২১/১০. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১২১০ - সালাত ভাঙতে শয়তানের আক্রমণ

সালাতে যে কাজ বৈধ।

সালাতে শয়তানের বাধা: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ঘটনার শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২১০

حَدَّثَنَا مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا شَبَابَةُ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ زِيَادٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ صَلَّى صَلاَةً قَالَ " إِنَّ الشَّيْطَانَ عَرَضَ لِي، فَشَدَّ عَلَىَّ لِيَقْطَعَ الصَّلاَةَ عَلَىَّ، فَأَمْكَنَنِي اللَّهُ مِنْهُ، فَذَعَتُّهُ، وَلَقَدْ هَمَمْتُ أَنْ أُوثِقَهُ إِلَى سَارِيَةٍ حَتَّى تُصْبِحُوا فَتَنْظُرُوا إِلَيْهِ فَذَكَرْتُ قَوْلَ سُلَيْمَانَ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ رَبِّ هَبْ لِي مُلْكًا لاَ يَنْبَغِي لأَحَدٍ مِنْ بَعْدِي. فَرَدَّهُ اللَّهُ خَاسِيًا». ثُمَّ قَالَ النَّضْرُ بْنُ شُمَيْلٍ فَذَعَتُّهُ بِالذَّالِ أَىْ خَنَقْتُهُ وَفَدَعَّتُّهُ مِنْ قَوْلِ اللَّهِ {يَوْمَ يُدَعُّونَ} أَىْ يُدْفَعُونَ وَالصَّوَابُ، فَدَعَتُّهُ إِلاَّ أَنَّهُ كَذَا قَالَ بِتَشْدِيدِ الْعَيْنِ وَالتَّاءِ.

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) একবার সালাত আদায় করার পর বললেনঃ শয়তান আমার সামনে এসে আমার সালাত বিনষ্ট করার জন্য আমার উপর আক্রমণ করল। তখন আল্লাহ্‌ আমাকে তার উপর ক্ষমতা দান করলেন, আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম। আমার ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে কোন স্তম্ভের সাথে বেঁধে রাখি। যাতে তোমরা সকাল বেলা উঠে তাকে দেখতে পাও। তখন সুলাইমান (আঃ) -এর এ দোয়া আমার মনে পড়ে গেল, رَبِّ هَب لي مُلكاً “হে রব! আমাকে এমন এক রাজ্য দান করুন যার অধিকারী আমার পরে আর কেউ না হয়”। তখন আল্লাহ্‌ তাকে (শয়তানকে) অপমানিত করে দূর করে দিলেন।নায্‌র ইব্‌নু শুমায়ল (রহঃ) বলেন, فَذَ عَتُّهُ শব্দটি ذال সহ অর্থাৎ তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে গলা চেপে ধরলাম এবং فَدَ عتُّهُ আল্লাহ্‌র কালাম يَومَ يُدَ عُّونَ থেকে অর্থাৎ তাদেরকে ধাক্কা মেরে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সঠিক হল তবে فَدَ عَّتُّهُ তবে ع ও ت অক্ষর দুটি তাশদীদ সহ পাঠ করেছেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১২১০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) সালাতের পর একটি ঘটনা জানালেন। শয়তান তাঁর সামনে এসে সালাত নষ্ট করার জন্য আক্রমণ করেছিল। আল্লাহ তাঁকে শয়তানের উপর ক্ষমতা দিলেন, তিনি তাকে ধাক্কা দিয়ে চেপে ধরলেন। তাঁর ইচ্ছা হয়েছিল, তাকে মসজিদের কোনো স্তম্ভে বেঁধে রাখবেন, যাতে মানুষ সকালে তাকে দেখতে পারে। কিন্তু তখন সুলাইমান (আঃ)-এর দোয়া তাঁর মনে পড়ল—এমন রাজ্য, যা তাঁর পরে আর কারও জন্য হবে না। তাই আল্লাহ শয়তানকে অপমানিত করে দূর করে দিলেন। এই হাদিসে সালাতে শয়তানের বাধা, আল্লাহর সাহায্য এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সংযম—তিনটি বিষয় দেখা যায়। ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে এটুকুই যথেষ্ট যে সালাতে মনোযোগ নষ্ট করার চেষ্টা হতে পারে, আর আল্লাহর সাহায্যই মূল ভরসা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শয়তান সালাত নষ্ট করার চেষ্টা করতে পারে—হাদিসে সরাসরি এসেছে।
  • আল্লাহ নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে শয়তানের উপর ক্ষমতা দিয়েছিলেন।
  • নবী (صلى الله عليه وسلم) সুলাইমান (আঃ)-এর দোয়া স্মরণ করে সংযম দেখিয়েছেন।
  • সালাতের সময় মনোযোগ রক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন