২৩/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৪৩ - কারো পরিণাম নিয়ে চূড়ান্ত কথা নয়
কাফন পরানোর পর মৃত ব্যক্তির নিকট গমন করা
মৃত ব্যক্তির পরিণাম নিয়ে সতর্ক থাকা: সহজ হাদিস ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ১২৪৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৪৩
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ بُكَيْرٍ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ عُقَيْلٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدِ بْنِ ثَابِتٍ، أَنَّ أُمَّ الْعَلاَءِ ـ امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ ـ بَايَعَتِ النَّبِيَّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّهُ اقْتُسِمَ الْمُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسِّلَ وَكُفِّنَ فِي أَثْوَابِهِ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ. فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ «وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ». فَقُلْتُ بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ فَقَالَ " أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ الْيَقِينُ، وَاللَّهِ إِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي ـ وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ ـ مَا يُفْعَلُ بِي». قَالَتْ فَوَاللَّهِ لاَ أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا.
উম্মুল আলা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
(মদীনায় হিজরতের পর) লটারীর মাধ্যমে মুহাজিরদের বন্টন করা হচ্ছিল। তাতে ‘উসমান ইবনু মায’উন (রাঃ) আমাদের অংশে পড়লেন, আমরা (সাদরে) তাঁকে আমাদের গৃহে স্থান দিলাম। এক সময়ে তিনি সেই রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হল। যখন তাঁর মৃত্যু হল এবং তাঁকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হল, তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবাস্-সায়িব! আপনার উপর আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক! আপনার ব্যাপারে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ্ আপনাকে সম্মানিত করেছেন।তখন নবী (ﷺ) বললেনঃ তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ্ তাঁকে সম্মানিত করেছেন? আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, হে আল্লাহর রাসূল! তাহলে আল্লাহ্ আর কাকে সম্মানিত করবেন? আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তাঁর ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তাঁর মৃত্যু হচ্ছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তাঁর জন্য কল্যাণ কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে, অথচ আমি আল্লাহর রাসূল। সেই আনসারী মহিলা বলেন, আল্লাহর কসম! অতঃপর এরপর হতে কোন দিন আমি কোন ব্যক্তিকে সম্বন্ধে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না।----------------- সা’ঈদ ইবনু ‘উফাইর (রহঃ) লায়স (রহঃ) সূত্রে ঐরূপ বর্ণনা করেন। আর নাফি’ ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) ‘উকাইল (রহঃ) সূত্রে বলেন। তাঁর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করা হবে? [১] শু’য়াইব, ‘আমর ইবনু দীনার ও মা’মার (রহঃ) ‘উকাইল (রহঃ)-কে সমর্থন করেছেন।
[১] অর্থাৎ প্রথম বর্ণনায় রয়েছে ‘ مَا يُفْعَلُ بِلىْ’- আমর সংগে কি ব্যবহার করা হবে? আর দ্বিতীয় বর্ণনায় রয়েছে ‘مَا يُفْعَلُ بِهِ ’- তাঁর সংগে কি ব্যবহার করা হবে?
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৪৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো কারো আখিরাতের পরিণাম নিয়ে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা। উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ) উম্মুল আলা (রাঃ)-এর ঘরে ছিলেন এবং অসুস্থ হয়ে মারা যান। তাঁকে গোসল ও কাফন দেওয়ার পর নবী صلى الله عليه وسلم সেখানে আসেন। উম্মুল আলা (রাঃ) বলেন, আল্লাহ তাঁকে সম্মানিত করেছেন। তখন নবী صلى الله عليه وسلم জিজ্ঞেস করেন, তিনি কীভাবে জানলেন। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তাঁর মৃত্যু এসে গেছে এবং তিনি তাঁর জন্য কল্যাণ আশা করেন। এখানে শিক্ষা হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করা যায়, ভালো আশা করা যায়, কিন্তু আল্লাহর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা ঠিক নয়। কথায় বিনয় ও সাবধানতা রাখা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত ও কল্যাণের দোয়া করা যায়।
- কারো আখিরাতের পরিণাম নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
- নবী صلى الله عليه وسلم নিজে কল্যাণ আশা করার ভাষা ব্যবহার করেছেন।
- মৃত্যু মানুষকে আল্লাহর ফয়সালার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
