১৫/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০১৪ - খুতবায় বৃষ্টির দোয়া ও অতিবৃষ্টি সরানোর দোয়া
কিবলার দিকে মুখ না করে জুমার খুতবায় বৃষ্টির জন্য দোয়া করা।
জুমার খুতবায় বৃষ্টির দোয়া: ইস্তিসকার সহজ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১০১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০১৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَجُلاً، دَخَلَ الْمَسْجِدَ يَوْمَ جُمُعَةٍ مِنْ بَابٍ كَانَ نَحْوَ دَارِ الْقَضَاءِ، وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَائِمٌ يَخْطُبُ، فَاسْتَقْبَلَ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَائِمًا ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ، فَادْعُ اللَّهَ يُغِيثُنَا فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا». قَالَ أَنَسٌ وَلاَ وَاللَّهِ مَا نَرَى فِي السَّمَاءِ مِنْ سَحَابٍ، وَلاَ قَزَعَةً، وَمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَ سَلْعٍ مِنْ بَيْتٍ وَلاَ دَارٍ. قَالَ فَطَلَعَتْ مِنْ وَرَائِهِ سَحَابَةٌ مِثْلُ التُّرْسِ، فَلَمَّا تَوَسَّطَتِ السَّمَاءَ انْتَشَرَتْ ثُمَّ أَمْطَرَتْ، فَلاَ وَاللَّهِ مَا رَأَيْنَا الشَّمْسَ سِتًّا، ثُمَّ دَخَلَ رَجُلٌ مِنْ ذَلِكَ الْبَابِ فِي الْجُمُعَةِ وَرَسُولُ اللَّهِ ﷺ قَائِمٌ يَخْطُبُ، فَاسْتَقْبَلَهُ قَائِمًا فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكَتِ الأَمْوَالُ وَانْقَطَعَتِ السُّبُلُ، فَادْعُ اللَّهَ يُمْسِكْهَا عَنَّا. قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ ثُمَّ قَالَ " اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الآكَامِ وَالظِّرَابِ وَبُطُونِ الأَوْدِيَةِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ ". قَالَ فَأَقْلَعَتْ وَخَرَجْنَا نَمْشِي فِي الشَّمْسِ. قَالَ شَرِيكٌ سَأَلْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ أَهُوَ الرَّجُلُ الأَوَّلُ فَقَالَ مَا أَدْرِي.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ব্যক্তি জুমু‘আ’র দিন দারুল কাযা (বিচার করার স্থান)-এর দিকের দরজা দিয়ে মসজিদে প্রবেশ করল। এ সময় আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) দাঁড়িয়ে খুত্বা দিচ্ছিলেন। লোকটি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ধন-সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেল। আপনি আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) দু’হাত তুলে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। হে আল্লাহ্! আমাদের বৃষ্টি দান করুন।আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র কসম! আমরা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, মেঘ নেই, মেঘের সামান্য টুক্রাও নেই। অথচ সাল‘আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বললেন, হঠাৎ সাল‘আর ওপাশ হতে ঢালের মত মেঘ উঠে এল এবং মধ্য আকাশে এসে ছড়িয়ে পড়লো। অতঃপর প্রচুর বর্ষণ হতে লাগল। আল্লাহ্র কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখতে পাইনি।এর পরের জুমু‘আয় সে দরজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করল। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তখন দাঁড়িয়ে খুত্বা দিচ্ছিলেন। লোকটি তাঁর সম্মুখে দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল। কাজেই আপনি বৃষ্টি বন্ধের জন্য আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন। আনাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তখন দু’হাত তুলে দোয়া করলেন, হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ্! টিলা, মালভূমি, উপত্যকায় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন।আনাস (রাঃ) বলেন, তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা বেরিয়ে রোদে চলতে লাগলাম। (রাবী) শরীক (রহঃ) বলেন, আমি আনাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কি আগের সেই লোক? তিনি বললেন, আমি জানি না।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার খুতবার সময় বৃষ্টির জন্য দোয়া করার ঘটনা এসেছে। এক ব্যক্তি মসজিদে এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে দাঁড়িয়ে বলেন, ধন-সম্পদ নষ্ট হচ্ছে, রাস্তা বন্ধ হচ্ছে; আল্লাহর কাছে বৃষ্টির দোয়া করুন। নবী (صلى الله عليه وسلم) দু’হাত তুলে তিনবার দোয়া করেন। তখন আকাশে মেঘ ছিল না, তবু সালআ পাহাড়ের দিক থেকে মেঘ উঠে বৃষ্টি শুরু হয় এবং কয়েকদিন সূর্য দেখা যায়নি। পরের জুমায় আবার ক্ষতির কথা বলা হলে তিনি দোয়া করেন, হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে, আমাদের উপর নয়; টিলা, মালভূমি, উপত্যকা ও বনভূমিতে বর্ষণ করুন। তারপর বৃষ্টি থেমে যায়। এই হাদিসে খুতবার সময় দোয়া, বৃষ্টির আবেদন এবং ক্ষতিকর অতিবৃষ্টি সরানোর দোয়া—সবই সরাসরি এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার খুতবার সময় প্রয়োজনের কথা জানানো হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) দু’হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছেন।
- অতিবৃষ্টি হলে তার ক্ষতি থেকে বাঁচার দোয়া করা হয়েছে।
- আনাস (রাঃ) আগের লোকটি একই ব্যক্তি কি না, তা নিশ্চিত করে বলেননি।
