১৫/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৩৩ - অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির দোয়া
বৃষ্টিতে কেউ এমনভাবে ভিজে যাওয়া যে, দাড়ি বেয়ে পানি ঝরলো।
অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির দোয়া: নবীজির ভারসাম্যপূর্ণ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১০৩৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১০৩৩
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، قَالَ أَخْبَرَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَأَصَابَتِ النَّاسَ سَنَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ قَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَ الْمَالُ وَجَاعَ الْعِيَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا أَنْ يَسْقِيَنَا.قَالَ فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ، وَمَا فِي السَّمَاءِ قَزَعَةٌ، قَالَ فَثَارَ سَحَابٌ أَمْثَالُ الْجِبَالِ، ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْمَطَرَ يَتَحَادَرُ عَلَى لِحْيَتِهِ، قَالَ فَمُطِرْنَا يَوْمَنَا ذَلِكَ، وَفِي الْغَدِ وَمِنْ بَعْدِ الْغَدِ وَالَّذِي يَلِيهِ إِلَى الْجُمُعَةِ الأُخْرَى، فَقَامَ ذَلِكَ الأَعْرَابِيُّ أَوْ رَجُلٌ غَيْرُهُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ وَغَرِقَ الْمَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا. فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَدَيْهِ وَقَالَ " اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلاَ عَلَيْنَا». قَالَ فَمَا جَعَلَ يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّمَاءِ إِلاَّ تَفَرَّجَتْ حَتَّى صَارَتِ الْمَدِينَةُ فِي مِثْلِ الْجَوْبَةِ، حَتَّى سَالَ الْوَادِي ـ وَادِي قَنَاةَ ـ شَهْرًا. قَالَ فَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلاَّ حَدَّثَ بِالْجَوْدِ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর যুগে একবার লোকেরা অনাবৃষ্টিতে পতিত হল। সে সময় আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) একবার মিম্বারে দাঁড়িয়ে জুমু’আ’র খুত্বা দিচ্ছিলেন। তখন এক বেদুঈন দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! (অনাবৃষ্টিতে) ধন-সম্পদ বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পরিবার-পরিজন ক্ষুধার্ত। আপনি আল্লাহ্র নিকট দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের বৃষ্টি দান করেন।তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তাঁর দু’হাত তুললেন। সে সময় আকাশে একখণ্ড মেঘও ছিল না। বর্ণনাকারী বলেন, হঠাৎ পাহাড়ের মত বহু মেঘ একত্রিত হল। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) মিম্বার হতে নামার আগেই বৃষ্টি শুরু হলো। এমনকি আমি দেখলাম, নবী (ﷺ)-এর দাড়ি বেয়ে বৃষ্টির পানি ঝরছে। বর্ণনাকারী আরো বলেন, সেদিন, তার পরের দিন, তার পরের দিন এবং পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত বৃষ্টি হল।অতঃপর সে বেদুঈন বা অন্য কেউ দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্র রাসূল! ঘর-বাড়ি বিধ্বস্ত হয়ে গেল, সম্পদ ডুবে গেল, আপনি আল্লাহ্র নিকট আমাদের জন্য দোয়া করুন। আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) তখন তাঁর দু’হাত তুলে বললেনঃ হে আল্লাহ্! আমাদের আশে পাশে, আমাদের উপর নয়। অতঃপর তিনি হাত দিয়ে আকাশের যে দিকে ইশারা করলেন, সে দিকের মেঘ কেটে গেল। এতে সমগ্র মদীনার আকাশ মেঘ মুক্ত চালের মত হয়ে গেল এবং কানাত উপত্যকায় এক মাস ধরে বৃষ্টি প্রবাহিত হতে থাকে। বর্ণনাকারী বলেন, তখন যে এলাকা হতে লোক আসত, কেবল এ প্রবল বর্ষণের কথাই বলাবলি করত।
সহীহ বুখারী হাদিস ১০৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো অনাবৃষ্টি ও অতিবৃষ্টির সময় দোয়া। জুমার খুতবার সময় এক বেদুঈন এসে বলল, সম্পদ নষ্ট হচ্ছে এবং পরিবার ক্ষুধার্ত। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) হাত তুলে বৃষ্টির জন্য দোয়া করলেন। আকাশে একখণ্ড মেঘও ছিল না, তবু মেঘ জমল এবং বৃষ্টি শুরু হলো। বৃষ্টি পরের জুমা পর্যন্ত চলতে থাকল। এরপর ক্ষতির কথা বলা হলে নবীজি আবার হাত তুলে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমাদের আশেপাশে, আমাদের উপর নয়।’ এরপর যে দিকে তিনি ইশারা করলেন, সেদিকের মেঘ কেটে গেল। হাদিসটি শেখায়, বান্দা আল্লাহর কাছে প্রয়োজন মতো চায়—বৃষ্টির অভাবে বৃষ্টি, আর ক্ষতির সময় সহজ অবস্থা। এখানে দোয়া, আল্লাহর রহমত এবং মানুষের বাস্তব কষ্ট—সব একসঙ্গে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অনাবৃষ্টিতে বৃষ্টির জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা হয়েছে।
- অতিবৃষ্টিতে ক্ষতি হলে বৃষ্টি সরিয়ে দেওয়ার দোয়া করা হয়েছে।
- নবীজি মানুষের কষ্ট শুনে তাদের জন্য দোয়া করতেন।
- আল্লাহর রহমত চাওয়ার সময় উপকার ও নিরাপত্তাও চাওয়া যায়।
