২৪/১. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯৯ - লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও ইসলামের নিরাপত্তা
যাকাত ওয়াজিব হওয়া প্রসঙ্গে।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَআল্লাহ তা‘আলার বাণী: “সালাত কায়িম কর ও যাকাত আদায় কর।” (আল-বাকারা: ৪৩, ৮৩, ১১০)وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا حَدَّثَنِي أَبُو سُفْيَانَ ؓ فَذَكَرَ حَدِيثَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ يَأْمُرُنَا بِالصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ وَالصِّلَةِ وَالْعَفَافِইবন ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন: আবূ সুফিয়ান (রাঃ) নবী (ﷺ)-এর হাদীস উল্লেখ করে বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদেরকে সালাত (প্রতিষ্ঠা করা), যাকাত (আদায় করা), আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখা ও পবিত্রতা রক্ষা করার আদেশ দেন।"
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ: জীবন-সম্পদের নিরাপত্তা ও আল্লাহর হিসাব
সহীহ বুখারী : ১৩৯৯
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৩৯৯
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ الْحَكَمُ بْنُ نَافِعٍ، أَخْبَرَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ بْنِ مَسْعُودٍ، أَنَّ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَكَانَ أَبُو بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ فَقَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ. فَمَنْ قَالَهَا فَقَدْ عَصَمَ مِنِّي مَالَهُ وَنَفْسَهُ إِلاَّ بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ ". فَقَالَ وَاللَّهِ لأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلاَةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا. قَالَ عُمَرُ ـ رضى الله عنه ـ فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلاَّ أَنْ قَدْ شَرَحَ اللَّهُ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ فَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবূ বকর (রাঃ)-এর খিলাফতের সময় আরবের কিছু লোক মুরতাদ হয়ে যায়। তখন ‘উমর (রাঃ) [আবূ বকর (রাঃ)-কে লক্ষ্য করে] বললেন, আপনি (সে সব) লোকদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন (যারা সম্পূর্ণ ধর্ম পরিত্যাগ করেনি, বরং যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে মাত্র)? অথচ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) ইরশাদ করেছেনঃ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু’ বলার পূর্ব পর্যন্ত মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার নির্দেশ আমাকে দেয়া হয়েছে, যে কেউ তা বললো, সে তার সম্পদ ও জীবন আমার পক্ষ থেকে নিরাপদ করে নিলো। তবে ইসলামের বিধান লঙ্ঘন করলে (শাস্তি দেয়া যাবে), আর তার অন্তরের গভীর (হৃদয়াভ্যন্তরে কুফরী বা পাপ লুকানো থাকলে এর) হিসাব-নিকাশ আল্লাহর যিম্মায়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৩৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো তাওহিদ ও ইসলামের বাহ্যিক নিরাপত্তা। রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর মৃত্যুর পর কিছু আরব মুরতাদ হলে উমর (রাঃ) আবু বকর (রাঃ)-কে প্রশ্ন করেন, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলে তাদের বিরুদ্ধে কীভাবে যুদ্ধ করবেন? তিনি রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর কথা উল্লেখ করেন: মানুষ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলা পর্যন্ত যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে; যে তা বলল, সে তার জীবন ও সম্পদ নিরাপদ করল, তবে ইসলামের হক থাকলে আলাদা, আর তার হিসাব আল্লাহর কাছে। হাদিসটি দেখায়, ইসলামের বাহ্যিক স্বীকৃতির মূল্য আছে। একই সাথে অন্তরের গোপন বিষয় আল্লাহর কাছে থাকে। মানুষের কাজ বাহ্যিক বিধান অনুযায়ী, আর চূড়ান্ত হিসাব আল্লাহর হাতে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইসলামের মূল সাক্ষ্য।
- মানুষের অন্তরের হিসাব আল্লাহর কাছে থাকে।
- ইসলামের বাহ্যিক বিধান ও হকের বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
