২৫/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৩০ - মীকাত ও যাত্রাপথ অনুযায়ী ইহরাম
ইয়ামেনবাসীদের মীকাত
যাত্রাপথের মীকাত: হজ্জ ও উমরাহর ইহরাম কোথা থেকে
সহীহ বুখারী : ১৫৩০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৫৩০
حَدَّثَنَا مُعَلَّى بْنُ أَسَدٍ حَدَّثَنَا وُهَيْبٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ طَاوُسٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ وَقَّتَ لأَهْلِ الْمَدِينَةِ ذَا الْحُلَيْفَةِ وَلأَهْلِ الشَّأْمِ الْجُحْفَةَ وَلأَهْلِ نَجْدٍ قَرْنَ الْمَنَازِلِ وَلأَهْلِ الْيَمَنِ يَلَمْلَمَ هُنَّ لأَهْلِهِنَّ وَلِكُلِّ آتٍ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِهِمْ مِمَّنْ أَرَادَ الْحَجَّ وَالْعُمْرَةَ فَمَنْ كَانَ دُونَ ذَلِكَ فَمِنْ حَيْثُ أَنْشَأَ حَتَّى أَهْلُ مَكَّةَ مِنْ مَكَّةَ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) মদীনাবাসীদের জন্য যুল-হুলায়ফাহ, সিরিয়াবাসীদের জন্য জুহ্ফা, নাজদবাসীদের জন্য ক্বারনুল-মানাযিল ও ইয়ামেনবাসীদের জন্য ইয়ালামলাম মীকাত নির্ধারণ করেছেন। [৫১] উক্ত মীকাতসমূহ হজ্জ ও উমরাহ’র উদ্দেশ্যে আগমনকারী সে স্থানের অধিবাসীদের জন্য এবং অন্য কোন এলাকার লোক ঐ সীমা দিয়ে অতিক্রম করবে তাদের জন্যও। এছাড়াও যারা মীকাতের ভিতরের অধিবাসী তারা যেখান হতে সফর আরম্ভ করবে সেখান হতেই (ইহ্রাম আরম্ভ করবে) এমন কি মক্কাবাসীগণ মক্কা হতেই।
[৫১]১। يَلَمْلَمَ ইয়ালামলাম। এটি ইয়েমানবাসী এবং ওই পথ যারা অতিক্রম করবে তাদের মীকাত। (এটিই বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান হতে আগত হজ্জযাত্রীদের মিকাত। ইয়ালামলাম একটি পর্বতের নাম- সমুদ্র হতে দেখা যায় না। জাহাজ তার বরাবর আসার প্রাক্কালে জাহাজের কাপ্তান বা হজ্জযাত্রীদের আমীরগণ তা জানিয়ে দেন)২। “যাতু ইরক্ব” মূলত নবী (ﷺ) ইরাকবাসীদের জন্য নির্ধারিত করেছিলেন। যেমনটি আবূ দাউদ হাঃ ১৭৩৯, নাসায়ী হজ্জ অধ্যায় প্রভৃতি গ্রন্থে বিশুদ্ধ হাদীস এসেছে [এটা সহীহ মুসলিমের হাঃ ১১৮৩- এসেছে তবে রাবীর সন্দেহ আছে এটা হাদীস হওয়ার ব্যাপারে] কিন্তু উমর (রাঃ) এর এটা নবী (ﷺ) এর জানা ছিল না বিধায় তিনি ইজতিহাদ করে তা নির্ধারণ করেন যা নবী (ﷺ) এর হাদীস ভিত্তিক হয়ে যায়। আর এ কথা সর্বজনবিদিত যে, তাঁর অনেক ইজতিহাদী বিধান কুরআন ও হাদীসের অনুকূল হত। অতএব উভয় প্রকার হাদীসে কোন দ্বন্দ্ব নেই।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৫৩০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) চার এলাকার মীকাত নির্ধারণ করেছেন। মদীনাবাসীর জন্য যুল-হুলাইফা, সিরিয়াবাসীর জন্য জুহফা, নাজদবাসীর জন্য কারনুল-মানাজিল এবং ইয়ামেনবাসীর জন্য ইয়ালামলাম। এরপর বলা হয়েছে, এ মীকাতগুলো শুধু ওই এলাকার মানুষের জন্য নয়; অন্য কোনো এলাকার লোক হজ্জ বা উমরাহর উদ্দেশ্যে এ সীমা দিয়ে গেলে তার জন্যও একই মীকাত। যারা মীকাতের ভেতরে থাকে, তারা যেখান থেকে সফর শুরু করবে, সেখান থেকেই ইহরাম শুরু করবে। মক্কাবাসীরা মক্কা থেকেই ইহরাম বাঁধবে। এই হাদিসে মীকাতের নিয়মকে সহজভাবে সাজানো হয়েছে। এতে বোঝা যায়, হজ্জ ও উমরাহর প্রস্তুতিতে পথ জানা, মীকাত জানা এবং সময়মতো ইহরাম বাঁধা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- যাত্রাপথ অনুযায়ী মীকাতের নিয়ম মানতে হয়।
- অন্য এলাকার মানুষও মীকাত দিয়ে গেলে সেই মীকাত থেকে ইহরাম বাঁধবে।
- মীকাতের ভেতরের মানুষ নিজের শুরুস্থান থেকে ইহরাম করবে।
- মক্কার মানুষ মক্কা থেকেই ইহরাম শুরু করবে।
