২৩/৭৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৫৯ - প্রতিটি শিশুর ফিতরাত ও পিতামাতার প্রভাব
কোন বালক ইসলাম গ্রহণ করে মারা গেলে তার জন্য (জানাজার) সালাত আদায় করা যাবে কি? বালকের নিকট ইসলামের দাওয়াত দেয়া যাবে কি?
وَقَالَ الْحَسَنُ وَشُرَيْحٌ وَإِبْرَاهِيمُ وَقَتَادَةُ إِذَا أَسْلَمَ أَحَدُهُمَا فَالْوَلَدُ مَعَ الْمُسْلِمِ وَكَانَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا مَعَ أُمِّهِ مِنَ الْمُسْتَضْعَفِينَ وَلَمْ يَكُنْ مَعَ أَبِيهِ عَلَى دِينِ قَوْمِهِ وَقَالَ الْإِسْلَامُ يَعْلُو وَلَا يُعْلَىহাসান, শুরাইহ, ইবরাহীম ও কাতাদা (রহঃ) বলেছেন, পিতা-মাতার কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে সন্তান মুসলিম ব্যক্তির সঙ্গে থাকবে। ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) তাঁর মায়ের সাথে ‘মুস্তায‘আফীন’ (দুর্বল ও নির্যাতিত জামা‘আত)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিলেন তাঁকে তাঁর পিতা (আব্বাস)-এর সাথে ‘তার কওমের (মুশরিকদের) ধর্মে গণ্য করা হত না। নবী (ﷺ) ইরশাদ করেছেন: ইসলাম বিজয়ী হয়, বিজিত হয় না।"
প্রতিটি শিশু ফিতরাতের উপর জন্মায়: পিতামাতার দায়িত্ব
সহীহ বুখারী : ১৩৫৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৫৯
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، أَخْبَرَنِي أَبُو سَلَمَةَ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَا مِنْ مَوْلُودٍ إِلاَّ يُولَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ، فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ أَوْ يُنَصِّرَانِهِ أَوْ يُمَجِّسَانِهِ، كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ، هَلْ تُحِسُّونَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ ". ثُمَّ يَقُولُ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه {فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لاَ تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ}
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ প্রত্যেক নবজাতকই ফিত্রাতের উপর জন্মলাভ করে। অতঃপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহূদী, নাসারা বা মাজূসী (অগ্নিপূজারী) রূপে গড়ে তোলে। যেমন, চতুষ্পদ পশু একটি পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়। তোমরা কি তাকে কোন (জন্মগত) কানকাটা দেখতে পাও?অতঃপর আবূ হুরায়রা (রাঃ) তিলাওয়াত করলেনঃ (فِطْرَةَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ ذَلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ) (যার অর্থ) “আল্লাহর দেয়া ফিত্রাতের অনুসরণ কর, যে ফিত্রাতের উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন, এটাই সরল সুদৃঢ় দ্বীন”- (সূরা রুমঃ ৩০)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৫৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم শিশুর জন্মগত ফিতরাত সম্পর্কে পরিষ্কার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মায়। এরপর তার পিতামাতা তাকে ইয়াহুদি, নাসারা বা মাজুসী রূপে গড়ে তোলে। বোঝানোর জন্য তিনি পশুর উদাহরণ দেন—চতুষ্পদ পশু পূর্ণাঙ্গ বাচ্চা জন্ম দেয়; তোমরা কি তাকে জন্মগত কানকাটা দেখতে পাও? অর্থাৎ জন্মের স্বাভাবিক অবস্থা পরে মানুষের কাজের মাধ্যমে বদলে যেতে পারে। এরপর আবু হুরাইরা (রাঃ) সূরা রূমের আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের কথা এসেছে। এই হাদিস বাবা-মায়ের দায়িত্ব, শিশুর মন গঠন এবং তাওহীদের স্বাভাবিক ভিত্তি সম্পর্কে গভীর কিন্তু সহজ শিক্ষা দেয়। শিশুর পরিবেশ তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিটি নবজাতক ফিতরাতের উপর জন্মায়।
- পিতামাতার শিক্ষা সন্তানের ধর্মীয় গঠনে প্রভাব ফেলে।
- নবী صلى الله عليه وسلم উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি সহজ করে বুঝিয়েছেন।
- আল্লাহর দেওয়া ফিতরাতের কথা কুরআনের আয়াত দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
