২৩/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৯০ - জীবিতের কান্না ও মৃতের সতর্কতা
নবী (ﷺ)-এর বাণী: পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا﴿ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ سُنَّتِهِ فَهُوَ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ﴾لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴿ وَهُوَ كَقَوْلِهِ ﴾وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ﴿ ذُنُوبًا ﴾إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ﴿ وَمَا يُرَخَّصُ مِنَ الْبُكَاءِ فِي غَيْرِ نَوْحٍ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَকারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: (যার অর্থ) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (তাহরীম: ৬)। এবং নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে তার বিধান হবে যা ‘আয়িশা (রাঃ) ব্যক্ত করেছেন: (যার অর্থ) “নিজ বোঝা বহনকারী কোনো ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না” (আল-আন‘আম: ১৬৪)। আর এ হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ন্যায় “কোনো (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকেও তা বহন করার আহ্বান জানায় তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না” (ফাতির: ১৮)। আর বিলাপ ব্যতীত ক্রন্দনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।নবী (ﷺ) বলেছেন: অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে হত্যার অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর সেটা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার প্রবর্তন করেছে।"
জীবিতের কান্না ও মৃতের আজাব: সতর্কতার হাদিস
সহীহ বুখারী : ১২৯০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৯০
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، حَدَّثَنَا أَبُو إِسْحَاقَ ـ وَهْوَ الشَّيْبَانِيُّ ـ عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ لَمَّا أُصِيبَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ جَعَلَ صُهَيْبٌ يَقُولُ وَاأَخَاهُ. فَقَالَ عُمَرُ أَمَا عَلِمْتَ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَالَ " إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبُكَاءِ الْحَىِّ ".
আবূ বুরদার পিতা (আবূ মূসা আশ‘আরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন ‘উমর (রাঃ) আহত হলেন, তখন সুহাইব (রাঃ) হায়! আমার ভাই! বলতে লাগলেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আযাব দেয়া হয়?
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৯০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উমর (রাঃ)-এর আহত হওয়ার সময়ের একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। সুহাইব (রাঃ) আবেগে ‘হায় আমার ভাই’ বলতে থাকেন। তখন উমর (রাঃ) তাঁকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, জীবিতদের কান্নার কারণে মৃতকে আজাব দেওয়া হয়। এখানে হাদিসের ভাষা খুব সতর্কভাবে বোঝা দরকার। একই অধ্যায়ের বর্ণনাগুলোতে কান্না, বিলাপ এবং তার ব্যাখ্যা একসঙ্গে এসেছে। তাই সাধারণ দয়ার অশ্রু এবং উচ্চস্বরে বিলাপের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। এই হাদিস শোকের মুহূর্তে আবেগকে সীমার মধ্যে রাখার কথা শেখায়। কেউ মারা গেলে কষ্ট হবে, কিন্তু কষ্টের প্রকাশ যেন নিয়ন্ত্রণহীন না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকের সময় জীবিতদের আচরণ মৃতের প্রসঙ্গে গুরুতর বিষয় হিসেবে এসেছে।
- আবেগের মুহূর্তেও নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী স্মরণ করা উচিত।
- কান্না ও বিলাপের পার্থক্য বোঝা দরকার।
- মৃতের জন্য অতিরিক্ত চিৎকার ও বিলাপ থেকে সতর্ক থাকতে হয়।
