৪/৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৭ - সন্দেহে সালাত না ভাঙার নিয়ম
সামনের এবং পেছনের রাস্তা দিয়ে কিছু নির্গত হওয়া ব্যতীত অন্য কারণে যিনি উযুর প্রয়োজন মনে করেন না।
وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِنْكُمْ مِنَ الْغَائِطِ﴿আল্লাহ তা‘আলার এ বাণীর কারণে: “অথবা তোমাদের কেউ শৌচাগার হতে আসে।” (সূরা আন-নিসা ৪/৪৩)وَقَالَ عَطَاءٌ فِيمَنْ يَخْرُجُ مِنْ دُبُرِهِ الدُّودُ أَوْ مِنْ ذَكَرِهِ نَحْوُ الْقَمْلَةِ يُعِيدُ الْوُضُوءَ‘আত্বা (রহঃ) বলেন, যার পেছনের রাস্তা দিয়ে পোকা বের হয় অথবা যার পুরুষাঙ্গ দিয়ে উকুনের ন্যায় কিছু বের হয়, তার পুনরায় ওযু করতে হবে。وَقَالَ جَابِرُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ إِذَا ضَحِكَ فِي الصَّلَاةِ أَعَادَ الصَّلَاةَ وَلَمْ يُعِدِ الْوُضُوءَ وَقَالَ الْحَسَنُ إِنْ أَخَذَ مِنْ شَعْرِهِ وَأَظْفَارِهِ أَوْ خَلَعَ خُفَّيْهِ فَلَا وُضُوءَ عَلَيْهِ وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ لَا وُضُوءَ إِلَّا مِنْ حَدَثٍ وَيُذْكَرُ عَنْ جَابِرٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كَانَ فِي غَزْوَةِ ذَاتِ الرِّقَاعِ فَرُمِيَ رَجُلٌ بِسَهْمٍ فَنَزَفَهُ الدَّمُ فَرَكَعَ وَسَجَدَ وَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ الْحَسَنُ مَا زَالَ الْمُسْلِمُونَ يُصَلُّونَ فِي جِرَاحَاتِهِمْ وَقَالَ طَاوُسٌ وَمُحَمَّدُ بْنُ عَلِيٍّ وَعَطَاءٌ وَأَهْلُ الْحِجَازِ لَيْسَ فِي الدَّمِ وُضُوءٌ وَعَصَرَ ابْنُ عُمَرَ بَثْرَةً فَخَرَجَ مِنْهَا الدَّمُ وَلَمْ يَتَوَضَّأْ وَبَزَقَ ابْنُ أَبِي أَوْفَى دَمًا فَمَضَى فِي صَلَاتِهِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَالْحَسَنُ فِيمَنْ يَحْتَجِمُ لَيْسَ عَلَيْهِ إِلَّا غَسْلُ مَحَاجِمِهِ.জাবির ইবন ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, কেউ সালাত অবস্থায় হেসে ফেললে পুনরায় শুধুমাত্র সালাতই আদায় করবে, পুনঃ ওযু করবে না। হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ যদি চুল অথবা নখ কাটে অথবা তার মোজা খুলে ফেলে তবে তার পুনরায় ওযু করতে হবে না। আবূ হুরাইরা (রাঃ) বলেন, ‘হাদাস’ ব্যতীত অন্য কিছুতে ওযুর প্রয়োজন নেই। জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত। নবী (ﷺ) ‘যাতুর রিকা’-এর যুদ্ধে ছিলেন।সেখানে জনৈক ব্যক্তি তীরবিদ্ধ হলেন এবং ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটল, কিন্তু তিনি (সে অবস্থায়ই) রুকু করলেন, সিজদা করলেন এবং সালাত আদায় করতে থাকলেন। হাসান (রহঃ) বলেন, মুসলিমগণ সব সময়ই তাদের যখম অবস্থায় সালাত আদায় করতেন এবং তাউস (রহঃ), মুহাম্মাদ ইবন ‘আলী (রহঃ), ‘আত্বা (রহঃ) ও হিজাযবাসীগণ বলেন, রক্তক্ষরণে ওযু করতে হয় না। ইবন ‘উমার (রাঃ) একদা একটি ছোট ফোঁড়া টিপ দিলেন, তা থেকে রক্ত বের হল, কিন্তু তিনি ওযু করলেন না। ইবন আবূ আওফা (রাঃ) রক্ত মিশ্রিত থুথু ফেললেন কিন্তু তিনি সালাত আদায় করতে থাকলেন। ইবন ‘উমার (রাঃ) ও হাসান (রহঃ) বলেন, কেউ শিঙ্গা লাগালে কেবল তার শিঙ্গা লাগানো স্থানই ধুয়ে ফেলা দরকার।
ওযু ভাঙার সন্দেহ হলে কী করবেন: শব্দ বা গন্ধের হাদিস
সহীহ বুখারী : ১৭৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৭৭
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عَبَّادِ بْنِ تَمِيمٍ، عَنْ عَمِّهِ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ «لاَ يَنْصَرِفْ حَتَّى يَسْمَعَ صَوْتًا أَوْ يَجِدَ رِيحًا».
'আব্বাদ ইবনু তামীম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর চাচার সূত্রে বর্ণনা করেন, নবী (ﷺ) বলেছেনঃ (কোন মুসল্লী) সালাত থেকে সরে থাকবে না যতক্ষণ না সে শব্দ শুনতে পায় কিংবা গন্ধ পায়।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৭৭-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ওযুর সন্দেহ। এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, কোনো মুসল্লি সালাত থেকে সরে যাবে না, যতক্ষণ না সে শব্দ শুনতে পায় অথবা গন্ধ পায়। অর্থাৎ শুধু সন্দেহের কারণে সালাত ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। হাদিসটি খুব বাস্তব একটি সমস্যা সমাধান করে। অনেক সময় মানুষের মনে হয় ওযু ভেঙে গেছে, কিন্তু নিশ্চিত কিছু পাওয়া যায় না। এখানে নিশ্চিত লক্ষণ হিসেবে শব্দ বা গন্ধের কথা এসেছে। ওযু ভাঙার সন্দেহ হলে কী করবেন—এই প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো, নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সালাত চালিয়ে যাওয়া। এতে ইবাদতে অকারণ অস্থিরতা কমে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শুধু সন্দেহের কারণে সালাত ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়।
- শব্দ বা গন্ধ পাওয়া নিশ্চিততার লক্ষণ হিসেবে এসেছে।
- ইবাদতে অযথা সংশয় থেকে দূরে থাকা দরকার।
