২৩/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮৮ - কান্না ও দায় বহনের ব্যাখ্যা
নবী (ﷺ)-এর বাণী: পরিবার-পরিজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়, যদি বিলাপ করা তার অভ্যাস হয়ে থাকে।
لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾قُوا أَنْفُسَكُمْ وَأَهْلِيكُمْ نَارًا﴿ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ كُلُّكُمْ رَاعٍ وَمَسْئُولٌ عَنْ رَعِيَّتِهِ فَإِذَا لَمْ يَكُنْ مِنْ سُنَّتِهِ فَهُوَ كَمَا قَالَتْ عَائِشَةُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا ﴾لَا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴿ وَهُوَ كَقَوْلِهِ ﴾وَإِنْ تَدْعُ مُثْقَلَةٌ﴿ ذُنُوبًا ﴾إِلَى حِمْلِهَا لَا يُحْمَلْ مِنْهُ شَيْءٌ﴿ وَمَا يُرَخَّصُ مِنَ الْبُكَاءِ فِي غَيْرِ نَوْحٍ وَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ لَا تُقْتَلُ نَفْسٌ ظُلْمًا إِلَّا كَانَ عَلَى ابْنِ آدَمَ الْأَوَّلِ كِفْلٌ مِنْ دَمِهَا وَذَلِكَ لِأَنَّهُ أَوَّلُ مَنْ سَنَّ الْقَتْلَকারণ আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: (যার অর্থ) “তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।” (তাহরীম: ৬)। এবং নবী (ﷺ) বলেছেন: তোমাদের প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং প্রত্যেকেই তার নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। কিন্তু তা যদি তার অভ্যাস না হয়ে থাকে তবে তার বিধান হবে যা ‘আয়িশা (রাঃ) ব্যক্ত করেছেন: (যার অর্থ) “নিজ বোঝা বহনকারী কোনো ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না” (আল-আন‘আম: ১৬৪)। আর এ হলো আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর ন্যায় “কোনো (গুনাহের) বোঝা বহনকারী ব্যক্তি যদি কাউকেও তা বহন করার আহ্বান জানায় তবে তা থেকে কিছুই বহন করা হবে না” (ফাতির: ১৮)। আর বিলাপ ব্যতীত ক্রন্দনের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।নবী (ﷺ) বলেছেন: অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা হলে সে হত্যার অপরাধের অংশ প্রথম আদম সন্তান (কাবিল) এর উপর বর্তাবে। আর সেটা এ কারণে যে, সেই প্রথম ব্যক্তি যে হত্যার প্রবর্তন করেছে।"
মৃতের জন্য কান্না: আয়িশা (রাঃ)-এর ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ১২৮৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১২৮৮
قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما فَلَمَّا مَاتَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ ذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ فَقَالَتْ رَحِمَ اللَّهُ عُمَرَ، وَاللَّهِ مَا حَدَّثَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِنَّ اللَّهَ لَيُعَذِّبُ الْمُؤْمِنَ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ. وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِنَّ اللَّهَ لَيَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَابًا بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ ". وَقَالَتْ حَسْبُكُمُ الْقُرْآنُ ﴾وَلاَ تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى﴿. قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ عِنْدَ ذَلِكَ وَاللَّهُ هُوَ أَضْحَكَ وَأَبْكَى. قَالَ ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ وَاللَّهِ مَا قَالَ ابْنُ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ شَيْئًا.
ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, ‘উমর (রাঃ)-এর মৃত্যুর পর ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট আমি ‘উমর (রাঃ)-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বললেন, আল্লাহ্ ‘উমর (রাঃ)-কে রহম করুন। আল্লাহর কসম! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার (মৃত) ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তা‘আলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে।অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, (এ ব্যাপারে) আল্লাহর কোরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। (ইরশাদ হয়েছে) : ‘বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করবে না’- (আন‘আম ১৬৪)। তখন ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্ই (বান্দাকে) হাসান এবং কাঁদান করান। রাবী ইব্নু আবূ মুলাইকা (রহঃ) বলেন, আল্লাহর কসম! (এ কথা শুনে) ইব্নু ‘উমর (রাঃ) কোন মন্তব্য করলেন না।
সহীহ বুখারী হাদিস ১২৮৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আগের আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) উমর (রাঃ)-এর কথা আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে বললে তিনি বলেন, আল্লাহ উমর (রাঃ)-কে রহম করুন। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ মুমিন মৃত ব্যক্তিকে তার পরিবারের কান্নার কারণে আজাব দেন। বরং তিনি বলেছেন, কাফিরের ওপর তার পরিবারের কান্নার কারণে আজাব বাড়ানো হয়। এরপর আয়িশা (রাঃ) কুরআনের আয়াত স্মরণ করালেন—কেউ অন্যের বোঝা বহন করবে না। এই হাদিস আমাদের শেখায়, হাদিস বুঝতে সতর্কতা দরকার। একই বিষয়ের বিভিন্ন বর্ণনা ও কুরআনের মূলনীতি মিলিয়ে কথা বুঝতে হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিন অন্যের অপরাধের বোঝা বহন করে না—এ কথা আয়িশা (রাঃ) স্মরণ করিয়েছেন।
- হাদিসের বক্তব্য বুঝতে ভুল হলে জ্ঞানীরা তা ব্যাখ্যা করতেন।
- কুরআনের মূলনীতি হাদিস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
- কান্না বিষয়ে কথা বলতে সতর্ক ভাষা ব্যবহার করা দরকার।
