২৩/২৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৭৪ - মুসআবের কাফন ও দুনিয়ার ভয়
মৃত ব্যক্তির সমস্ত সম্পদ হতে কাফন দেয়া।
وَبِهِ قَالَ عَطَاءٌ وَالزُّهْرِيُّ وَعَمْرُو بْنُ دِينَارٍ وَقَتَادَةُ وَقَالَ عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ الْحَنُوطُ مِنْ جَمِيعِ الْمَالِ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ يُبْدَأُ بِالْكَفَنِ ثُمَّ بِالدَّيْنِ ثُمَّ بِالْوَصِيَّةِ وَقَالَ سُفْيَانُ أَجْرُ الْقَبْرِ وَالْغُسْلِ هُوَ مِنَ الْكَفَنِ‘আত্বা, যুহরী, ‘আমর ইবন দীনার এবং কাতাদা (রহঃ) এ কথা বলেছেন। আমর ইবন দীনার (রহঃ) আরও বলেছেন, সুগন্ধিও সমস্ত সম্পদ হতে দিতে হবে। ইবরাহীম (রহঃ) বলেছেন, (সম্পদ হতে) প্রথমে কাফন অতঃপর ঋণ পরিশোধ, অতঃপর ওয়াসিয়াত পূরণ করতে হবে। সুফইয়ান (রহঃ) বলেছেন, কবর ও গোসল দেয়ার খরচও কাফনের শামিল।"
মুসআব ইবন উমাইরের কাফন: দুনিয়ার প্রাচুর্য নিয়ে সাহাবীর ভয়
সহীহ বুখারী : ১২৭৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৭৪
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مُحَمَّدٍ الْمَكِّيُّ، حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ سَعْدٍ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أُتِيَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ـ رضى الله عنه ـ يَوْمًا بِطَعَامِهِ فَقَالَ قُتِلَ مُصْعَبُ بْنُ عُمَيْرٍ ـ وَكَانَ خَيْرًا مِنِّي ـ فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ، وَقُتِلَ حَمْزَةُ أَوْ رَجُلٌ آخَرُ خَيْرٌ مِنِّي فَلَمْ يُوجَدْ لَهُ مَا يُكَفَّنُ فِيهِ إِلاَّ بُرْدَةٌ، لَقَدْ خَشِيتُ أَنْ يَكُونَ قَدْ عُجِّلَتْ لَنَا طَيِّبَاتُنَا فِي حَيَاتِنَا الدُّنْيَا، ثُمَّ جَعَلَ يَبْكِي.
সা’দ (রহঃ)-এর পিতা হতে বর্ণিতঃ
একদা ‘আবদুর রহমান ইব্নু ‘আওফ (রাঃ)-কে খাবার দেয়া হল। তখন তিনি বললেন, মুস্‘আব ইব্নু উমাইর (রাঃ) শহীদ হলেন আর তিনি আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন অথচ তাঁর কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। হামযাহ (রাঃ) বা অপর এক ব্যক্তি শহীদ হলেন, তিনিও ছিলেন আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, অথচ তাঁর কাফনের জন্যও একটি চাদর ছাড়া আর কিছুই পাওয়া যায়নি। তাই আমার ভয় হয়, আমাদের নেক আমলের বিনিময়ে আমাদের এ পার্থিব জীবনে পূর্বেই দেয়া হল। অতঃপর তিনি কাঁদতে লাগলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৭৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ)-এর অন্তরের এক গভীর অনুভূতি দেখা যায়। একদিন খাবার আনা হলে তিনি মুসআব ইবন উমাইর (রাঃ)-এর কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, মুসআব তাঁর চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলেন, অথচ তাঁর কাফনের জন্য একটি চাদর ছাড়া কিছু পাওয়া যায়নি। হামযা (রাঃ) বা আরেক শ্রেষ্ঠ ব্যক্তির কথাও তিনি স্মরণ করেন। তারপর তিনি ভয় প্রকাশ করেন—দুনিয়ার জীবনে নেক আমলের বিনিময় আগেই দিয়ে দেওয়া হলো কি না। এরপর তিনি কাঁদতে থাকেন। “মুসআব ইবন উমাইরের কাফন”, “সাহাবীদের দুনিয়াবিমুখতা” এবং “দুনিয়ার প্রাচুর্য নিয়ে ভয়” বিষয়ে এই হাদিসটি খুব হৃদয়ছোঁয়া। এটি অহংকার নয়; বরং নিজের অবস্থা নিয়ে বিনয়ী ভাবনার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সাহাবীরা দুনিয়ার প্রাচুর্য পেয়েও নিজেদের নিয়ে ভয় করতেন।
- মুসআব ইবন উমাইরের সরল কাফন স্মরণ করা হয়েছে।
- খাবার সামনে এসেও আবদুর রহমান (রাঃ) আখিরাতের কথা ভাবেন।
- নেক আমল নিয়ে আত্মতুষ্টির বদলে বিনয়ী থাকা দরকার।
