৫২/৩০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৭ - কাউকে পবিত্র ঘোষণা না করার শিক্ষা
জটিল ব্যাপারে কুরআন মাধ্যমে ফয়সালা করা।
وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴾إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ﴿ (آل عمران : ٤٤) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اقْتَرَعُوا فَجَرَتِ الْأَقْلَامُ مَعَ الْجَرْيَةِ وَعَالَ قَلَمُ زَكَرِيَّاءَ الْجَرْيَةَ فَكَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ وَقَوْلِهِ ﴾فَسَاهَمَ﴿ أَقْرَعَ ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (الصافات : ١٤١) مِنَ الْمَسْهومِينَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَرَضَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى قَوْمٍ الْيَمِينَ فَأَسْرَعُوا فَأَمَرَ أَنْ يُسْهِمَ بَيْنَهُمْ أَيُّهُمْ يَحْلِفُমহান আল্লাহর বাণী: যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে? (সূরা আলে ‘ইমরান ৪৪) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা (কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে) কুর‘আর ব্যবস্থা করল, তখন তাদের সবার কলম স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেল। শুধু যাকারিয়ার কলম স্রোতের মুখেও ভেসে রইল। তাই তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখে দিলেন।[ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে] আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴾فَسَاهَمَ﴿ এর অর্থ কুর‘আ নিক্ষেপ করল। ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (আস-সাফফাত: ১৪১) অতঃপর তিনি পরাভূত হলেন- (সূরা আস-সাফফাত ১৪১)। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) একদল লোককে হলফ করার নির্দেশ দিলেন। তারা কে আগে হলফ করবে তাই নিয়ে হুড়াহুড়ি শুরু করল। তখন কুর‘আর মাধ্যমে কে হলফ করবে তা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন।"
কাউকে পবিত্র ঘোষণা না করার হাদিস: কল্যাণের আশা ও নেক আমল
সহীহ বুখারী : ২৬৮৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৮৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي خَارِجَةُ بْنُ زَيْدٍ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ أُمَّ الْعَلاَءِ، امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِمْ قَدْ بَايَعَتِ النَّبِيَّ ﷺ أَخْبَرَتْهُ أَنَّ عُثْمَانَ بْنَ مَظْعُونٍ طَارَ لَهُ سَهْمُهُ فِي السُّكْنَى حِينَ أَقْرَعَتِ الأَنْصَارُ سُكْنَى الْمُهَاجِرِينَ. قَالَتْ أُمُّ الْعَلاَءِ فَسَكَنَ عِنْدَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَاشْتَكَى، فَمَرَّضْنَاهُ حَتَّى إِذَا تُوُفِّيَ وَجَعَلْنَاهُ فِي ثِيَابِهِ دَخَلَ عَلَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَقُلْتُ رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ. فَقَالَ لِي النَّبِيُّ ﷺ «وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ أَكْرَمَهُ». فَقُلْتُ لاَ أَدْرِي بِأَبِي أَنْتَ وَأُمِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَّا عُثْمَانُ فَقَدْ جَاءَهُ ـ وَاللَّهِ ـ الْيَقِينُ وَإِنِّي لأَرْجُو لَهُ الْخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ مَا يُفْعَلُ بِي». قَالَتْ فَوَاللَّهِ لاَ أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا، وَأَحْزَنَنِي ذَلِكَ قَالَتْ فَنِمْتُ فَأُرِيتُ لِعُثْمَانَ عَيْنًا تَجْرِي، فَجِئْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرْتُهُ فَقَالَ «ذَلِكَ عَمَلُهُ».
উম্মুল আলা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুহাজিরদের বাসস্থান দানের জন্য আনসারগণ যখন কুর‘আ নিক্ষেপ করলেন, তখন তাদের ভাগে ‘উসমান ইবনু মাযউনের জন্য বাসস্থান দান নির্ধারিত হল। বলেন, সেই হতে ‘উসমান ইবনু মাযউন (রাঃ) আমাদের এখানে বসবাস করতে থাকেন। অতঃপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে আমরা তার সেবা-শুশ্রূষা করলাম। পরে তিনি যখন মারা গেলেন এবং আমরা তাকে কাফন পরালাম, তখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের এখানে আসলেন।আমি (‘উসমান ইবনু মাযউনকে লক্ষ্য করে) বললাম, হে আবূ সায়িব! তোমার প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হোক। তোমার সম্পর্কে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ তোমাকে অবশ্যই মর্যাদা দান করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে বললেন, তোমাকে কে জানাল যে, আল্লাহ তাকে মর্যাদা দান করেছেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক l আমি জানি না। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আল্লাহর কসম! ‘উসমানের নিকট তো মৃত্যু এসে গেছে, আমি তো তার জন্য কল্যাণের আশা করি। আল্লাহর কসম! আমি আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও জানি না তার সঙ্গে কী আচরণ করা হবে।তিনি [উম্মুল ‘আলা (রাঃ)] বলেন, আল্লাহর কসম! এ কথার পরে কখনো আমি কাউকে পূত-পবিত্র বর্ণনা করি না। সে কথা আমাকে চিন্তায় ফেলে দিল। তিনি বলেন, পরে আমি স্বপ্নে দেখলাম যে, ‘উসমান (রাঃ)-এর জন্য একটা ঝর্ণা প্রবাহিত হচ্ছে। অতঃপর আমি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে সে খবর জানালাম। তিনি বলেন, সেটা হচ্ছে তার নেক আমল।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উম্মুল ‘আলা (রাঃ) ‘উসমান ইবনু মায‘উন (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর তাঁর ব্যাপারে বলেন, আল্লাহ তাঁকে মর্যাদা দিয়েছেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তুমি কীভাবে জানলে? এরপর তিনি বলেন, ‘উসমানের কাছে মৃত্যু এসেছে, আমি তাঁর জন্য কল্যাণের আশা করি; কিন্তু আল্লাহর রাসূল হওয়া সত্ত্বেও আমি জানি না তাঁর সঙ্গে কী আচরণ করা হবে। পরে উম্মুল ‘আলা (রাঃ) স্বপ্নে তাঁর জন্য প্রবাহিত ঝর্ণা দেখেন। নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, সেটি তাঁর নেক আমল। এই হাদিস শেখায়, কাউকে নিশ্চিতভাবে পবিত্র ঘোষণা করা থেকে সতর্ক থাকা দরকার। তবে নেক মানুষের জন্য কল্যাণের আশা করা যায় এবং নেক আমল মানুষের জন্য মূল্যবান।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কারো আখিরাতের পরিণাম নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা উচিত নয়।
- নেক মানুষের জন্য কল্যাণের আশা করা যায়।
- নেক আমল বান্দার জন্য উপকারী বিষয়।
- মৃত ব্যক্তির প্রশংসায়ও সীমা ও সতর্কতা দরকার।
