১৯/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১১৪৩ - কুরআন ত্যাগ ও ফরজ সালাত অবহেলার পরিণতি
রাতে সালাত না আদায় করলে ঘাড়ের পশ্চাদংশে শয়তানের গ্রন্থী বেঁধে দেয়া।
ফরজ সালাত অবহেলা ও কুরআন ত্যাগের কঠিন সতর্কতা
সহীহ বুখারী : ১১৪৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১১৪৩
حَدَّثَنَا مُؤَمَّلُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو رَجَاءٍ، قَالَ حَدَّثَنَا سَمُرَةُ بْنُ جُنْدَبٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ فِي الرُّؤْيَا قَالَ " أَمَّا الَّذِي يُثْلَغُ رَأْسُهُ بِالْحَجَرِ فَإِنَّهُ يَأْخُذُ الْقُرْآنَ فَيَرْفِضُهُ وَيَنَامُ عَنِ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ».
সামুরাহ্ ইবনু জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর স্বপ্ন বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেছেন, যে ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে বিচূর্ণ করা হচ্ছিল, সে হল ঐ লোক যে কুরআন শিখে তা পরিত্যাগ করে এবং ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকে। [১]
[১] হাদীসখানা এখানে অংশ বিশেষ উল্লিখিত হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ হাদীস রয়েছে “كتاب الجنائز” এ।
সহীহ বুখারী হাদিস ১১৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর স্বপ্নের একটি অংশ বর্ণনা করেছেন। সেখানে একজন ব্যক্তির মাথা পাথর দিয়ে আঘাত করা হচ্ছিল। এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সে এমন ব্যক্তি যে কুরআন শিখেছিল, কিন্তু পরে তা পরিত্যাগ করেছে। একই সঙ্গে সে ফরজ সালাত আদায় না করে ঘুমিয়ে থাকত। হাদিসটি আমাদের খুব সরাসরি সতর্ক করে। কুরআন শেখা বড় নেয়ামত, কিন্তু শেখার পর তা ছেড়ে দেওয়া বা জীবনে গুরুত্ব না দেওয়া গুরুতর অবহেলা। আবার ফরজ সালাত সময়মতো আদায় করা মুমিনের মৌলিক দায়িত্ব। এখানে রাতের নফল সালাতের কথা নয়, বরং ফরজ সালাত না পড়ে ঘুমিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে। তাই কুরআন ও সালাত—দুটিই জীবনে গুরুত্বের সঙ্গে ধরে রাখা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কুরআন শেখার পর তা অবহেলা করা বিপজ্জনক বিষয়।
- ফরজ সালাত ঘুমের কারণে ছেড়ে দেওয়া গুরুতর অবহেলা।
- জ্ঞান ও আমল একসঙ্গে ধরে রাখা জরুরি।
- এই হাদিস সালাতের বিষয়ে সচেতন থাকার শক্ত সতর্কতা দেয়।
