২৩/৪৩. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০৩ - চোখের পানি, হৃদয়ের শোক ও আল্লাহর সন্তুষ্টি

নবী (ﷺ)-এর বাণী: তোমার জন্য আমরা অবশ্যই শোকাভিভূত।

وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ ؓ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ تَدْمَعُ الْعَيْنُ وَيَحْزَنُ الْقَلْبُইবন ‘উমার (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন, (বিপদে) চোখ অশ্রুসজল হয়, অন্তর হয় ব্যথিত।"

শোক ও রহমত: চোখের পানি নিয়ে নবীজির কোমল শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩০৩

حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ عَبْدِ الْعَزِيزِ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ حَسَّانَ، حَدَّثَنَا قُرَيْشٌ ـ هُوَ ابْنُ حَيَّانَ ـ عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ دَخَلْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى أَبِي سَيْفٍ الْقَيْنِ ـ وَكَانَ ظِئْرًا لإِبْرَاهِيمَ ـ عَلَيْهِ السَّلاَمُ ـ فَأَخَذَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ إِبْرَاهِيمَ فَقَبَّلَهُ وَشَمَّهُ، ثُمَّ دَخَلْنَا عَلَيْهِ بَعْدَ ذَلِكَ، وَإِبْرَاهِيمُ يَجُودُ بِنَفْسِهِ، فَجَعَلَتْ عَيْنَا رَسُولِ اللَّهِ ﷺ تَذْرِفَانِ. فَقَالَ لَهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَوْفٍ ـ رضى الله عنه ـ وَأَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ فَقَالَ «يَا ابْنَ عَوْفٍ إِنَّهَا رَحْمَةٌ». ثُمَّ أَتْبَعَهَا بِأُخْرَى فَقَالَ ﷺ " إِنَّ الْعَيْنَ تَدْمَعُ، وَالْقَلْبَ يَحْزَنُ، وَلاَ نَقُولُ إِلاَّ مَا يَرْضَى رَبُّنَا، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا إِبْرَاهِيمُ لَمَحْزُونُونَ».رَوَاهُ مُوسَى عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ الْمُغِيرَةِ عَنْ ثَابِتٍ عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমরা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে আবূ সায়ফ্‌ কর্মকারের নিকট গেলাম। তিনি ছিলেন (নবী -তনয়) ইব্‌রাহীম (রাঃ)-এর দুধ সম্পর্কীয় পিতা। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইব্‌রাহীম (রাঃ)-কে তুলে নিয়ে চুমু খেলেন এবং নাকে-মুখে লাগালেন। অতঃপর (আরেক বার) আমরা তাঁর (আবূ সায়ফ্‌-এর) বাড়িতে গেলাম। তখন ইব্‌রাহীম (রাঃ) মুমূর্ষু অবস্থায়। এতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর উভয় চক্ষু হতে অশ্রু ঝরতে লাগল।তখন ‘আবদুর রহমান ইব্‌নু ‘আওফ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আর আপনিও? (ক্রন্দন করছেন?)। তখন তিনি বললেনঃ অশ্রু প্রবাহিত হয় আর হৃদয় হয় ব্যথিত। তবে আমরা মুখে তা-ই বলি যা আমাদের রব পছন্দ করেন। [১৭] আর হে ইব্‌রাহীম! তোমার বিচ্ছেদে আমরা অবশ্যই শোকসন্তপ্ত। [১৮]মূসা (রহঃ)….আনাস (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে হাদীসটি বর্ণনা করেন।

[১৭] হাদিসটি হতে বিপদে অশ্রু ঝরানো আর মহান আল্লাহর নাফরমানী প্রকাশক শব্দাবলী বাদ দিয়ে মুখে শোক প্রকাশ করার অনুমতি পাওয়া যায়, পক্ষান্তরে মহান আল্লাহর নাফরমানী হয় কিংবা তাকদীরের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশক শব্দাবলী পরিত্যাগ করার তাকীদ দেয়া হয়।[১৮] এ ধরনের বাকরীতি বিভিন্ন ভাষায় বিদ্যমান আছে। সুতরাং আরবীতে তো থাকবেই। বিধায় মৃত ব্যক্তিকে সংশোধন করার দলীল হিসাবে নবী (ﷺ) এর বাণীটি ব্যবহার করার কোনই অবকাশ নেই।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে শোক, কান্না এবং মুখের কথার সীমা খুব সুন্দরভাবে শেখানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর পুত্র ইব্রাহিমকে ভালোবাসতেন। তিনি তাঁকে কোলে নিয়েছেন, চুমু দিয়েছেন এবং তাঁর প্রতি মমতা দেখিয়েছেন। পরে যখন ইব্রাহিম মুমূর্ষু অবস্থায় ছিলেন, তখন নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর চোখে পানি আসে। আবদুর রহমান ইবন আওফ (রাঃ) অবাক হলে তিনি বলেন, এটা রহমত। এরপর তিনি বুঝিয়ে দেন, চোখ কাঁদে, হৃদয় ব্যথিত হয়; কিন্তু মুখে শুধু এমন কথা বলা হবে যা রব পছন্দ করেন। তাই ইসলামে শোকের হাদিস মানে অনুভূতি চাপা দেওয়া নয়। বরং দুঃখের মাঝেও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট থাকা এবং ভাষাকে সংযত রাখা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • প্রিয়জনের মৃত্যুতে চোখের পানি আসা মানবিক বিষয়।
  • হৃদয়ের শোক দোষ নয়, যদি মুখে আল্লাহর অপছন্দনীয় কথা না আসে।
  • কান্না ও বিলাপ এক জিনিস নয়; হাদিসে ভাষার সীমা শেখানো হয়েছে।
  • শোকের সময়ও আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা মনে রাখা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন