। এখানে কোনো অতিরিক্ত দাবি নেই; বরং দেখা যায়, সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সালামকে ভালোবাসতেন এবং তাঁর সান্নিধ্যকে সম্মান করতেন। একই সঙ্গে মেহমানকে সম্মান দেওয়া ও বিদায়ের সময় সহযোগিতা করার আদবও এতে আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাম মুসলিম সম্পর্কের সুন্দর ও বরকতময় আদব।
- মেহমানকে সম্মান ও যত্ন করা ভালো আচরণের অংশ।
- পরিবারের জন্য শান্তি ও রহমতের দোয়া করা উত্তম।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সাহাবীদের ভালোবাসা ও আদব এই ঘটনায় দেখা যায়।
