২৩/৪১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০১ - শোকের সময় সবর ও বরকতের শিক্ষা
বিপদের সময় দুঃখ প্রকাশ না করা।
وَقَالَ مُحَمَّدُ بْنُ كَعْبٍ الْقُرَظِيُّ الْجَزَعُ الْقَوْلُ السَّيِّئُ وَالظَّنُّ السَّيِّئُ وَقَالَ يَعْقُوبُ عَلَيْهِ السَّلَامُ ﴾إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ﴿ (يوسف : ٨٦মুহাম্মাদ ইবন কা‘ব (রহঃ) বলেন, অস্থিরতা হচ্ছে মন্দ বাক্য উচ্চারণ করা, কুধারণা পোষণ করা। ই‘য়াকূব আলাইহিস সালাম বলেছেন: “আমি আমার অসহনীয় বেদনা ও আমার দুঃখ শুধু আল্লাহর নিকট নিবেদন করছি।” (সূরা ইউসুফ (১২) : ৮৬)"
সবরের শিক্ষা: আবু তালহার পরিবারের ঘটনা থেকে জীবন বদলানো পাঠ
সহীহ বুখারী : ১৩০১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩০১
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْحَكَمِ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ يَقُولُ اشْتَكَى ابْنٌ لأَبِي طَلْحَةَ ـ قَالَ ـ فَمَاتَ وَأَبُو طَلْحَةَ خَارِجٌ، فَلَمَّا رَأَتِ امْرَأَتُهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ هَيَّأَتْ شَيْئًا وَنَحَّتْهُ فِي جَانِبِ الْبَيْتِ، فَلَمَّا جَاءَ أَبُو طَلْحَةَ قَالَ كَيْفَ الْغُلاَمُ قَالَتْ قَدْ هَدَأَتْ نَفْسُهُ، وَأَرْجُو أَنْ يَكُونَ قَدِ اسْتَرَاحَ.وَظَنَّ أَبُو طَلْحَةَ أَنَّهَا صَادِقَةٌ، قَالَ فَبَاتَ، فَلَمَّا أَصْبَحَ اغْتَسَلَ، فَلَمَّا أَرَادَ أَنْ يَخْرُجَ، أَعْلَمَتْهُ أَنَّهُ قَدْ مَاتَ، فَصَلَّى مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثُمَّ أَخْبَرَ النَّبِيَّ ﷺ بِمَا كَانَ مِنْهُمَا، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَعَلَّ اللَّهَ أَنْ يُبَارِكَ لَكُمَا فِي لَيْلَتِكُمَا». قَالَ سُفْيَانُ فَقَالَ رَجُلٌ مِنَ الأَنْصَارِ فَرَأَيْتُ لَهُمَا تِسْعَةَ أَوْلاَدٍ كُلُّهُمْ قَدْ قَرَأَ الْقُرْآنَ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ তালহা (রাঃ)-এর এক পুত্র অসুস্থ হয়ে পড়ল। বর্ণনাকারী বলেন, তার মৃত্যু হলো। তখন আবূ তালহা (রাঃ) বাড়ির বাইরে ছিলেন। তাঁর স্ত্রী যখন দেখলেন যে, ছেলেটি মারা গেছে, তখন তিনি কিছু প্রস্তুতি নিলেন [১] এবং ছেলেটিকে ঘরের এক কোণে রেখে দিলেন। আবূ তালহা (রাঃ) বাড়িতে এসে জিজ্ঞেস করলেন, ছেলের অবস্থা কেমন? স্ত্রী জওয়াব দিলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে এবং আশা করি সে এখন আরাম পাচ্ছে। আবূ তালহা ভাবলেন তাঁর স্ত্রী সত্য বলেছেন। রাবী বলেন, তিনি রাত যাপন করলেন এবং ভোরে গোসল করলেন। তিনি বাইরে যেতে উদ্যত হলে স্ত্রী তাঁকে জানালেন, ছেলেটি মারা গেছে।অতঃপর তিনি নবী (ﷺ)-এর সঙ্গে (ফজরের) সালাত আদায় করলেন। অতঃপর নবী (ﷺ)-কে তাঁদের রাতের ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করলেনঃ আশা করা যায়, আল্লাহ্ তা’আলা তোমাদের এ রাতে বরকত দিবেন। সুফিয়ান (রহঃ) বলেন, এক ব্যক্তি বর্ণনা করেছেন, আমি আবূ তালহা (রাঃ) দম্পতির নয় জন সন্তান দেখেছি, তাঁরা সবাই কোরআন পাঠ করেছে।
[১] যাতে স্বামী ব্যাপারটি বুঝতে না পারেন তজ্জন্য তিনি নিজেই শিশুটির গোসল ও কাফনের ব্যবস্থা করলেন, অথবা খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত করলেন, অথবা স্বামীর সঙ্গলাভের জন্য সাজ-সজ্জার প্রস্তুতি নিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সবর, শোকের সময় সংযম এবং আল্লাহর ফয়সালার প্রতি নীরব আস্থা। আবু তালহা (রাঃ)-এর পুত্র মারা যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী খুব স্থিরভাবে বিষয়টি সামলান। তিনি শিশুটিকে ঘরের এক পাশে রাখেন এবং স্বামীকে সরাসরি কঠিন খবরটি সঙ্গে সঙ্গে না জানিয়ে কোমল ভাষায় বলেন, তার আত্মা শান্ত হয়েছে। পরে ভোরে তিনি মৃত্যু সংবাদ জানান। আবু তালহা (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে সালাত আদায় করেন এবং ঘটনা জানান। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁদের রাতের জন্য বরকতের আশা প্রকাশ করেন। হাদিসটি আমাদের শেখায়, বিপদের সময় অস্থির না হয়ে ধৈর্য রাখা, কথা ও আচরণে ভারসাম্য রাখা এবং শোকের মাঝেও আল্লাহর দিকে ফিরে থাকা মুমিনের সুন্দর গুণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সন্তানের মৃত্যু বা বড় বিপদেও ধৈর্য ধরা মুমিনের বড় গুণ।
- কঠিন খবর জানানোর সময় কোমল ভাষা ও সময়জ্ঞান দরকার।
- শোকের মধ্যেও সালাত ও আল্লাহর স্মরণ মানুষকে স্থির রাখে।
- আল্লাহ চাইলে কঠিন ঘটনার পরও পরিবারে বরকতের দরজা খুলে দিতে পারেন।
