২৫/৯৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৮৩ - মুযদালিফায় ফজর ও উকুফের সুন্নাহ
মুযদালিফায় ফজরের সালাত কখন আদায় করবে?
মুযদালিফায় ফজর, উকুফ ও তালবিয়া: হজ্জের ধারাবাহিক আমল
সহীহ বুখারী : ১৬৮৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৮৩
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللهِ بْنُ رَجَاءٍ حَدَّثَنَا إِسْرَائِيلُ عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ يَزِيدَ قَالَ خَرَجْنَا مَعَ عَبْدِ اللهِ إِلَى مَكَّةَ ثُمَّ قَدِمْنَا جَمْعًا فَصَلَّى الصَّلاَتَيْنِ كُلَّ صَلاَةٍ وَحْدَهَا بِأَذَانٍ وَإِقَامَةٍ وَالْعَشَاءُ بَيْنَهُمَا ثُمَّ صَلَّى الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ قَائِلٌ يَقُولُ طَلَعَ الْفَجْرُ وَقَائِلٌ يَقُولُ لَمْ يَطْلُعْ الْفَجْرُ ثُمَّ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّ هَاتَيْنِ الصَّلاَتَيْنِ حُوِّلَتَا عَنْ وَقْتِهِمَا فِي هَذَا الْمَكَانِ الْمَغْرِبَ وَالْعِشَاءَ فَلاَ يَقْدَمُ النَّاسُ جَمْعًا حَتَّى يُعْتِمُوا وَصَلاَةَ الْفَجْرِ هَذِهِ السَّاعَةَ ثُمَّ وَقَفَ حَتَّى أَسْفَرَ ثُمَّ قَالَ لَوْ أَنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ أَفَاضَ الآنَ أَصَابَ السُّنَّةَ فَمَا أَدْرِي أَقَوْلُهُ كَانَ أَسْرَعَ أَمْ دَفْعُ عُثْمَانَ فَلَمْ يَزَلْ يُلَبِّي حَتَّى رَمَى جَمْرَةَ الْعَقَبَةِ يَوْمَ النَّحْرِ
আবদুর রহমান ইবনু ইয়াযীদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) এর সঙ্গে মক্কা রওয়ানা হলাম। এরপর আমরা মুযদালিফায় পৌঁছলাম। তখন তিনি পৃথক পৃথক আযান ও ইক্বামতের সাথে উভয় সালাত (মাগরিব ও ইশা) আদায় করলেন এবং এ দু সালাতের মধ্যে রাতের খাবার খেয়ে নিলেন। অত:পর ফজর হতেই তিনি ফজরের সালাত আদায় করলেন। কেউ কেউ বলছিল যে, ফজরের সময় হয়ে গেছে, আবার কেউ বলছিল যে, এখনো ফজরের সময় আসেনি।এরপর ‘আবদুল্লাহ ইব্নু মাস‘ঊদ (রাঃ) বললেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, এ দু সালাত অর্থাৎ মাগরিব ও ইশা এ স্থানে তাদের নিজ সময় হতে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তাই ইশার ওয়াক্তের আগে কেউ যেন মুযদালিফায় না আসে। আর ফজরের সালাত এই মুহূর্তে। এরপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত সেখানে উকূফ করেন। এরপর বললেন, আমীরুল মুমিনীন যদি এখন রওয়ানা হন তাহলে তিনি সুন্নাত মুতাবিক কাজ করলেন। (রাবী বলেন) আমার জানা নেই, তাঁর কথা দ্রুত ছিল, না ‘উসমান (রাঃ) -এর রওয়ানা হওয়াটা। এরপর তিনি তালবিয়া পাঠ করতে থাকলেন, কুরবানীর দিন জামরায়ে ‘আকাবাতে কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবদুল্লাহ ইবন মাসউদ (রাঃ)-এর মাধ্যমে মুযদালিফার কয়েকটি আমল একসঙ্গে এসেছে। তিনি মাগরিব ও ইশা পৃথক আযান ও ইকামতের সঙ্গে আদায় করেন এবং দুই সালাতের মাঝে রাতের খাবার খান। এরপর ফজর উদিত হওয়ার পর ফজরের সালাত আদায় করেন। কেউ বলছিল ফজর হয়েছে, কেউ বলছিল হয়নি—এর মাঝেই তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বাণী উল্লেখ করেন যে, এই স্থানে মাগরিব-ইশা নিজ সময় থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ফজর এই মুহূর্তে। তারপর তিনি ফর্সা হওয়া পর্যন্ত উকুফ করেন। শেষে জামরায়ে আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তালবিয়া পাঠ করতে থাকেন। এখানে মুযদালিফা, সালাত, উকুফ, তালবিয়া ও সুন্নাহ অনুসরণের বিষয়গুলো স্পষ্ট।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুযদালিফায় মাগরিব ও ইশার সালাতের বিশেষ পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে।
- ফজরের পর উকুফ করা হজ্জের ধারাবাহিক আমলের অংশ হিসেবে এসেছে।
- সুন্নাহ অনুযায়ী রওয়ানার সময়কে সাহাবীগণ গুরুত্ব দিতেন।
- জামরায়ে আকাবায় কঙ্কর নিক্ষেপ পর্যন্ত তালবিয়া পাঠের বর্ণনা আছে।
