২৩/৮০. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৬০ - আবূ তালিবকে কালিমার দাওয়াত ও শেষ মুহূর্তের শিক্ষা

মৃত্যুকালে কোন মুশরিক ব্যক্তি ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ বললে।

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: আবূ তালিবের শেষ সময়ের শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৬০

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي سَعِيدُ بْنُ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، لَمَّا حَضَرَتْ أَبَا طَالِبٍ الْوَفَاةُ جَاءَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَوَجَدَ عِنْدَهُ أَبَا جَهْلِ بْنَ هِشَامٍ، وَعَبْدَ اللَّهِ بْنَ أَبِي أُمَيَّةَ بْنِ الْمُغِيرَةِ، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ لأَبِي طَالِبٍ " يَا عَمِّ، قُلْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ، كَلِمَةً أَشْهَدُ لَكَ بِهَا عِنْدَ اللَّهِ ".فَقَالَ أَبُو جَهْلٍ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي أُمَيَّةَ يَا أَبَا طَالِبٍ، أَتَرْغَبُ عَنْ مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ فَلَمْ يَزَلْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَعْرِضُهَا عَلَيْهِ، وَيَعُودَانِ بِتِلْكَ الْمَقَالَةِ، حَتَّى قَالَ أَبُو طَالِبٍ آخِرَ مَا كَلَّمَهُمْ هُوَ عَلَى مِلَّةِ عَبْدِ الْمُطَّلِبِ، وَأَبَى أَنْ يَقُولَ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَا وَاللَّهِ لأَسْتَغْفِرَنَّ لَكَ، مَا لَمْ أُنْهَ عَنْكَ ". فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ {مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ} الآيَةَ.

সাঈদ ইবনু মুসায়্যাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবূ তালিব এর মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার নিকট আসলেন। তিনি সেখানে আবূ জাহ্‌ল ইব্‌নু হিশাম ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ উমায়্যা ইব্‌নু মুগীরাকে উপস্থিত দেখতে পেলেন। (রাবী বলেন) আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আবূ তালিবকে লক্ষ্য করে বললেনঃ চাচাজান! ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ কালিমা পাঠ করুন, তাহলে এর অসীলায় আমি আল্লাহর সমীপে আপনার জন্য সাক্ষী দিতে পারব।আবূ জাহ্‌ল ও ‘আবদুল্লাহ্‌ ইব্‌নু আবূ উমায়্যা বলে উঠল, ওহে আবূ তালিব! তুমি কি আবদুল মুত্তালিবের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তার নিকট কালিমাহ পেশ করতে থাকেন, আর তারা দু’জনও তাদের উক্তি পুনরাবৃত্তি করতে থাকে। অবশেষে আবূ তালিব তাদের সামনে শেষ কথাটি যা বলল, তা এই যে, সে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের উপর অবিচল রয়েছে, সে ‘লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহু’ বলতে অস্বীকার করল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ আল্লাহর কসম! তবুও আমি আপনার জন্য মাগফিরাত কামনা করতে থাকব, যতক্ষণ না আমাকে তা হতে নিষেধ করা হয়।এ প্রসঙ্গে আল্লাহ তা'আলা নাযিল করেনঃ - (নবীর জন্য সঙ্গত নয়......) مَا كَانَ لِلنَّبِيِّ.. (সূরা আত্‌-তাওবাহ্ঃ ১১৩)।

সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৬০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবূ তালিবের মৃত্যুর সময়ের ঘটনা এসেছে। আল্লাহর রসূল صلى الله عليه وسلم তাঁর কাছে গিয়ে বলেন, চাচাজান, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলুন; এর মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য সাক্ষ্য দিতে পারবেন। সেখানে আবূ জাহল ও আবদুল্লাহ ইবনু আবূ উমাইয়া উপস্থিত ছিল। তারা বারবার আবূ তালিবকে আবদুল মুত্তালিবের ধর্মের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। নবী صلى الله عليه وسلم বারবার কালিমা পেশ করেন, কিন্তু আবূ তালিব শেষ পর্যন্ত তা বলতে অস্বীকার করে। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, নিষেধ না আসা পর্যন্ত তিনি তার জন্য মাগফিরাত চাইবেন। পরে এ বিষয়ে আয়াত নাযিল হয় যে, মুশরিকদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করা নবী ও মুমিনদের জন্য উচিত নয়। হাদিসটি কালিমা, ঈমান, শেষ সময়ের দাওয়াত এবং আল্লাহর বিধানের সামনে থেমে যাওয়ার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • শেষ সময়ে কালিমার দাওয়াতের গুরুত্ব এখানে দেখা যায়।
  • সঙ্গী ও পরিবেশ মানুষের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
  • নবী صلى الله عليه وسلم বারবার দাওয়াত দিলেও আবূ তালিব অস্বীকার করে।
  • আল্লাহর নির্দেশ আসার পর ক্ষমা প্রার্থনার সীমা স্পষ্ট হয়।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন