৫২/৩০. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৬ - আল্লাহর সীমারেখা ও সামাজিক দায়িত্ব

জটিল ব্যাপারে কুরআন মাধ্যমে ফয়সালা করা।

وَقَوْلِهِ عَزَّ وَجَلَّ ﴾إِذْ يُلْقُونَ أَقْلَامَهُمْ أَيُّهُمْ يَكْفُلُ مَرْيَمَ﴿ (آل عمران : ٤٤) وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ اقْتَرَعُوا فَجَرَتِ الْأَقْلَامُ مَعَ الْجَرْيَةِ وَعَالَ قَلَمُ زَكَرِيَّاءَ الْجَرْيَةَ فَكَفَلَهَا زَكَرِيَّاءُ وَقَوْلِهِ ﴾فَسَاهَمَ﴿ أَقْرَعَ ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (الصافات : ١٤١) مِنَ الْمَسْهومِينَ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَرَضَ النَّبِيُّ ﷺ عَلَى قَوْمٍ الْيَمِينَ فَأَسْرَعُوا فَأَمَرَ أَنْ يُسْهِمَ بَيْنَهُمْ أَيُّهُمْ يَحْلِفُমহান আল্লাহর বাণী: যখন তারা তাদের কলম নিক্ষেপ করছিল মারয়ামের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব তাদের মধ্যে কে গ্রহণ করবে? (সূরা আলে ‘ইমরান ৪৪) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তারা (কলম নিক্ষেপের মাধ্যমে) কুর‘আর ব্যবস্থা করল, তখন তাদের সবার কলম স্রোতের সঙ্গে ভেসে গেল। শুধু যাকারিয়ার কলম স্রোতের মুখেও ভেসে রইল। তাই তাকে যাকারিয়ার তত্ত্বাবধানে রেখে দিলেন।[ইউনুস (আঃ) সম্পর্কে] আল্লাহ তা‘আলার বাণী: ﴾فَسَاهَمَ﴿ এর অর্থ কুর‘আ নিক্ষেপ করল। ﴾فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ﴿ (আস-সাফফাত: ১৪১) অতঃপর তিনি পরাভূত হলেন- (সূরা আস-সাফফাত ১৪১)। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ) একদল লোককে হলফ করার নির্দেশ দিলেন। তারা কে আগে হলফ করবে তাই নিয়ে হুড়াহুড়ি শুরু করল। তখন কুর‘আর মাধ্যমে কে হলফ করবে তা নির্ধারণের নির্দেশ দিলেন।"

আল্লাহর সীমারেখা হাদিস: নৌযানের উপমায় অন্যায় প্রতিরোধের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬৮৬

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصِ بْنِ غِيَاثٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، قَالَ حَدَّثَنِي الشَّعْبِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ النُّعْمَانَ بْنَ بَشِيرٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «مَثَلُ الْمُدْهِنِ فِي حُدُودِ اللَّهِ وَالْوَاقِعِ فِيهَا مَثَلُ قَوْمٍ اسْتَهَمُوا سَفِينَةً، فَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَسْفَلِهَا وَصَارَ بَعْضُهُمْ فِي أَعْلاَهَا، فَكَانَ الَّذِي فِي أَسْفَلِهَا يَمُرُّونَ بِالْمَاءِ عَلَى الَّذِينَ فِي أَعْلاَهَا، فَتَأَذَّوْا بِهِ، فَأَخَذَ فَأْسًا، فَجَعَلَ يَنْقُرُ أَسْفَلَ السَّفِينَةِ، فَأَتَوْهُ فَقَالُوا مَا لَكَ قَالَ تَأَذَّيْتُمْ بِي، وَلاَ بُدَّ لِي مِنَ الْمَاءِ، فَإِنْ أَخَذُوا عَلَى يَدَيْهِ أَنْجَوْهُ وَنَجَّوْا أَنْفُسَهُمْ، وَإِنْ تَرَكُوهُ أَهْلَكُوهُ وَأَهْلَكُوا أَنْفُسَهُمْ».‏

নূ‘মান ইব্‌নু বাশীর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ) বলেছেন, আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখার ব্যাপারে শিথিলতা প্রদর্শনকারী এবং তা লঙ্ঘনকারীর উপমা হল সেই যাত্রীদল, যারা কুর‘আর মাধ্যমে এক নৌযানে নিজেদের স্থান নির্ধারণ করে নিল। ফলে কারো স্থান হল এর নীচতলায় আর কারো হল উপর তলায়। যারা নীচতলায় ছিল তারা পানি নিয়ে উপর তলার লোকদের নিকট দিয়ে আসত। এতে তারা বিরক্তি প্রকাশ করল।তখন এক লোক কুড়াল নিয়ে নৌযানের নীচের অংশ ফুটো করতে লেগে গেল। এ দেখে উপর তলার লোকজন তাকে এসে জিজ্ঞেস করল তোমার হয়েছে কী? সে বলল, আমাদের কারণে তোমরা কষ্ট পেয়েছ। অথচ আমারও পানির প্রয়োজন আছে। এ মুহূর্তে তারা যদি এর দু’হাত চেপে ধরে তাহলে তাকে যেমন রক্ষা করা হল তেমনি নিজেদেরও রক্ষা হল। আর যদি তাকে ছেড়ে দেয় তবে তাকে ধ্বংস করা হল এবং নিজেদেরও ধ্বংস করা হল।

সহীহ বুখারী হাদিস ২৬৮৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم অসাধারণ একটি উপমা দিয়েছেন। কিছু মানুষ নৌযানে লটারি করে জায়গা নিল; কেউ ওপরতলায়, কেউ নিচতলায়। নিচতলার লোক পানি আনতে গেলে ওপরতলার লোকেরা বিরক্ত হলো। তখন নিচতলার একজন কুড়াল নিয়ে নৌযান ফুটো করতে চাইলো, যেন নিজেরা সরাসরি পানি নিতে পারে। নবী صلى الله عليه وسلم বললেন, যদি অন্যরা তার হাত ধরে থামায়, তবে তাকে রক্ষা করবে এবং নিজেদেরও রক্ষা করবে। আর যদি ছেড়ে দেয়, তবে সবাই ধ্বংস হবে। আল্লাহর সীমারেখা হাদিস হিসেবে এটি শেখায়, অন্যায় শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না; সমাজকেও বিপদে ফেলে। তাই সঠিকভাবে অন্যায় প্রতিরোধ করা সবার কল্যাণের কারণ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আল্লাহর সীমারেখা লঙ্ঘন সমাজের জন্য ক্ষতিকর।
  • অন্যায় দেখলে দায়িত্বশীলভাবে থামানোর চেষ্টা করা দরকার।
  • একজনের ভুল কাজ অনেকের ক্ষতির কারণ হতে পারে।
  • সমাজের নিরাপত্তায় পারস্পরিক সতর্কতা গুরুত্বপূর্ণ।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন