২৫/৬৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬১৮ - নারীদের তাওয়াফে পর্দা ও মিশ্রণ এড়ানোর শিক্ষা
পুরুষের সঙ্গে নারীদের তাওয়াফ করা।
নারীদের তাওয়াফ: পর্দা, দূরত্ব ও শালীনতার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ১৬১৮
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬১৮
و قَالَ لِي عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ قَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ أَخْبَرَنَا قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌإِذْ مَنَعَ ابْنُ هِشَامٍ النِّسَاءَ الطَّوَافَ مَعَ الرِّجَالِ قَالَ كَيْفَ يَمْنَعُهُنَّ وَقَدْ طَافَ نِسَاءُ النَّبِيِّ ﷺ مَعَ الرِّجَالِ قُلْتُ أَبَعْدَ الْحِجَابِ أَوْ قَبْلُ قَالَ إِي لَعَمْرِي لَقَدْ أَدْرَكْتُهُ بَعْدَ الْحِجَابِ قُلْتُ كَيْفَ يُخَالِطْنَ الرِّجَالَ قَالَ لَمْ يَكُنَّ يُخَالِطْنَ كَانَتْ عَائِشَةُ تَطُوفُ حَجْرَةً مِنْ الرِّجَالِ لاَ تُخَالِطُهُمْ فَقَالَتْ امْرَأَةٌ انْطَلِقِي نَسْتَلِمْ يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ قَالَتْ انْطَلِقِي عَنْكِ وَأَبَتْ يَخْرُجْنَ مُتَنَكِّرَاتٍ بِاللَّيْلِ فَيَطُفْنَ مَعَ الرِّجَالِ وَلَكِنَّهُنَّ كُنَّ إِذَا دَخَلْنَ الْبَيْتَ قُمْنَ حَتَّى يَدْخُلْنَ وَأُخْرِجَ الرِّجَالُ وَكُنْتُ آتِي عَائِشَةَ أَنَا وَعُبَيْدُ بْنُ عُمَيْرٍ وَهِيَ مُجَاوِرَةٌ فِي جَوْفِ ثَبِيرٍ قُلْتُ وَمَا حِجَابُهَا قَالَ هِيَ فِي قُبَّةٍ تُرْكِيَّةٍ لَهَا غِشَاءٌ وَمَا بَيْنَنَا وَبَيْنَهَا غَيْرُ ذَلِكَ وَرَأَيْتُ عَلَيْهَا دِرْعًا مُوَرَّدًا
‘আত্বা (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইব্নু হিশাম (রহঃ) যখন মহিলাদের পুরুষের সঙ্গে তাওয়াফ করতে নিষেধ করেন, তখন ‘আত্বা (রহঃ) তাঁকে বললেন, আপনি তাদের কী করে নিষেধ করেছেন, অথচ নবী সহধর্মিণীগণ পুরুষদের সঙ্গে তাওয়াফ করেছেন? [ইব্নু জুরাইজ (রহঃ) বলেন] আমি তাঁকে প্রশ্ন করলাম, তা কি পর্দার আয়াত নাযিল হওয়ার পরে, না পূর্বে? তিনি [আত্বা (রহঃ)] বললেন, হ্যাঁ আমার জীবনের কসম, আমি পর্দার আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পরের কথাই বলছি।আমি জানতে চাইলাম পুরুষগণ মহিলাদের সাথে মিলে কিভাবে তাওয়াফ করতেন? তিনি বললেন, পুরুষগণ মহিলাদের সাথে মিলে তাওয়াফ করতেন না। ‘আয়েশা (রাঃ) বরং পুরুষদের পাশ কাটিয়ে তাওয়াফ করতেন, তাদের মাঝে মিশে যেতেন না। এক মহিলা ‘আয়েশা (রাঃ) কে বললেন চলুন, হে উম্মুল ‘মু’মিনীন! আমরা তাওয়াফ করে আসি। তিনি বললেন, “তোমার মনে চাইলে তুমি যাও” আর তিনি যেতে অস্বীকার করলেন। তাঁরা রাতের বেলা পর্দা করে বের হয়ে (সম্পূর্ণ না মিশে) পুরুষদের পাশাপাশি থেকে তাওয়াফ করতেন। উম্মুল মু’মিনীনগণ বায়তুল্লাহর তাওয়াফ করতে চাইলে সকল পুরুষ বের করে না দেয়া পর্যন্ত তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকতেন।‘আত্বা (রহঃ) বলেন, ‘ঊবাইদ ইব্নু ‘উমাইর এবং আমি ‘আয়েশা (রাঃ) এর কাছে গেলাম, তিনি তখন “সবীর” পর্বতে অবস্থান করছিলেন।? [ইব্নু জুরাইজ (রহঃ) বলেন] আমি বললাম, তখন তিনি কি দিয়ে পর্দা করছিলেন? আত্বা (রহঃ) বললেন, তখন তিনি পর্দা ঝুলানো তুর্কী তাঁবুতে ছিলেন, এছাড়া তাঁর ও আমাদের মাঝে অন্য কোন কিছু ছিলনা। (অকস্মাৎ দৃষ্টি পড়ায়) আমি তাঁর গায়ে গোলাপি রং-এর চাদর দেখতে পেলাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় নারীদের তাওয়াফ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা এসেছে। আতা (রহঃ) বলেন, নবী صلى الله عليه وسلم-এর সহধর্মিণীরা পুরুষদের সঙ্গে তাওয়াফ করেছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তাঁরা পুরুষদের সঙ্গে মিশে যেতেন না। আয়েশা (রাঃ) পুরুষদের পাশ কাটিয়ে আলাদা দূরত্ব রেখে তাওয়াফ করতেন। এক মহিলা তাঁকে ইসতিলামের জন্য যেতে বললে তিনি নিজে যেতে অস্বীকার করেন। বর্ণনায় আরও আছে, তাঁরা রাতের বেলা পর্দা করে বের হতেন এবং বায়তুল্লাহর ভেতরে যেতে চাইলে পুরুষরা বের না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, নারীদের তাওয়াফের সুযোগ ছিল, কিন্তু শালীনতা, পর্দা ও মিশ্রণ এড়ানোর দিকটি বজায় রাখা হয়েছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীরা তাওয়াফ করেছেন, তবে পুরুষদের সঙ্গে মিশে যাননি।
- আয়েশা (রাঃ) দূরত্ব রেখে তাওয়াফ করতেন।
- ইসতিলামের জন্য ভিড়ে যাওয়ার বিষয় তিনি গ্রহণ করেননি।
- পর্দা ও শালীনতা বজায় রাখার দিকটি বর্ণনায় স্পষ্ট।
