৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৬ - মসজিদে সালাতের অপেক্ষার ফজিলত
সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ﴿আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর কারণে: “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩)وَقَالَ عَطَاءٌ فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ الْقَمْلَةِ يُعِيدُ الْوُضُوءَ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় ওযু করতে হবে。وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلَاةِ أَعَادَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُعِدِ الْوُضُوءَ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَرَكَعَ وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ وَقَالَ طَاوُسٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ وَعَطَاءٌ وَأَهْلُ الْحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَالْحَسَنُ فِيمَنْ يَحْتَجِمُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ ওযু করবে না। হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় ওযু করতে হবে না। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যতীত অন্য কিছুতে ওযুর প্রয়োজন নেই। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধে ছিলেন।সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকু করলেন, সিজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে থাকলেন। হাসান (রহঃ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাউস (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী (রহঃ), ‘আত্বা (রহঃ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে ওযু করতে হয় না। ইবন ‘উমার (রাঃ) একদা একটি ছোট ফোঁড়া টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবন আবূ আওফা (রাঃ) রক্ত মিশ্রিত থুথু ফেললেন কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন। ইবন ‘উমার (রাঃ) ও হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।
মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকা: ফজিলত ও হাদাসের ব্যাখ্যা
সহীহ বুখারী : ১৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৬
حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ «لاَ يَزَالُ الْعَبْدُ فِي صَلاَةٍ مَا كَانَ فِي الْمَسْجِدِ يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ، مَا لَمْ يُحْدِثْ». فَقَالَ رَجُلٌ أَعْجَمِيٌّ مَا الْحَدَثُ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ قَالَ الصَّوْتُ. يَعْنِي الضَّرْطَةَ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ বান্দা যে সময়টা মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, তার সে পুরো সময়টাই সালাতের মধ্যে গণ্য হয় যতক্ষণ না সে হাদাস করে। জনৈক অনারব বলল, হে আবূ হুরায়রা! ‘হাদাস কি?’ তিনি বললেন, ‘শব্দ করে বায়ু বের হওয়া।’
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৬-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: সালাতের অপেক্ষা। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বান্দা যতক্ষণ মসজিদে সালাতের অপেক্ষায় থাকে, ততক্ষণ সে সালাতের মধ্যে গণ্য হয়, যতক্ষণ না সে হাদাস করে। একজন অনারব ব্যক্তি আবূ হুরায়রা (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করলেন, হাদাস কী? তিনি বললেন, শব্দ করে বায়ু বের হওয়া। হাদিসটি মসজিদে সালাতের জন্য অপেক্ষা করার মূল্য বোঝায়। শুধু দাঁড়িয়ে সালাত পড়াই নয়, সালাতের অপেক্ষায় থাকা সময়ও গুরুত্ব পায়। তবে শর্ত হলো পবিত্র অবস্থা বজায় থাকা। সালাতের অপেক্ষার হাদিস মুসলিমকে মসজিদে সময়কে ভালোভাবে কাজে লাগাতে উৎসাহ দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মসজিদে সালাতের অপেক্ষা করা মূল্যবান আমল হিসেবে এসেছে।
- হাদাস হলে সেই অবস্থা পরিবর্তিত হয়—এ কথা হাদিসে স্পষ্ট।
- ইবাদতের আগে পবিত্রতা বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
