২৩/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮৯ - কান্না ও কবরের আজাব
নবী (ﷺ)-এর বাণী: পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا﴿ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ سُنَّتِهِ فَهُوَ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ﴾لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴿ وَهُوَ كَقَوْلِهِ ﴾وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ﴿ ذُنُوبًا ﴾إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ﴿ وَمَا يُرَخَّصُ مِنَ الْبُكَاءِ فِي غَيْرِ نَوْحٍ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَকারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: (যার অর্থ) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (তাহরীম: ৬)। এবং নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে তার বিধান হবে যা ‘আয়িশা (রাঃ) ব্যক্ত করেছেন: (যার অর্থ) “নিজ বোঝা বহনকারী কোনো ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না” (আল-আন‘আম: ১৬৪)। আর এ হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ন্যায় “কোনো (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকেও তা বহন করার আহ্বান জানায় তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না” (ফাতির: ১৮)। আর বিলাপ ব্যতীত ক্রন্দনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।নবী (ﷺ) বলেছেন: অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে হত্যার অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর সেটা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার প্রবর্তন করেছে।"
কবরের আজাব ও কান্না: আয়িশা (রাঃ)-এর বর্ণনা
সহীহ বুখারী : ১২৮৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৮৯
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَمْرَةَ بِنْتِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهَا أَخْبَرَتْهُ أَنَّهَا، سَمِعَتْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ زَوْجَ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ إِنَّمَا مَرَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَلَى يَهُودِيَّةٍ يَبْكِي عَلَيْهَا أَهْلُهَا فَقَالَ " إِنَّهُمْ لَيَبْكُونَ عَلَيْهَا، وَإِنَّهَا لَتُعَذَّبُ فِي قَبْرِهَا ".
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের (কবরের) পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে কবরে আযাব দেয়া হচ্ছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি ঘটনাকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এক ইয়াহুদী নারীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তার পরিবারের লোকেরা তার জন্য কাঁদছিল। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তারা তার জন্য কাঁদছে, অথচ সে কবরে আজাব পাচ্ছে। এই বর্ণনার মূল কথা হলো, বাইরের কান্না মৃত ব্যক্তির প্রকৃত অবস্থা বদলে দেয় না। মানুষ দুনিয়ায় কাঁদতে পারে, কিন্তু কবরের অবস্থা আল্লাহর হাতে। এই হাদিসকে আগের আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাখ্যার সঙ্গে পড়লে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। তাই মৃতের জন্য কান্না, কবরের আজাব এবং শোকের বাস্তবতা বুঝতে এই হাদিস গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কান্না মৃতের কবরের অবস্থা নিজে বদলে দেয় না।
- কবরের বিষয় আল্লাহর জ্ঞান ও ফয়সালার অধীনে।
- শোকের সময় বাহ্যিক আবেগের পাশাপাশি আখিরাতের কথা মনে রাখা দরকার।
- একই বিষয়ের বর্ণনাগুলো মিলিয়ে বুঝলে ভুল কম হয়।
