২/১২৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৮৬ - আনফাল ও বারাআতের বিন্যাস
সশব্দে বিসমিল্লাহ পাঠের বর্ণনা
সূরা আনফাল ও বারাআতের মাঝে বিসমিল্লাহ না লেখার কারণ
সুনানে আবূ দাউদ : ৭৮৬
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ৭৮৬
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ عَوْفٍ، عَنْ يَزِيدَ الْفَارِسِيِّ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ، قَالَ قُلْتُ لِعُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ مَا حَمَلَكُمْ أَنْ عَمَدْتُمْ، إِلَى بَرَاءَةَ وَهِيَ مِنَ الْمِئِينَ وَإِلَى الأَنْفَالِ وَهِيَ مِنَ الْمَثَانِي فَجَعَلْتُمُوهُمَا فِي السَّبْعِ الطُّوَلِ وَلَمْ تَكْتُبُوا بَيْنَهُمَا سَطْرَ ﴾ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ قَالَ عُثْمَانُ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ مِمَّا يَنْزِلُ عَلَيْهِ الآيَاتُ فَيَدْعُو بَعْضَ مَنْ كَانَ يَكْتُبُ لَهُ وَيَقُولُ لَهُ «ضَعْ هَذِهِ الآيَةَ فِي السُّورَةِ الَّتِي يُذْكَرُ فِيهَا كَذَا وَكَذَا» .وَتَنْزِلُ عَلَيْهِ الآيَةُ وَالآيَتَانِ فَيَقُولُ مِثْلَ ذَلِكَ وَكَانَتِ الأَنْفَالُ مِنْ أَوَّلِ مَا أُنْزِلَ عَلَيْهِ بِالْمَدِينَةِ وَكَانَتْ بَرَاءَةُ مِنْ آخِرِ مَا نَزَلَ مِنَ الْقُرْآنِ وَكَانَتْ قِصَّتُهَا شَبِيهَةً بِقِصَّتِهَا فَظَنَنْتُ أَنَّهَا مِنْهَا فَمِنْ هُنَاكَ وَضَعْتُهُمَا فِي السَّبْعِ الطُّوَلِ وَلَمْ أَكْتُبْ بَيْنَهُمَا سَطْرَ ﴾ بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ ﴿ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘উসমান(রাঃ)-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনারা কিভাবে সূরা বারাআতকে সূরা আল-আনফালের অন্তর্ভুক্ত করে আল-কোরআনের আস-সাব‘উত তিওয়াল (সাতটি দীর্ঘ সূরা)-এর মধ্যে গণ্য করেন এবং উভয় সূরার মধ্যস্থলে বিসমিল্লা-হির রহমা-নির রহীম কেন লিখেন না? অথচ সূরা বারাআত মিআতাইন (তথা ১০০-এর অধিক আয়াত সম্বলিত সূরা)-এর অন্তর্ভুক্ত (কারণ সূরা বারাআতে ১২৯টি আয়াত আছে)। পক্ষান্তরে সূরা আল-আনফাল মাসানীর অন্তর্ভুক্ত (কারণ তাতে আয়াতের সংখ্যা ১০০-এর কম অর্থাৎ ৭৫ টি)।‘উসমান (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) -এর উপর কোন আয়াত অবতীর্ণ হওয়া মাত্রই তিনি ওহী লিখক সাহাবীদের ডেকে বলতেন: এ আয়াত অমুক সূরার অমুক স্থানে সন্নিবেশিত কর যেখানে এই এই বিষয় আলোচিত হয়েছে। তাঁর উপর একটি অথবা দু’টি আয়াত অবতীর্ণ হলেও তিনি ঐরুপ বলতেন।সূরা আল-আনফাল হচ্ছে মাদীনাহতে আগমণের পরপরই নবী (ﷺ) -এর উপর অবতীর্ণ সূরা সমূহের অন্যতম সূরা। আর সূরা বারাআত হচ্ছে কোরআন অবতীর্ণের শেষ পর্যায়ে নাযিলকৃত সূরা সমূহের অন্যতম। তথাপি সূরা আল-আনফালের ঘটনাবলীর সাথে সূরা বারাআতে বর্ণিত ঘটনাবলীর সাদৃশ্য আছে। সেজন্য আমার মনে হলো, এটি সূরা আল-আনফালের অন্তর্ভুক্ত। তাই আমি সূরা দুটি একত্রে সাব‘উ-তিওয়াল-এর অন্তর্ভুক্ত করি এবং এ উভয় সূরা মধ্যস্থলে বিসমিল্লাহ-হির রহমা-নির রহীম লিখি নাই।
[৭৮৫]
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ৭৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবন আব্বাস (রাঃ) উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-কে একটি প্রশ্ন করেন। প্রশ্নটি ছিল, সূরা বারাআত মিয়াইন শ্রেণির এবং সূরা আনফাল মাসানী শ্রেণির হওয়া সত্ত্বেও কেন দুটিকে সাতটি দীর্ঘ সূরার মধ্যে রাখা হলো এবং তাদের মাঝখানে ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ লেখা হলো না। উসমান (রাঃ) জানান, নবী صلى الله عليه وسلم-এর ওপর আয়াত নাজিল হলে তিনি লেখকদের বলতেন, এই আয়াত অমুক সূরার অমুক স্থানে রাখো। আনফাল মদীনায় প্রথমদিকে নাজিল হওয়া সূরাগুলোর একটি, আর বারাআত শেষ পর্যায়ের সূরাগুলোর একটি। দুটির বিষয়বস্তু মিল থাকায় উসমান (রাঃ) ধারণা করেন, বারাআত আনফালের অংশ হতে পারে। তাই তিনি দুটিকে সাব‘উতিওয়াল-এ রাখেন এবং মাঝখানে বিসমিল্লাহ লেখেননি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআনের আয়াতের স্থান নির্ধারণে নবী صلى الله عليه وسلم নির্দেশ দিতেন।
- সূরা আনফাল ও বারাআতের মাঝে বিসমিল্লাহ না লেখার একটি বর্ণিত কারণ রয়েছে।
- সাহাবীরা কুরআনের বিন্যাসের বিষয়ে সতর্কভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
- প্রশ্ন করে জানা সাহাবীদের শিক্ষার একটি সুন্দর পদ্ধতি ছিল।
