২৪/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯৮ - ঈমান, সালাত, যাকাত ও খুমুস
যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “সালাত কায়িম কর ও যাকাত আদায় কর।” (আল-বাকারা: ৪৩, ৮৩, ১১০)وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ ؓ فَذَكَرَ حَدِيثَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّلَةِ وَالْعَفَافِইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: আবূ সুফিয়ান (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর হাদীস উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে সালাত (প্রতিষ্ঠা করা), যাকাত (আদায় করা), আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও পবিত্রতা রক্ষা করার আদেশ দেন।"
আবদুল কায়স প্রতিনিধি দলের শিক্ষা: ঈমান, সালাত ও যাকাত
সহীহ বুখারী : ১৩৯৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৯৮
حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو جَمْرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ يَقُولُ قَدِمَ وَفْدُ عَبْدِ الْقَيْسِ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّ هَذَا الْحَىَّ مِنْ رَبِيعَةَ قَدْ حَالَتْ بَيْنَنَا وَبَيْنَكَ كُفَّارُ مُضَرَ، وَلَسْنَا نَخْلُصُ إِلَيْكَ إِلاَّ فِي الشَّهْرِ الْحَرَامِ، فَمُرْنَا بِشَىْءٍ نَأْخُذُهُ عَنْكَ، وَنَدْعُو إِلَيْهِ مَنْ وَرَاءَنَا. قَالَ «آمُرُكُمْ بِأَرْبَعٍ، وَأَنْهَاكُمْ عَنْ أَرْبَعٍ الإِيمَانِ بِاللَّهِ وَشَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ـ وَعَقَدَ بِيَدِهِ هَكَذَا ـ وَإِقَامِ الصَّلاَةِ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَأَنْ تُؤَدُّوا خُمُسَ مَا غَنِمْتُمْ، وَأَنْهَاكُمْ عَنِ الدُّبَّاءِ وَالْحَنْتَمِ وَالنَّقِيرِ وَالْمُزَفَّتِ ".وَقَالَ سُلَيْمَانُ وَأَبُو النُّعْمَانِ عَنْ حَمَّادٍ «الإِيمَانِ بِاللَّهِ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ ".
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (ﷺ)-এর দরবারে হাযির হয়ে আরয করলো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রাবী’আ গোত্রের লোক, আমাদের ও আপনার (মদীনার) মধ্যে মুযার গোত্রের কাফিররা বাধা হয়ে রয়েছে। আমরা আপনার কাছে কেবল নিষিদ্ধ মাস (যুদ্ধ বিরতির মাস) ব্যতীত নির্বিঘ্নে আসতে পারি না। কাজেই এমন কিছু, আমলের আদেশ করুন যা আমরা আপনার কাছ থেকে শিখে (আমাদের গোত্রের) অনুপস্থিতদেরকে সেদিকে আহ্বান করতে পারি।আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বললেনঃ তোমাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ করছি ও চারটি বিষয় থেকে নিষেধ করছি। (পালনীয় বিষয়গুলো হলোঃ) আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা তথা সাক্ষ্য প্রদান করা যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই। (রাবী বলেন) এ কথা বলার সময় নবী (ﷺ) (একক নির্দেশক) তাঁর হাতের অঙ্গুলি বন্ধ করেন, সালাত কায়েম করা, যাকাত আদায় করা ও তোমরা গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ আদায় করবে। আর আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি শুষ্ক কদুর খোলস, সবুজ রং প্রলেপযুক্ত পাত্র, খেজুর কাণ্ড নির্মিত পাত্র, তৈলজ পদার্থ প্রলেপযুক্ত মাটির পাত্র ব্যবহার করতে।সুলায়মান ও আবূ নুমান (রহঃ) হাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্ণিত হাদীসে ঈমান বিল্লাহ অর্থাৎ (আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোনো ইলাহ নেই একথার সাক্ষ্য দেয়া) এরূপ বর্ণনা করেছেন -- (ব্যতীত)।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈমান ও যাকাত। আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে এসে জানাল, তারা সব সময় আসতে পারে না; তাই এমন কিছু শেখাতে বলল, যা তারা নিজেদের লোকদের কাছে পৌঁছে দেবে। রাসূল صلى الله عليه وسلم তাদের চারটি বিষয়ের আদেশ দেন: আল্লাহর প্রতি ঈমান, আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত উপাস্য নেই—এই সাক্ষ্য, সালাত কায়েম, যাকাত আদায় এবং গনীমতের এক-পঞ্চমাংশ দেওয়া। পাশাপাশি চার ধরনের পাত্র ব্যবহার থেকে নিষেধ করেন। হাদিসটি দেখায়, দ্বীন শেখা শুধু নিজের জন্য নয়; শেখার পর অন্যদের কাছেও পৌঁছে দিতে হয়। এখানে ঈমান, সালাত, যাকাত ও আর্থিক দায়িত্ব একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দ্বীনের জ্ঞান শিখে অনুপস্থিতদের কাছে পৌঁছে দেওয়া ভালো কাজ।
- ঈমান, সালাত ও যাকাত ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
- আদেশের পাশাপাশি নিষেধ মানাও দ্বীনের অংশ।
