২৫/১৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৩১ - যাতু ইরক মীকাত নির্ধারণের ঘটনা
যাতু ‘ইরক হল ইরাকবাসীদের মীকাত
যাতু ইরক মীকাত: পথের কষ্ট বিবেচনা করে মীকাত নির্ধারণ
সহীহ বুখারী : ১৫৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৩১
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ مُسْلِمٍ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ نُمَيْرٍ حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللهِ عَنْ نَافِعٍ عَنْ ابْنِ عُمَرَ قَالَ لَمَّا فُتِحَ هَذَانِ الْمِصْرَانِ أَتَوْا عُمَرَ فَقَالُوا يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ حَدَّ لأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنًا وَهُوَ جَوْرٌ عَنْ طَرِيقِنَا وَإِنَّا إِنْ أَرَدْنَا قَرْنًا شَقَّ عَلَيْنَا قَالَ فَانْظُرُوا حَذْوَهَا مِنْ طَرِيقِكُمْ فَحَدَّ لَهُمْ ذَاتَ عِرْقٍ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যখন এ শহর দু’টি (কূফা ও বস্রা) বিজিত হলো, তখন সে স্থানের লোকগণ ‘উমর (রাঃ) এর নিকট এসে নিবেদন করলো, হে আমীরুল মু’মিনীন! আল্লাহর রাসূল (ﷺ) নাজদবাসীগণের জন্য (মীকাত হিসেবে) সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছেন ক্বারণ, কিন্তু তা আমাদের পথ হতে দূরে। কাজেই আমরা ক্বারণ-সীমা অতিক্রম করতে চাইলে তা হবে আমাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তা হলে তোমরা লক্ষ্য কর তোমাদের পথে ক্বারণ-এর সম-দূরত্বরেখা কোন স্থানটি? অতঃপর “যাতু ইরক্ব” মীকাতরূপে নির্ধারণ করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কুফা ও বসরার লোকদের একটি ঘটনার কথা এসেছে। তারা উমর (রাঃ)-এর কাছে এসে জানায়, আল্লাহর রাসূল (صلى الله عليه وسلم) নাজদবাসীদের জন্য কারন মীকাত নির্ধারণ করেছেন, কিন্তু সেটি তাদের পথ থেকে দূরে। তারা যদি কারন দিয়ে যেতে চায়, তবে তাদের জন্য কষ্টকর হবে। তখন উমর (রাঃ) বলেন, তোমাদের পথে কারনের সমদূরত্বে কোন স্থান আছে তা দেখো। এরপর যাতু ইরক তাদের জন্য মীকাত হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। এই হাদিসে মীকাতের নিয়মের সঙ্গে মানুষের যাত্রাপথের বাস্তব অবস্থাও বোঝা যায়। এখানে নিজের সুবিধামতো নিয়ম ভাঙা নয়; বরং নির্ধারিত সীমার সমদূরত্ব মেনে একটি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মীকাতের নিয়মে যাত্রাপথের বাস্তব অবস্থা বিবেচিত হতে পারে।
- কারনের সমদূরত্ব ধরে যাতু ইরক নির্ধারণ করা হয়।
- কষ্টের কথা বলা হলে দায়িত্বশীলভাবে সমাধান খোঁজা যায়।
- ইবাদতের নিয়ম পালনে শৃঙ্খলা ও ভারসাম্য দরকার।
