২৩/৪৪. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০৪ - কান্না নয়, জিহ্বার ভুল কথাই বিপদ

রোগাক্রান্ত ব্যক্তির নিকট কান্নাকাটি করা।

رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ ؓ عَنِ النَّبِيِّ ﷺমূসা (রহঃ)....আনাস (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন। (মুসলিম ৪৩/১৫, হাঃ ২৩১৫, আহমাদ ১৩০১৩) (আ.প্র. ১২১৮, ই.ফা. ১২২৫)"

বিলাপ থেকে বাঁচুন: চোখের পানি নয়, জিহ্বার হিসাব আছে

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩০৪

حَدَّثَنَا أَصْبَغُ، عَنِ ابْنِ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْحَارِثِ الأَنْصَارِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ اشْتَكَى سَعْدُ بْنُ عُبَادَةَ شَكْوَى لَهُ فَأَتَاهُ النَّبِيُّ ﷺ يَعُودُهُ مَعَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَوْفٍ وَسَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَسْعُودٍ ـ رضى الله عنهم ـ فَلَمَّا دَخَلَ عَلَيْهِ فَوَجَدَهُ فِي غَاشِيَةِ أَهْلِهِ فَقَالَ «قَدْ قَضَى». قَالُوا لاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ. فَبَكَى النَّبِيُّ ﷺ فَلَمَّا رَأَى الْقَوْمُ بُكَاءَ النَّبِيِّ ﷺ بَكَوْا فَقَالَ «أَلاَ تَسْمَعُونَ إِنَّ اللَّهَ لاَ يُعَذِّبُ بِدَمْعِ الْعَيْنِ، وَلاَ بِحُزْنِ الْقَلْبِ، وَلَكِنْ يُعَذِّبُ بِهَذَا ـ وَأَشَارَ إِلَى لِسَانِهِ ـ أَوْ يَرْحَمُ وَإِنَّ الْمَيِّتَ يُعَذَّبُ بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ». وَكَانَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ يَضْرِبُ فِيهِ بِالْعَصَا، وَيَرْمِي بِالْحِجَارَةِ وَيَحْثِي بِالتُّرَابِ.

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

সা’দ ইব্‌নু ‘উবাদাহ (রাঃ) রোগাক্রান্ত হলেন। নবী (ﷺ) ‘আবদুর রাহমান ইব্‌নু ‘আওফ’ সা’দ ইব্‌নু আবূ ওয়াক্কাস এবং ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু মাস’উদ (রাঃ)-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখতে আসলেন। তিনি তাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখতে পেলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তাঁর কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বললেন, না। হে আল্লাহর রাসূল! তখন নবী (ﷺ) কেঁদে ফেললেন। নবী (ﷺ)-এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন।তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্‌ তা’আলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে ‘আযাব দিবেন না। তিনি ‘আযাব দিবেন এর কারণে (এ বলে) জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তাঁর পরিজনের বিলাপের কারণে ‘আযাব দেয়া হয়’। ‘উমর (রাঃ) এ (ধরণের কান্নার) কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০৪-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) শোকের সময় কান্না ও বিলাপের পার্থক্য স্পষ্ট করেছেন। সাদ ইবন উবাদা (রাঃ) অসুস্থ হলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে দেখতে যান। তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখে নবী (صلى الله عليه وسلم) কেঁদে ফেলেন, আর উপস্থিত লোকেরাও কাঁদেন। এরপর তিনি বলেন, আল্লাহ চোখের পানি ও অন্তরের শোকের কারণে আজাব দেন না। তিনি জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করে জানান, আজাব বা রহমতের বিষয় মুখের কথার সঙ্গে জড়িত হতে পারে। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, শোকের সময় কান্না আসলে তা এক কথা; কিন্তু বিলাপ, অভিযোগপূর্ণ কথা বা সীমা ছাড়ানো ভাষা থেকে বাঁচা জরুরি। মৃত্যুর মুহূর্তে ভাষা সংযত রাখা মুমিনের বড় দায়িত্ব।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • চোখের পানি ও হৃদয়ের কষ্টের কারণে আল্লাহ আজাব দেন না।
  • শোকের সময় জিহ্বা সংযত রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
  • বিলাপ ও সীমা ছাড়ানো কান্না থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
  • অসুস্থ মানুষকে দেখতে যাওয়া নবীজির আমলের একটি শিক্ষা।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন