২৪/৫৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৭৬ - প্রকৃত মিসকীনের পরিচয়
মহান আল্লাহর বাণীঃ তারা মানুষের কাছে নাছোড় হয়ে যাঞ্ছা করে না- (আল-বাকারাঃ ২৭৩), আর ধনী হওয়ার পরিমাণ কত?
وَقَوْلِ النَّبِيُّ ﷺ وَلَا يَجِدُ غِنًى يُغْنِيهِ لِقَوْلِ اللَّهِ تَعَالَى ﴾لِلْفُقَرَاءِ الَّذِينَ أُحْصِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ ضَرْبًا فِي الْأَرْضِ﴿ إِلَى قَوْلِهِ ﴾فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴿নবী (ﷺ)-এর বাণী: “এবং এতটুকু পরিমাণ সম্পদ তার কাছে নেই, যা তাকে অভাবমুক্ত করতে পারবে।” (আল্লাহ বলেন) এ ব্যয় ঐ সব অভাবগ্রস্ত লোকদের জন্য যারা আল্লাহর পথে এমনভাবে ব্যাপৃত হয়ে পড়েছে যে, তারা জীবিকার সন্ধানে যমীনে ঘোরাফেরা করতে পারে না। ভিক্ষা না করার দরুন অজ্ঞ লোকেরা তাদের অভাবমুক্ত বলে মনে করে। তাদের লক্ষণ দেখলেই তুমি তাদের চিনতে পারবে। কাকুতি-মিনতি করে তারা মানুষের কাছে ভিক্ষা চায় না। আর যে সম্পদ তোমরা ব্যয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত। (আল-বাকারা: ২৭৩)"
প্রকৃত মিসকীন কে: লজ্জাশীল অভাবীর পরিচয়
সহীহ বুখারী : ১৪৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৪৭৬
حَدَّثَنَا حَجَّاجُ بْنُ مِنْهَالٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، أَخْبَرَنِي مُحَمَّدُ بْنُ زِيَادٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " لَيْسَ الْمِسْكِينُ الَّذِي تَرُدُّهُ الأُكْلَةُ وَالأُكْلَتَانِ، وَلَكِنِ الْمِسْكِينُ الَّذِي لَيْسَ لَهُ غِنًى وَيَسْتَحْيِي أَوْ لاَ يَسْأَلُ النَّاسَ إِلْحَافًا ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেনঃ সে ব্যক্তি প্রকৃত মিসকীন নয়, যাকে এক দু’লোকমা ফিরিয়ে দেয় (যথেষ্ট হয়) বরং সে-ই প্রকৃত মিসকীন যার কোন সম্পদ নেই, অথচ সে (চাইতে) লজ্জাবোধ করে অথবা লোকদেরকে আঁকড়ে ধরে যাচ্ঞা করে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৪৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم প্রকৃত মিসকীনের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, প্রকৃত মিসকীন শুধু সে নয়, যাকে এক-দুই লোকমা ফিরিয়ে দেয়। বরং প্রকৃত মিসকীন সেই ব্যক্তি, যার যথেষ্ট সম্পদ নেই, কিন্তু সে লজ্জাবোধ করে অথবা মানুষের কাছে জোর করে চায় না। এই হাদিস আমাদের দানের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেয়। অনেক অভাবী মানুষ প্রকাশ্যে হাত পাতেন না। তাঁদের অবস্থা বোঝা সহজ নাও হতে পারে। তাই দান করার সময় শুধু প্রকাশ্য ভিক্ষুক নয়, লজ্জাশীল অভাবী মানুষদের কথাও ভাবা দরকার। মিসকীন চেনার ক্ষেত্রে সহানুভূতি ও সতর্কতা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রকৃত মিসকীন অনেক সময় মানুষের কাছে জোর করে চায় না।
- অভাব সব সময় প্রকাশ্যে বোঝা যায় না।
- দান করার সময় লজ্জাশীল দরিদ্রদের খোঁজ নেওয়া দরকার।
- মানুষের মর্যাদা রক্ষা করে সাহায্য করা উত্তম।
